মিরপুর টেস্ট
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৪ ২১:২০ পিএম
টেস্টে ২০০ উইকেট শিকারের পাশাপাশি ১৩তম ফাইফারের দেখা পেয়েছেন তাইজুল ইসলাম। ছবি: আ. ই. আলীম
চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করা কঠিন হবে, টসভাগ্য পক্ষে আসতেই তাই ব্যাটিং
নিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করাটা কঠিন হবে
এতটা কি ভাবতে পেরেছিলেন টাইগার অধিনায়ক? ব্যাট হাতে দুঃস্বপ্নের দিন কাটিয়েছেন টাইগাররা।
শান্তদের আসা-যাওয়ার দিনটা যদিও ততটা মলিন হতে দেয়নি তাইজুল ইসলাম। ফাইফারের কীর্তি
গড়েছেন এই টাইগার স্পিনার। তারপরও দিনশেষে আক্ষেপের গল্পই বলেছেন তাইজুল।
মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনই ঘূর্ণিবিষে ব্যাটারদের জন্য দুঃস্বপ্নে
রূপ নিয়েছে শের-ই বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পিচ। স্পিনাররা পেয়েছেন বাড়তি টার্ন আর
এক্সট্রা বাউন্স। গোখরো উইকেটে এক দিনেই পড়েছে ১৬ উইকেট। যার দশটিই স্পিনারদের দখলে।
তাইজুলও তার অভিজ্ঞতার পুরোটা কাজে লাগিয়েছেন। প্রোটিয়াদের ভুগিয়ে পেয়েছেন মাইলফলকের
দেখা।
হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়া বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১০৬ রানে। জবাবে ১৪০ রানে
৬ উইকেট হারিয়ে দিন শেষ করে সফরকারীরা। তাইজুল নেন ৫ উইকেট। সাকিব আল হাসানের পর বাংলাদেশের
দ্বিতীয় বোলার হিসেবে পান ২০০ উইকেটের দেখা। যা পেতে সাকিবের থেকেও ছয় টেস্ট কম লেগেছে
এই বাঁহাতি স্পিনারের। কিন্তু পুরো দশ বছরের ক্যারিয়ারে এই সাকিবের ছায়া হয়েই ছিলেন
তাইজুল।
প্রথম দিনের সংবাদ সম্মেলনেও অনেকটা জুড়ে ছিল সাকিব ইস্যু। তাইজুলের
কাছে জানতে চাওয়া হয়, সাকিব না থাকাটাকে সামলে কীভাবে পারফর্ম করেন? এমন প্রশ্নে কিছুটা
যেন অসন্তুষ্টি ফুটে উঠল তাইজুলের কণ্ঠে, ‘প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে সাকিব ভাই নাই, তাই তো!,
সাকিব ভাই ছাড়া যে আমি খেলি নাই তা তো না। আমরা নিউজিল্যান্ডে টেস্ট জিতেছি, সাকিব
ভাই ছিল না, আমরা যখন নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে এখানে ম্যাচ জিতেছি তখনও সাকিব ভাই ছিল
না। এ-রকম অনেক উদাহরণ আছে। আসলে আপনি তো একটা খেলোয়াড়কে ৫০ বছর খেলাতে পারবেন না।’
হ্যাটট্রিক দিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ার শুরু করা তাইজুল এখন শুধু যেন লাল
বলের ক্রিকেটে বিবেচিত। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও অনেকদিন ব্রাত্য। তাইজুলের দিকে প্রশ্ন
যায়, কতটা বঞ্চিত ভাবেন নিজেকে? হাসতে হাসতেই তাইজুল বলেন, ‘বঞ্চিত বলতে... আপনার প্রশ্ন
কেমন যেন হয়ে গেল! বঞ্চিত হওয়ার কিছু নেই। বিশ্বের অনেক বড় বড় খেলোয়াড় আছেন, উদাহরণ
অনেক আছে। মুরালির (মুরালিধরন) সময়ে হেরাথ (রঙ্গনা) খেলতে পারেননি। যখন হেরাথ খেলার
সুযোগ পেয়েছেন, তিনি অনেক উইকেট পেয়েছেন। আমারও ইনশাল্লাহ দেখি ভালো কিছু হয় নাকি।’
ব্যাটিংয়ে বাজে দিনের শেষে বোলিংয়েও যখন চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল বাংলাদেশ,
তখন ত্রাতা হয়ে আসেন তাইজুল। হাসান মাহমুদ প্রোটিয়াদের প্রথম উইকেট তোলার পর টাইগার
স্পিনার নেন পরের পাঁচ উইকেট। এমন দিনেও মিরপুর টেস্টে না থাকা সাকিবকে নিয়ে বলতে হয়েছে
তাইজুলকে। সাকিব থাকা, না থাকা প্রসঙ্গে কিছুটা বিরক্তই ঝরল তার কণ্ঠে। তাইজুল বলেন,
‘আসলে সাকিব ভাই থাকলেও আমি সাকিব ভাইয়ের কারণে উইকেট পেয়েছি, সাকিব ভাই না থাকলেও
তার কারণে উইকেট পেয়েছি। বিষয়টা হয়ে গেছে এমন।’
‘আন্ডাররেটেড’ শব্দটা ভীষণভাবে মানায় তাইজুলের সঙ্গে। তারকা বললে
চোখ কুঁচকাবে। বাদ পড়লে অত হাইপ হবে না। কেউ মিছিল-মিটিং করবে না। নীরবে আসবেন, খেলে
যাবেন, দলের হয়ে অবদান রাখবেন, খারাপ খেললে বা কন্ডিশন উপযোগী না হলে আসলে বাদ পড়বেনÑ
তাইজুলের সঙ্গে এমনটিই ঘটে। ওসব নিয়ে অতসব ভাবেন না এই বাঁহাতি স্পিনার। ৪৮ টেস্টের
ক্যারিয়ারে ভাবতেও চান না। অনেকটা নীরবে এটাকেই নিয়তি বলেই মেনে নিয়েছেন তাইজুল, ‘আসলে
আমাদের দেশে সত্যি কথা বলতে কি, অনেক কিছুই মুখে মুখে হয় আর কি। মুখে মুখে বিষয়টা হলো,
অনেকে আছে খারাপ করেও অনেক সময় আছে ট্রল হতে হতে তারকা হয়ে গেছেন। আবার অনেক ভালো করেও
তারকা হতে পারেননি। এ-রকম অনেক হয়েছে। আমি এটা মেনে নিয়েছি। মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো উপায়
নেই।’
এসব মেনে নিয়েই দলকে টানছেন তাইজুল, সুযোগ পেলে রাখছেন বড় অবদান।
হিসাবনিকাশ কিংবা কে আছে কে নেই ওসব ভাবতে চান না । আক্ষেপ থাকলেও সুযোগ কাজে লাগাতে
চান। সাকিবের ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে ভালো কিছুর অপেক্ষায় আছেন তাইজুল।