প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৪ ১৪:৩১ পিএম
ফ্রান্সেসকো কামারদার গোলের উল্লাস মাটি করে দেয় ভিএআর
চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বকনিষ্ঠ গোল করার রেকর্ড আনসু ফাতির দখলে। ২০১৯ সালে ইন্টার মিলানের বিরুদ্ধে ১৭ বছর ৪০ দিন বয়সে গোল করে সেই কীর্তি নিজের করে নিয়েছিলেন স্প্যানিশ এ ফরোয়ার্ড। ১৬ বছর ২২৬ দিনে আনসু ফাতির সেই রেকর্ড প্রায় ভেঙেই ফেলেছিলেন ফ্রান্সেসকো কামারদা। এসি মিলানের এ কিশোর ফুটবলার মঙ্গলবার রাতে ধরেই নিয়েছিলেন উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে তার গোলে রচিত হয়ে গেছে নয়া ইতিহাস। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাকর টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা বনে গেছেন তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্য বেচারা কামারদার! তার বাড়া ভাতে ছাই ঢেলে দিয়েছে ভিএআর। মানে ভিডিও রিপ্লেতে বাতিল হয়ে যায় তার গোল।
প্রতিপক্ষ ব্রুগার বিরুদ্ধে ৩-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে শেষ ভাগে তিজানি রেইন্ডার্সের উড়িয়ে মারা আড়াআড়ি শটে মাথা ছুঁয়ে জাল কাঁপিয়ে দেন কামারদা। গোল হয়েছে ভেবে ইতিহাস গড়ার উৎসব-উল্লাসে ফেটে পড়েন। ছুটে যান ভক্ত-অনুরাগীদের কাছে। কানের কাছে হাতটাকে কাপের রূপ দিয়ে মাতেন বাঁধভাঙা উদযাপনে। সমর্থকদের আরও জোরে গর্জন করতে ইঙ্গিত করেন কামারদা। সতীর্থরা তাকে মাথার ওপর তুলে দুলাতে থাকে। গ্যালারিতে বসে থাকা কামারদার মা ও বান্ধবীর চোখ ভিজে যায় আনন্দে। সেই দৃশ্য ধরা পড়ে টিভির পর্দায়।
সান সিরোতে কামারদার উল্লাস মাটি করে দেয় বেরসিক ভিএআর। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি সোজাসাপ্টা বলে দেয়, অফসাইডের কারণে গোল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন কামারদা। ব্যাপারটা এখানেই শেষ নয়। কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা হিসেবে জার্সি খুলে ফেলায় কামারদাকে হলুদ কার্ডের খড়গও হজম করতে হয়েছে তাকে।
লড়াই শেষে রাজ্যের হতাশায় ডুবে যান কামারদা। সেই সময়ে নিজের অনুভূতি নিয়ে তার ভাষ্য, ‘খুবই আবেগপ্রবণ ব্যাপার ছিল, আমার মনে হয়, জীবনের সবচেয়ে সুখের মুহূর্ত ছিল সেটি। কিন্তু ভিএআর ছলনা করল। আমি খুব হতাশ, তবে আজকালের ফুটবলে এমন তো হতেই পারে।’
ফাতির রেকর্ড নিজের করে নিতে না পারলেও কামারদা অবশ্য অন্য আরেকটি রেকর্ড ঠিকই ভেঙে দিয়েছেন। ম্যাচের ৭৫ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামা কামারদাই এখন চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বোচ্চ কনিষ্ঠ ইতালিয়ান ফুটবলার। বড় রেকর্ডটা খোয়ানোর কষ্ট ভুলে তুলনামূলক ছোট্ট এই রেকর্ডে সান্ত্বনা খুঁজছেন কামারদা, ‘সত্যি বলছি, এই রেকর্ডটাও খুব গর্বের। আশা করছি, এমন রাত আরও আসবে। অবশ্যই এটি আমার জীবনের সেরা রাত।’
মিলানের জয়ের নায়ক অবশ্য রেইন্ডার্স। কামারদার ম্যাচে এ ডাচ মিডফিল্ডার উপহার দিয়েছেন ডাবল গোল। লড়াইয়ে ৩৪ মিনিটে মার্কিন তারকা ক্রিস্টিয়ান পুলিসিকের অলিম্পিক গোলে এগিয়ে যায় এসি মিলান। ৫১ মিনিটে কিরিয়ানি সাবের গোলে স্কোর লেভেল করে ব্রুগা। পরে ৬১ ও ৭১ মিনিটে জোড়া গোল করে বেলজিয়ান ক্লাবটির পয়েন্ট কেড়ে নেওয়ার স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দেন রেইন্ডার্স। তাতে তৃতীয় ম্যাচে এসে তার দল পায় প্রথম জয়।