প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৪ ২০:৫৬ পিএম
আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৪ ২০:৫৭ পিএম
মিরপুরের এই মাঠেই ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল রাবাদার। ছবি: আ. ই. আলীম
মিরপুরের উইকেট বরাবরই স্পিনারদের স্বর্গ। প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের
একাদশে আভাস ছিল তেমনই। কিন্তু প্রথম দিনের খেলা শেষে মিরপুরের উইকেটকে শুধু স্পিন
স্বর্গ বলা যাবে না। ১৬ উইকেটের পতনের দিনে স্পিনারদের পাশাপাশি দাপট দেখিয়েছেন পেসাররাও।
মিরপুরের উইকেটের এমন আচরণে যারপরনাই অবাক হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকান ফাস্ট বোলার কাগিসো
রাবাদা। ডানহাতি এই পেসার জানান, এরকম আচরণ প্রত্যাশা করেননি তারা।
সোমবার (২১ অক্টোবর) শেরেবাংলায় টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং তোপে মাত্র ১০৬ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। রাবাদার
পাশাপাশি উইয়ান মুল্ডার ও কেশভ মহারাজ ৩টি করে উইকেট শিকার করেন। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা
ব্যাট করতে নেমেও দিন শেষে ১৪০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে। টাইগার স্পিনার তাইজুল
ইসলামের ৫ উইকেটের সঙ্গে অন্য উইকেটটি বাংলাদেশের একাদশে একমাত্র পেসার হাসান মাহমুদের।
প্রথম দিনের খেলা শেষে সফরকারী দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে
হাজির হন ২৯ বছর বয়সি রাবাদা। উইকেটের আচরণে অবাক হওয়ার কথা জানিয়ে এই প্রোটিয়া পেসার
বলেন, ‘উইকেটের আচরণ দেখে আমরা খুবই অবাক হয়েছি। আমরা ভেবেছি বল টার্ন করবে, সিম মুভমেন্ট
থাকবে না। কিন্তু নতুন বলে যথেষ্ট মুভমেন্ট ছিল। খুব বেশি সুইং নয়, তবে সিম মুভমেন্ট।’
গত কয়েক দিন মিরপুর স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠের নেটেও নাকি এমন উইকেটে অনুশীলন করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে কাজটা কিছুটা সহজ হয়ে গেছে, এমনটাই মনে করছেন রাবাদা, ‘নেটেও আমরা একই ধরনের উইকেট পেয়েছি। এই উইকেটে স্পিনাররা যেমন টার্ন পাচ্ছে, তেমনি সিমাররাও মুভমেন্ট পাচ্ছে। আমরা যা দেখে বেশ অবাকই হয়েছি। তবে আমরা তো আর পিচ বানাই না। এমন পিচই তৈরি করা হয়েছে এবং এরকমই ছিল পিচ।’
যোগ করেন, ‘আমার কাছে মনে হয় টেস্ট
ক্রিকেটে ভারসাম্য বজায় রাখাটা বেশ জরুরি। আপনি চাইবেন ব্যাট এবং বলের মাঝে লড়াইটা
ঠিকঠাকভাবে চলুক। সেরকমই উইকেটই পেতে চাইবেন আপনি। এখানে হয়তো আপনারা বলতে পারেন, বোলিং
ইউনিট ভালো বল করেনি বা ব্যাটিং ইউনিট ভালো ব্যাট করেনি এবং এখানে এই ভারসাম্যটাই আনতে
চাইবেন আপনি। তবে এক দিনে ১৬ উইকেট পড়ে যাওয়া, আমার কাছে মনে হয় এটা বোলারদেরই বেশি
সাহায্য করছে। টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাট এবং বলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা দরকার।’
এই ম্যাচেই বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমের স্টাম্প উড়িয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ষষ্ঠ বোলার হিসেবে ৩০০ টেস্ট উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন রাবাদা। সংবাদ সম্মেলনে নিজের মাইলফলক স্পর্শ করা নিয়ে বলেন, ‘শুরুতে আমি উইকেটের চিন্তা করছিলাম না। কীভাবে আমি টেস্টটা জেতাতে পারি, সেদিকে আমার সব মনোযোগ ছিল। এরপর যা হলো তা স্বস্তির বলতেই হয়। এরকম মাইলফলকের জন্যই খেলে সবাই। খুবই ভালো লেগেছে। বিশেষ একটা মুহূর্ত এটি।’
৩০০ টেস্ট উইকেট নেওয়ার কীর্তির পাশাপাশি একটা বিশ্বরেকর্ডও গড়েছেন রাবাদা। পাকিস্তান
কিংবদন্তি ওয়াকার ইউনুসকে ছাড়িয়ে তিনিই এখন টেস্টে বলের হিসাবে দ্রুততম ৩০০ উইকেটশিকারি
বোলার। এ নিয়ে রাবাদার ভাষ্য, ‘আমি এই রেকর্ডের ব্যাপারে জানতাম না। তবে হ্যাঁ, এখন
মনে হচ্ছে এই রেকর্ডটা আমাকে আরও ভালো করতে অনুপ্রাণিত করবে।’
মিরপুরের এই মাঠেই ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল
রাবাদার। ওয়ানডে অভিষেকে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে রাবাদা হ্যাটট্রিক করেছিলেন এই
মিরপুরের মাঠেই। এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ঢাকায় আমার ভালো কিছু স্মৃতি রয়েছে। আমার মনে হয়
এই মাঠ পেসারদের সাহায্য করে থাকে, তাই না (হাসি)!’