× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ফাইনালের পরই আসল উৎসব: ঋতুপর্ণা

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৪ ১৯:৫৬ পিএম

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৪ ১৯:৫৮ পিএম

বাংলাদেশকে প্রথম গোল উৎসব এনে দেন ঋতুপর্ণা চাকমা

বাংলাদেশকে প্রথম গোল উৎসব এনে দেন ঋতুপর্ণা চাকমা

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দুটি। তহুরা খাতুন এবার ছাড়িয়ে গেলেন সেটিকেও। রবিবার দক্ষিণ এশিয়ার ‘নারী বিশ্বকাপ’ খ্যাত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভুটানের বিপক্ষে পেয়েছেন হ্যাটট্রিকের দেখা। বাংলাদেশি ফরোয়ার্ডের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ৭-১ গোলে বড় জয় পেয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সাফে টানা ৮ ম্যাচ অপরাজিত থেকে তৃতীয়বারের মতো শিরোপার মঞ্চে নাম লিখিয়েছে দেশের মেয়েরা।

কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে দুর্দান্ত এ জয়ের অন্যতম কারিগর তহুরা। তার হাতেই উঠেছে ম্যাচসেরার পুরস্কার। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে প্রতিবেশী ভারতের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ে ২ গোল করে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন কলসিন্দুরের এই তরুণী। সেই পুরস্কারটি উৎসর্গ করেছিলেন নিজের ছোটবেলার বন্ধু অকালপ্রয়াত ফুটবলার সাবিনা খাতুনকে। সেমির পুরস্কার উৎসর্গ করলেন সাবেক দুই কোচÑ গোলাম রব্বানী ছোটন ও মফিজ উদ্দিনকে। কলসিন্দুর থেকে অচেনা তহুরাকে তুলে আনায় বড় ভূমিকা ছিল কোচ মফিজের।তাকে জাতীয় দলে আনার ক্ষেত্রে বড় অবদান কোচ ছোটনের (নারী দলের সাবেক কোচ)।

বাংলাদেশকে ফাইনালে তুলে তহুরা বলেন, ‘আমার এই ট্রফি (ম্যাচসেরার পুরস্কার) আমার সাবেক দুই কোচÑ ছোটন স্যার ও মফিজ স্যারকে উৎসর্গ করছি। যাদের কারণেই ছোট থেকে এ পর্যন্ত উঠে এসেছি। তাদের এই ট্রফি উৎসর্গ করতে পেরে ভালো লাগছে। একই সঙ্গে আজ সতীর্থরা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। তারা সেরা খেলাটাই খেলেছে। তাদের কারণেই তিনটা গোল করতে পেরেছি। ম্যাচসেরা হয়েছি।’

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের এবারের আসরে তহুরার গোলসংখ্যা পাঁচ। সবশেষ দুই ম্যাচে ম্যাচসেরা। দলও তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে। ২০১৬ সালে প্রথমবার শিরোপামঞ্চে ওঠা বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ করে ভারত। ২০১৯ সালে ফেরে সেমি থেকেই। ২০২২ সালে আরাধ্য সাধন। নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস লেখে লাল-সবুজের মেয়েরা। আরও একবার স্বপ্নের খুব কাছাকাছি তারা। প্রতিপক্ষও প্রায় নির্ধারিত। ভারত অথবা নেপালের কোনো একদল হবে তহুরাদের ফাইনালের প্রতিদ্বন্দ্বী।

সব মিলিয়ে উচ্ছ্বাসে তহুরা, ‘জয় এবং ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে আমার অনেক ভালো লাগছে। আমাদের প্রত্যেকটা প্লেয়ারের অনেক চেষ্টা ছিল। শেষ পর্যন্ত ফাইনালে উঠতে পেরেছি। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। টিমমেটদের ধন্যবাদ। সে সঙ্গে কোচিং স্টাফদেরও। তাদের জন্যই আমি পুরস্কার পেয়েছি।’

পরপর দুই ম্যাচে পেয়েছেন সাফল্য। নিজে এবং দলকে আরেক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা কি আগে থেকেই প্রস্তুত রেখেছিলেন তহুরা? ড্রেসিংরুমে ফেরার আগে সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে কিছুটা মুচকি হাসেন বাংলাদেশি ফরোয়ার্ড। তার উত্তর, ‘এ রকম তো আর কেউ ভেবে মাঠে নামে না। চেষ্টা ছিল প্রথম থেকেই। আমরা যেহেতু ওপরে খেলি, যদি সুযোগ পাই, মিস যাতে না হয়, ঠান্ডা মাথায় যেন ফিনিশ করতে পারি। সেই চেষ্টা ছিল।’

ভুটানকে রীতিমতো ধরাশায়ী করে বাংলাদেশ দল এখন ফাইনালে। আরেকটি শিরোপা জয়ের হাতছানি তহুরাদের সামনে। তাদের স্বপ্ন জয়ে সিঁড়ি হিসেবে অনেক উপাদানই কাজ করছে। পরিবার-শুভাকাঙ্ক্ষী, এমনকি বাফুফে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সাবিনা-ঋতু-তহুরাদের নিয়ে। তহুরাও মনে করেন, পরিবার এবং বাংলাদেশের সবার দোয়ায় এ পর্যন্ত উঠে এসেছেন তারা। একই সঙ্গে বাফুফে তাদের সুযোগ করে দেওয়ারও সুফল ভোগ করছে তার দল, বলে মনে করেন তহুরা। তিনি বলেন, ‘আমার মা-বাবা আর বাংলাদেশে যারা আছে উনাদের দোয়ায় এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে ধন্যবাদ। তাদের কারণেই আমরা এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি। তারা দীর্ঘদিন আমাদের ক্যাম্পে রেখেছে। বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটাই চাওয়া। আমরা ফাইনালে উঠেছি। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করব।

স্মরণীয় ম্যাচে দলকে প্রথম গোলটি এনে দেন ঋতুপর্ণা। ম্যাচ শেষে তিনি জানালেন, ‘বাংলাদেশ থেকে একটা লক্ষ্য নিয়ে এসেছিলাম, ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলে সেমিফাইনালে উঠব। সেমিফাইনাল শেষে ফাইনালে উঠব। ফাইনালে ওঠা খুব বড় ব্যাপার। আমরা খুবই আনন্দিত। তবে আমরা ফাইনালের পর উদ্‌যাপন করব, যদি ভালো রেজাল্ট হয়।’

সাবিনাদের ক্রমোন্নতিতে খুশি কোচ পিটার জেমস বাটলার। আরও ভালো খেলার তাগিদও দিলেন এই ইংলিশ কোচ, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ৯০ মিনিট কোনো খেলোয়াড়ের চোট ছাড়া শেষ করা, পেশাদারভাবে নিজেদের কাজটা করে যাওয়া। আমাদেরকে একটা ভালো ফুটবল দলের মতো দেখাচ্ছে, এই টুর্নামেন্টে আমাদের আসলেই আরও ভালো হতে হবে। কোনো চোট নেই, গোলও পাচ্ছি, আমি আজ উপভোগ করব। এরপর রিকভারি শেষে ফাইনাল নিয়ে ভাবব।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা