প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৪ ১৫:২০ পিএম
আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৪ ১৫:৩৭ পিএম
ব্যাট হাতে রান নেই। সবশেষ ৩২ ইনিংসে কেবল একটি ফিফটি নাজমুল হোসেন শান্তর। ভারত সিরিজে ভরাডুবির পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে হেরেছে বাংলাদেশ দল। এরপর থেকেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন টাইগার অধিনায়ক। তাই চলমান দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের পর অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন বাহাতি এই ব্যাটার। নিজের ব্যাটিংয়ে মনোযোগ বাড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
বিসিবির এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, বিসিবির বেশ কয়েকজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা শান্তকে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলেও সেটাতে রাজী হননি তিনি। এমনকি গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরই এই ফরম্যাটের নেতৃত্ব ছাড়তে চেয়েছিলেন তিনি। এবার সরে দাঁড়াচ্ছেন তিন ফরম্যাট থেকেই। তবে এখন পর্যন্ত শান্তর অধিনায়কত্ব ছাড়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বোর্ড।
বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ ওমরাহ পালন করে দেশে ফিরলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। শান্তর নেতৃত্ব ছাড়া প্রসঙ্গে বিসিবির এক কর্মকর্ত ক্রিকবাজকে বলেছেন, ‘সে আমাদের জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ শেষে সে আর দলকে নেতৃত্ব দিতে চায় না।’ আর এ নিয়ে শান্ত বলেন, ‘দেখা যাক কী হয়। কারণ আমি এখনও সভাপতির কাছ থেকে শোনার অপেক্ষায় আছি।’
শান্তর প্রতিভা নিয়ে বরাবরই আশাবাদী ছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে কখনোই সেই প্রতিভার ছাপ রেখে ধারবাহিক হতে পারেননি এই টপ অর্ডার ব্যাটার। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বেশ কিছু ভালো ইনিংস খেললেও ধারবাহিকতার সঙ্গে কখনো বন্ধুত্ব হয়নি বাংলাদেশ অধিনায়কের।
গত কয়েক মাস ধরে ব্যাট হাতে বেশ ভুগছেন শান্ত। তাই নিজের পারফরম্যান্সে উন্নতি করতে নিজের ওপর থেকে নেতৃত্বের চাপ সরাতে চান তিনি। এ কারণেই অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। যা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) জানিয়েছেন শান্ত।
এদিকে শান্তর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে গতকাল শুক্রবার গণমাাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির নারী বিভাগের প্রধান হাবিবুল বাশার সুমন। তার মতে, বাইরের চাপও শান্তর বাজে পারফরম্যান্সের জন্য দায়ী। তাই তাকে অন্তত একটা ফরম্যাটের নেতৃত্ব থেকে সরানোর পরামর্শ দিয়েছেন হাবিবুল।
তিনি বলেন, ‘শান্ত আমাদের সেরা ব্যাটসম্যান। কিন্তু ওর সেই ব্যাটিংটা আমরা দেখতে পারছি না। ওর কাছে দলের প্রত্যাশা অনেক বেশি থাকে। ও সেভাবেই তৈরি হয়েছে, সেভাবেই পারফরম্যান্স করে আসছিল। অধিনায়কত্ব ওর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে কি না… তিনটা ফরম্যাটে অধিনায়কত্ব করা আসলেই চ্যালেঞ্জিং। অধিনায়ক যেই থাকুক না কেন, তাকে যদি আমরা সব সময় চাপে রাখি, তাহলে তার কাজটা কঠিন হয়ে যায়। এখন এটা শান্তর সঙ্গে হয়েছে, পরবর্তীতে যে আসবে তার ক্ষেত্রেও হবে। এটাই মনে হয় আমাদের সংস্কৃতি যে, অধিনায়ক হলেই তাকে আমরা চাপে ফেলে দেই।’
একজন অধিনায়ককে বিচার করতে হলে, তাকে অন্তত দুই বছর সময় দেওয়া উচিত বলে মনে করেন হাবিবুল, ‘শান্তকে পরিবর্তন তো করাই যায়। কিন্তু পরিবর্তনের আগে ভাবতে হবে, পরে যে আসবে তার সঙ্গেও আমরা এমন করব কি না। তার সঙ্গেও যদি আমরা এমন করি, তাহলে তো দুই দিন পর ক্যাপ্টেন খুঁজে পাবেন না। কোনো দলের ক্ষতি করতে চাইলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই দলের অধিনায়কের পেছনে লাগা। ক্যাপ্টেন আনসেটলড হলে দলের সেটলড পারফরম্যান্স করা কঠিন। একজন অধিনায়ককে আমরা বিবেচনা করব দুই বছর পর।’
হাবিবুল আরও বলেন, ‘শান্তর অধিনায়কত্ব নিয়ে কারও দ্বিমত নেই। সে দারুণ অধিনায়ক। ব্যাটে রান আসছে না বলে এত কথা হচ্ছে আর দল পারফর্ম করছে না বলেই এত কথা হচ্ছে। এমন নয় যে, অন্যরা পারফর্ম করছে। অন্যরাও কিন্তু করছে না। এজন্যও শান্তর সমস্যা হচ্ছে। আমি ওকে ব্যাটিংয়ে স্বচ্ছন্দ দেখছি না। এটা একটু হলেও ওকে চাপে ফেলছে। তাকে বদলে আরেকজনকে এনে সেই চাপ সৃষ্টি করা হলে তখন কী হবে? শান্তকে সময় দেওয়া উচিত। তা না হলে কাজ করবে না।’
ব্যাটার শান্তকে ফিরে পাওয়ার একটা উপায়ও বাতলে দিয়েছেন হাবিবুল, ‘আমাদের হাতে খুব একটা অপশন আছে সেটা কিন্তু নয়। সিনিয়ররা সবাই কমবেশি চলে গেছে। বদল করতে চাইলে সমস্যা নেই। শান্তর জন্য তিনটা ফরম্যাট হয়তো কঠিন হতে পারে। কারণ এখন আমরা প্রচুর ক্রিকেট খেলি। তিনটা ফরম্যাট একজনের জন্য চাপ হয়ে যায়। তার পারফরম্যান্সে চাপ পড়তে পারে। সেই চাপ কমানোর জন্যে একটা ফরম্যাটে যদি অন্য কাউকে (অধিনায়কত্ব) দেওয়া যায়, সমস্যা তো দেখি না। তবে অন্য যেই অধিনায়ক হোক, তাকে সহযোগিতা করতে হবে।’