নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশীপ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৪ ১৩:২৭ পিএম
সাফ নারী ফুটবল চ্যম্পিয়নশীপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। সর্বশেষ
২০২২ সালে শিরোপা জয়ের পথে গ্রুপপর্বে পাকিস্তানকে ৬-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এবারে
গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচেই পাকিস্তানকে পাচ্ছে সাবিনা খাতুনরা। আর ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের
প্রথম ম্যাচ জিতলেই সেমিফাইনালে পৌছে যাবে বাংলাদেশের মেয়েরা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে
শক্তিশালি ভারতের কাছে ৫-২ ব্যবধানে হেরেছে পকিস্তান। আর তাই তিন দলের এই গ্রুপে প্রথম
ম্যাচ জিতলেই সেমির টিকেট নিশ্চিত হয়ে যাবে সাবিনাদের। আজ রোববার নেপালের কাঠমাণ্ডুর
দশরথ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকাল পৌনে ৬টায় পাকিস্তানের সঙ্গে লড়াইয়ে নামবে লাল
– সবুজের প্রতিনিধিরা।
আগের আসরকে বিবেচনায় নিলে পাকিস্তানকে সহজ প্রতিপক্ষ মনে হতেই পারে।
কিন্তু গত দু বছরের পাল্টে গেছে অনেক কিছুই। বাংলাদেশ দলে এসেছে বড় পরিবর্তন। আগের
আসরের চ্যম্পিয়ন দলের প্রায় অর্ধেক সদস্যই এবার নাই। রক্ষনভাগের অতন্দ্র প্রহরীখ্যাত ডিফেন্ডার আখিঁ খাতুন
, গোল মেশিন সিরাত জাহান স্বপ্নারা চলে গেছেন অবসরে। বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সাফল্যের
রুপকার কোচ গো্লাম রব্বানী ছোটন অব্যাহতি নিয়েছেন
দায়িত্ব থেকে। দক্ষিন এশিয়া অঞ্চলের প্রতিদ্বন্দী দলগুলোও আগের থেকে পরিণত হয়েছে আরো।
আর তাই শিরোপপ ধরে রাখা যে সহজ হবেনা, সেটা অনুধাবন করছেন অধিনায়ক সাবিনাও। পাকিস্তানের
বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে লোলিতপুরের সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলের মাঠে গতকাল শনিবার
দুপুরে অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ। পরে নিজেদের প্রথম ম্যাচ তথা এবারের আসর নিয়ে বাফুফের পাঠানো ভিডিও বার্তায় কথা বলেন বাংলাদেশ
অধিনায়ক সাবিনা।
গত আসরে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করেছিলেন অধিনায়ক সাবিনা। এবার অবশ্য পাকিস্তানকে শক্ত প্রতিপক্ষ হিসাবেই দেখছেন লাল – সবুজ অধিনায়ক। তার ভাষায় ‘ভারত এবং পাকিস্তানের সবশেষ ম্যাচ যদি দেখে থাকেন, তাহলে গতবার ওরা যেমন ছিল, এবার কিন্তু তারা অনেক ভালো দল। ভারতের সঙ্গে তারা সমান তালে লড়াই করেছে। আমি মনে করি, গতবারের চেয়ে এবারের পাকিস্তানের দলের বিস্তর ফারাক আছে। আর তাই ম্যাচটা আমাদের জন্য সহজ হবে না। আর আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে প্রথম ম্যাচ জিতলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হবে। তাই আমরা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামব। যোগ করেন, ‘আমি বিশ্বাস করি পাকিস্তান কঠিন লড়াই করবে। প্রতিটি দল আরও ভালো হলে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়লেই খেলোয়াড়দের উন্নতি হয়। এই জায়গা থেকে আমারও মনে হয়, আমরা একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ খেলতে যাচ্ছি।”
শিরোপা ধরে রাখার মিশনে সাবিনা পাশে পাচ্ছেন না গত আসরে ৪ গোল করা
স্বপ্না , ডিফেন্ডার আঁখি খাতুনের মত প্রমানীত সতীর্থদের। তারপরও এই শুন্যস্থান খুব
বড় প্রভাব ফেলবে না বলেই মনে করছেন সাবিনা। তার কথায়, ‘প্রভাব আসলে পড়বে না। যদিও বাংলাদেশ
দলের জন্য স্বপ্না ও আঁখি এদের অবদান অনেক। তবে এখন যেহেতু তারা নেই, নতুন খেলোয়াড়
আছে, আসলে তাদের জন্য এটা একটা সুযোগ। সবকিছু মিলিয়ে মাঠে আমরা ওদেরকে খুবই মিস করব, কিন্তু আমার মনে হয় না, ওদের অনুপস্থিতির
প্রভাব মাঠে খুব একটা পড়বে।’
পিাকিস্তানের জন্য আজকের ম্যাচটি বাঁচা -মরার। হারলেই টুর্নামেন্ট
থেকে বিদায়। এ অবস্থায় তারা যে মরীয়া তাকবে তা বলাই বাহুল্য। পাকিস্তান কোচ আদেল রিজকিও
দিয়েছেন সেই বার্তা। বাস্তবতা হিসাবের মধ্যেই রাখছেন সাবিনা।বলেছেন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য থাকবে শুরুতেই গোল বের করা।
প্রথমে সেমিফাইনা্ল নিশ্টিচত করা এরপর ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়া। যোগ করেন, আমাদের লক্ষ্য
বড় ব্যবধানে জেতা। আর তাই সুযোগগুলো আমাদের
হাতছাড়া করা চলবে না।’
পাকিস্তানকে কঠিন প্রতিপক্ষ মানলেও আত্মবিশ্বাসের কমতি নাই বাংলাদেশ
শিবিরে। অ্যাটাকার ঋতুপর্ণা চাকমা বলেছেন ‘অ্যাডভান্টেজ বলতে আমরা গতবারের চ্যাম্পিয়ন
ছিলাম। আমরা সেই ধারাবাহিকতা রেখে ভালো খেলার চেষ্টা করব। পাকিস্তান দলটির ফরোয়ার্ড
লাইনে বেশ কয়েকজন দারুণ খেলোয়াড় আছে, যাদের গতি দুর্দান্ত। তবে তাদের গতি নিয়ে চিন্তিত
নই, আমরাও কম না।’
সাবিনাদের কোচ পিটার জেমস বাটলার বড় করে দেখছেন জয়টাকেই। বলেছেন, ‘আমাদের দিকথেকে জয়টা গুরুত্বপূর্ণ।
৫-০ গোলে জিতলাম, নাকি কত ব্যবধানে জিতলাম, এটার আসলে কোনো মানে নেই। আমাদের প্রতিপক্ষকে
সম্মান করতে হবে। নিজেদের সেরাটা বের করে আনার জন্য প্রতিপক্ষকে সমীহ করতে হবে ‘
এদিকে শিরোপা ধরে রাখার চাপটা শুরুতেই নিতে চাইছেন না সাবিনা। বলেন, ‘ আমরা শিরোপা ধরে রাখতে পারব কিনা , এটা আসলে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। নেপাল এবং ভুটানের ম্যাচ যদি দেখেন, ম্যাচটি ড্র হয়েছে। আমার মনে হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় যে কয়টা দল আছে, সহজভাবে এবার কেউ ট্রফিটা জিততে পারবে না।