চট্টগ্রাম টেস্ট
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৪ ২০:০১ পিএম
চট্টগ্রামে এমন উদযাপনের উপলক্ষ্য খুব কমই পেয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা। কাল তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ— সংগৃহীত ছবি
পাঁচজন বোলার এনেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। দক্ষিণ আফ্রিকার টপ অর্ডার তাদের সবাইকেই খেলেছেন সাবলিলভাবে। উইকেটের এদিক-সেদিক মেরেছেন। সেই বলের পেছনে ছুটতেই দিন পার করেছেন টাইগাররা। বোলিংয়ে নিদেনপক্ষে সফল বলা যায় এমন কেউ নেই বাংলাদেশের। তাইজুল ইসলাম দুটি উইকেট তুললেও খরচ করেছেন একশর বেশি রান। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টাইগারদের নির্বিষ বোলিংয়ের দিনটা যতটা খেটেছেন শান্তরা ঠিক ততটাই স্বাচ্ছন্দ্যে পার করেছেন প্রোটিয়ারা। ২ উইকেট হারিয়ে জোড়া সেঞ্চুরিতে সফরকারীরা প্রথম দিন শেষ করেছে ৩০৭ রানে। দুটি উইকেটই তাইজুলের।
চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনে মঙ্গলবার খেলা হয়েছে ৮১ ওভার। বিকাল ৪টার পরপরই আলোর ঘাটতি দেখা যায় মাঠে। জ্বলে ওঠে ফ্লাডলাইট। অবশ্য বাংলাদেশের বোলাররা পুরো দিনেই পায়নি আলোর দেখা। সকালে টস হেরে ফিল্ডিংয়ে আসার পর প্রথম সেশন গেছে সবচেয়ে নাজুক। একবার সুযোগ এসেছিল অবশ্য। তবে হাসান মাহমুদের বলে ক্যাচের নাগাল পাননি অভিষেক হওয়া মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন।
পরে স্কোর বোর্ডে ৬৯ রান আসতে ভাঙে প্রোটিয়াদের ওপেনিং জুটি। মার্করামকে ৩৩ রানে ফিরিয়ে ত্রাতা হন তাইজুল। পরে নিজেদের ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান দুই প্রোটিয়া ব্যাটার টনি ডি জর্জ ও স্তিস্তান স্টাবস। শেষ বিকালে স্টাবসকে তাইজুল ফেরালেও প্রোটিয়াদের ছড়ি ঘোরানো থামেনি। শীতের আমেজ আসা বিকালে আলোই যা কাজে দিয়েছে। স্কোর বোর্ডে তিনশ রান নিয়ে রানপাহাড় গড়ার অপেক্ষায় দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্বিতীয় দিনে আজ বুধবার টাইগার বোলারদের আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং দিন।
শান্তদের বল কুড়ানোর দিনে প্রশ্নও উঠেছে টেস্টের পরিধি নিয়ে। পাঁচ দিনের টেস্ট কত দিনে থামবে— তা নিয়ে চিন্তিত নয় বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশায় থাকা কোচের ভাবনায় স্রেফ জয়, ‘এখন দলের ভাবনা হলো কাল সকালে এসে যত দ্রুত সম্ভব কিছু উইকেট নিতে হবে। তাদের দ্রুত অলআউট করতে হবে। পাকিস্তানে আমরা ভালো ফলাফল করেছি, প্রতিপক্ষ ৪০০-৫০০ রান করলেও আমরা ম্যাচ জিতেছি। জয়ের ভাবনা আছেই। দেখা যাক সকালে কী করতে পারি। সব সময় প্রথমে ম্যাচ জেতার কথা ভাবতে হবে, এরপর অন্য কিছু। তবে এটা ব্যাটিংয়ের জন্য দুর্দান্ত উইকেট। বোলাররা ভালোই করেছে। কিছু সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে, যা কাজে লাগালে ৪-৫ উইকেট পড়ে যেতে পারত।’
তিন পরিবর্তন নিয়ে নামা বাংলাদেশ দলে এনেছিলেন একজন বাড়তি বোলার। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। চট্টগ্রামের গরম আবহাওয়ায় ঘেমে-নেয়ে একাকার হওয়ার দিনে দুই হাত ভরে নিয়েছেন প্রোটিয়ারা। শুরুর দিকে জীবন পাওয়া জর্জি লাঞ্চের পর হয়ে ওঠেন ভয়ানক। চা পানের বিরতিতে যাওয়ার আগেই পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। অপর পাশে স্টাবসও কম যাননি। ১৯৮ বলে তিনিও পেয়ে যান প্রথম সেঞ্চুরি।
জর্জির সঙ্গে ২০২ রানের জুটিতে ১০৬ রানে থামেন স্টাবস। দিন শেষ হওয়ার আগে ১৪১ রানে অপরাজিত আছেন জর্জি। তাকে আজ সঙ্গ দেবেন ১৮ রান করা ডেবিড বেডিংহাম। ১১০ রান খরচ করে দুটি উইকেট নিয়েছেন তাইজুল। বাকিদের মাঝে হাসান-নাহিদ কিংবা মিরাজ-মুমিনুলের দিন কেটেছে বড্ড হতাশায়।