প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৪ ১৪:১১ পিএম
আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৪ ১৫:৪১ পিএম
পুরস্কার হাতে তাইজুল ইসলাম। ছবি: আ. ই. আলীম
নেতৃত্ব ছাড়তে চান নাজমুল হোসেন শান্ত। বাংলাদেশ অধিনায়কের এমন সিদ্ধান্তে ঘুরে-ফিরে আলোচনায় কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটার। যার অন্যতম তাইজুল ইসলাম। অধিনায়ক ইস্যুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এখন পর্যন্ত কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে তাইজুল জানালেন, দলের দায়িত্ব নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত তিনি। আজ সোমবার জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানালেন দেশের অন্যতম এই স্পিনার।
ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে সাধারণত অধিনায়ক বা প্রধান কোচ আসেন। আজ দেখা গেল ভিন্নতা। ফিল সিমন্স ও শান্তর বিপরীতে জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামের প্রেসমিটে হাজির হন তাইজুল। তার উপস্থিতিতে সাংবাদিকমহলে নানা প্রশ্নের উদয় হয়। প্রশ্ন উঠে, তবে কী তাইজুলই হচ্ছেন বাংলাদেশের নতুন অধিনায়ক। এ নিয়ে রাখডাক না রেখেই খোলামেলা উত্তর দেন তিনি, কিছু এড়িয়েও যান। বিশেষ করে শান্ত’র অধিনায়কত্ব ছাড়ার বিষয়টি তার অজানা, সেটা জানাতে ভুলেননি।
তাইজুল বলেন, 'এই বিষয়ে (শান্ত’র অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত) আমি এখনও শুনিনি, এটা আমার পার্টও না। এ বিষয়ে আমি সঠিক জানি না। ক্যাপ্টেন কে হবে এরকম টিম মিটিং কখনই হয়নি। আমি জানিই না এ বিষয়ে।’ তবে দায়িত্ব নেওয়ার ব্যাপারে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ‘যেহেতু ১০ বছর ক্রিকেট খেলেছি, তো পুরাটাই তৈরি।’।
নেতৃত্বের পর্যায়ে না গেলেও দলের সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে যথেষ্ট ভূমিকা থাকে তাইজুলের। সেটাই স্মরণ করালেন আরেকবার, 'আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, আমার কাছ থেকে আপনি কতটা নিচ্ছেন এটা গুরুত্বপূর্ণ। হোক টিমমেট বা দেশের জনগণ। মাঠে যখন বিভিন্ন পরিস্থিতি আসে, ফিল্ড পজিশন বা ব্যাটারকে সেটআপ এগুলো মাঝে মাঝে আমি বলে থাকি। ক্যাপ্টেনও জিজ্ঞেস করে। আমি চেষ্টা করি ভূমিকা রাখার।'
দলকে এগিয়ে নিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে চাইলেও তাইজুল জানালেন সিরিজের মাঝপথে এমন সিদ্ধান্ত দলের জন্যই অকল্যাণকর। ঢাকা টেস্টের আগে সাকিব আল হাসান ইস্যুতে স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভ করে তার পক্ষে-বিপক্ষের সমর্থকরা। যা বেশ সমালোচনা জন্ম দেয়। সাকিবকে দলে অর্ন্তভুক্ত করে দল ঘোষণা হলেও শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা ইস্যুতে দেশে ফিরেননি তিনি। বিষয়টি সফরকারী শিবিরেও আলোচনা হয়। প্রথম টেস্টের ফলও হয় যাচ্ছেতাই। দ্বিতীয় টেস্টের আগেও ভিন্ন ইস্যুতে দলে মন কষাকষির খবর। এ নিয়ে ৩২ বছর বয়সী স্পিনার বলেন, 'এটা টিম গেম। টিম কী করে ভালো থাকবে এটাই ইম্পরট্যান্ট। প্রভাব হয়ত কেউ কেউ নিতে পারে, কেউ কেউ নির্ভার থেকে নিজের কাজ করে যেতে পারে। আমি সবসময় নির্ভার থেকে নিজের কাজ করার চেষ্টা করি। দলে এসব যখন ঘটে জানি না কে কীভাবে নেয়, সবার মানসিকতা একরকম না। প্রশ্নটা গভীর, এটার উত্তর আসলে আমার কাছে নেই, এটাই সত্যি। ম্যানেজমেন্ট বা বোর্ডের মিটিংয়ে আমি বা খেলোয়াড়রা থাকে না। কোচ ক্যাপ্টেন কে হচ্ছে এটা আসলে আমাদের পার্ট না।'
অধিনায়ক-দলের অভ্যন্তরীণ অবস্থান ইস্যু নিয়ে কথার মাঝে প্রশ্ন তোলা হয় দ্বিতীয় টেস্টের একাদশ নিয়ে। একাদশ প্রসঙ্গে তাইজুল বলেন, ‘এখনো বলা হয় নাই কেমন একাদশ হবে। সকলকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। কাল ম্যাচ, কালই বলতে পারবো। টিমমেট হিসেবে আমি হয়ত অনেক কিছু বলতে পারি। কিন্তু এখানে কোচ থাকে, টিম ম্যানেজমেন্টের সে থাকে, আমি এখনও জানি না একাদশ কেমন হবে।’
প্রথম টেস্টে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশের এবার ঘুরে দাঁড়ানোর পালা। চট্টগ্রামে টাইগারদের একটাই লক্ষ্য—জয়। এর জন্য ব্যাটিং-বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন সেক্টরে ভালো করা চাই। তাইজুল জানালেন সে কথাই, ‘প্রত্যেকটা ম্যাচ আসা মানেই আরেকটা অপরচুনিটি। সেদিক থেকে মনে হয় অপরচুনিটি ব্যাটারদের সামনে আসছে। আসলে সত্যি বলতে কি, টিম পারফরম্যান্স হচ্ছে না, ইনডিভিজুয়ালি, একেকদিন একেকজন ভালো খেলছে। আমরা টিম হিসেবে যদি একটা দুইটা পার্টনারশিপ দিতে পারি। আমরা সকলে কঠোর পরিশ্রম করছি, চেষ্টা করছে, সাম হাউ হচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করছি ভালো করার। এই ম্যাচটি আমরা জেতার জন্যই খেলব। টিম হয়ে খেলার লক্ষ্য থাকবে ব্যাটিং বোলিং ফিল্ডিংয়ে।’