চট্টগ্রাম টেস্ট
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২৪ ২০:৪৮ পিএম
ওপেনিংয়ে দ্রুতই ফিরেছেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা— প্রবা ফটো
প্রায় দুদিনে দক্ষিণ আফ্রিকা আনল ছয়শ ছুঁইছুঁই রান। তিন প্রোটিয়া ব্যাটার হাঁকালেন সেঞ্চুরি, ফিফটি পেলেন আরও দুজন। সেই একই মাঠে শেষ বিকালে মুখ ধুবড়ে পড়েছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামের পিচের যেন দ্বিচারিতা! রান করাকে যখন ডালভাত বানিয়ে ব্যাটিং করছিল সফরকারীরা, তখন উইকেট পুরোটাই ব্যাটিং সহায়ক— ব্যাটে বল আসছে, রানও হচ্ছে দেদারছে। ১৪৪.২ ওভার খেলা মার্করামরা যেখানে সাকুল্যে ৬ উইকেট হারিয়েছে, ৯ ওভারে নাজমুল হোসেন শান্ত ব্রিগেড হারিয়েছে চারটি!
চট্টগ্রাম টেস্টের দুদিনে গল্প প্রায় একই! প্রথম দিনের পর জর্জি-মুল্ডারদের দ্বিতীয় দিনেও রাজত্ব। নির্বিষ বোলিংয়ে আরেকটি বল কুড়ানোর দিনে শান্তদের পাওয়ার আছে শুধুই তাইজুল ইসলামের ফাইফার। বাকি সব বোলারদের অসহায়ত্বে রান পাহাড়ে উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৫৭৫ রানে গিয়ে ইনিংস ছাড়ার পর বোলিংয়েও দিন নিজেদের করেছে মার্করামের দল। সপ্তম ওভারেই ৩২ রানে ৪ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে কাল বৃহস্পতিবার তাদের যেতে হবে আরও বহুদূর!
দিনের শেষ বেলায় খেলা থামার আগে ফিরেছেন তিনজন টপ অর্ডার ব্যাটার। সাথে দিন পার করতে আসা হাসান মাহমুদও দিনেই থেমেছেন। ওপেনিংয়ে ডাক মেরেছেন সাদমান ইসলাম। আরেক ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় এনেছেন দিনের সর্বোচ্চ ১০ রান। সিলেটে জাতীয় লিগে ম্যাচ খেলা জাকির হাসান চট্টগ্রামে এসেও ব্যর্থ, আনতে পেরেছেন মোটে দুটি রান। নাইটওয়াচম্যান হাসানের ব্যাটে এসেছে তিন রান। সাদমান ইসলাম, জাকির হাসান, মাহমুদুল হাসান জয়ের পর ফিরেন নাইট ওয়াচম্যান হাসান মাহমুদও। অধিনায়ক শান্ত ৪ ও মুমিনুল হক অপরাজিত আছেন ৬ রানে। ফলোঅন এড়ানোটাই এখন শান্তদের বড় চ্যালেঞ্জ। আলো স্বল্পতায় খেলা শেষ হওয়ার আগে ৪ উইকেটে ৩৮ রান তুলেছে স্বাগতিকরা। প্রোটিয়াদের চেয়ে এখনও পিছিয়ে ৫৩৭ রানে।
ক্যারিয়ারে মাত্র অষ্টম টেস্ট খেলতে নামা টনি ডি জর্জির যেখানে ডাবল সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপ করছেন, সেখানে বাংলাদেশের তিন টপ অর্ডার ব্যাটারকে তরুণের তকমা দিয়েছেন স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ। পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারের মতে, খেলার মাঝে থাকলে শিখে যাবে সাদমান-জাকিররাও, ‘ক্রিকেট মজার খেলা। এখানে বেসিক ঠিক করতে হবে। পরিস্থিতি ও কন্ডিশন বুঝে খেলে হবে। তরুণরা শিখছে। জাকের, সাদমানরা তরুণ। এসব জায়গায় আমাদের উন্নতি করতে হবে।’
প্রোটিয়াদের ইনিংসে আগের দিন সেঞ্চুরি করেছিলেন দুজন— ত্রিস্তান স্টাবস (১০৬) আউট হলেও আজ লম্বা সময় ব্যাট করেন জর্জি। তার ব্যাটে আসে ১৭৭ রান। দুপুরের দিকে ওয়াইন মুল্ডার (১০৫*) পায় আরেকটি শতকের দেখা। ইনিংসে ডেভিড বেডিংহাম (৫৯) ছাড়াও ফিফটি করেন সেচুরান মিথুসামি (৬৮)। দ্বিতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসা টনি ডি জর্জি বলেছেন, এখানে রান হবেই। জর্জির ভাষায়, ‘হয়ত মাঠটা ভালো, উইকেট ভালো। এমন উইকেটে সেট হলে রাজত্ব করতে পারবেন।’ চট্টগ্রামের ব্যাটিং পিচে মার্করাম-জর্জিরা রাজত্ব করেছেন, এবার শান্তদের পালা।