বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৪ ১৩:২১ পিএম
দুবার কোচ হতে আবেদন করেছিলেন,
ডাক পাননি। চন্ডিকা হাথুরুসিংহের বিদায়ে ফিল সিমন্সের সুযোগ এসেছে বাংলাদেশের ডাগআউট
সামলানোর। পাঁচ মাসের দায়িত্বে নাজমুল হোসেন শান্তদের নিয়ে বড় স্বপ্নও দেখছেন ওয়েস্ট
ইন্ডিজের এই কোচ। টাইগার শিবিরে কোচিং ক্যারিয়ারের অভিষেক সিরিজে ধামাকাও দিতে চান।
শুধু দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেই নয়, টাইগারদের নতুন কোচের চোখ আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের
ফাইনালেও। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের চ্যালেঞ্জ নিয়েই প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট শুরু
করবেন ৬১ বছর বয়সি কোচ।
আগামীকাল সোমবার মিরপুর শেরে
বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট। সিরিজ শুরুর
আগে গতকাল শনিবার বাংলাদেশের কোচ হিসেবে প্রথমবারের মতো সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন ফিল
সিমন্স। দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলনে নিজের কোচিং দর্শন, দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা,
বাংলাদেশের তারুণ্যনির্ভর টেস্ট দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ
নিয়ে কথা বলেন সিমন্স। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে হারের বৃত্তও ভাঙতে চান।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টে
এখনও জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। ১৪ বারের মুখোমুখি দেখায় ১২টিতে হারের বিপরীতে ড্র
করেছিল কেবল দুটিতে। অতীত পরিসংখ্যান খুব একটা সুখকর না হলেও এবার সিরিজ জয়ের মোক্ষম
সুযোগ দেখছেন সিমন্স। ঘরের মাঠে বাংলাদেশকে খুব শক্তিশালী দল আখ্যায়িত করে সিমন্স বলেন,
‘এটা অবশ্যই ভালো সুযোগ। ঘরে বাংলাদেশ খুব শক্তিশালী। তাই সিরিজ জয়ের মোক্ষম সুযোগ।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকা শক্তিশালী দল।’
দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ নিয়ে
ক্রিকেটাররা বেশ উজ্জীবিত বলেও জানান টাইগার কোচ, ‘দল মোটিভেটেড। এখানে আসার আগে থেকেই
তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে। সিরিজে ভালো করতে খুবই ক্ষুধার্ত। ভারতে ভালো না হলেও পাকিস্তান
সিরিজের সাফল্য তারা এখানেও পেতে চায়। তাদের খুবই উজ্জীবিত দেখেছি।’ সিরিজ জয়ে চোখ
হলেও আপাতত ঢাকা টেস্টেই পূর্ণ মনোযোগ সিমন্সের, ‘লক্ষ্য হওয়া উচিৎ শুধু ম্যাচ জেতা,
আমি এভাবেই কাজ করি। আমাদের প্রথম টেস্ট জিততে হবে এরপর দ্বিতীয় টেস্ট নিয়ে ভাবতে হবে।
সেজন্য পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নিতে হবে।’ একই সঙ্গে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের স্বপ্নও
দেখান, ‘আমরা সামনের কয়েকটা টেস্ট জিততে পারলে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে
জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা জাগবে।’
মিরপুরে প্রথম টেস্ট খেলেই
সাদা পোশাকের ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে চেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু নিরাপত্তার
বিঘ্ন ঘটতে পারে এমন শঙ্কায় তাকে দেশে ফিরতে বারণ করেছে সরকার। সিমন্স জানালেন, দল
ও মাঠের বাইরের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে মোটেও মাথা ঘামাচ্ছেন না তারা। বরং নিজেদের প্রস্তুতি
ষোলোআনা সম্পন্ন করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোই একমাত্র লক্ষ্য, ‘বাইরে কী হচ্ছে তা
নিয়ে মাথা না ঘামানো এবং ক্রিকেটে মনোযোগ রাখা আমাদের দায়িত্ব। আমি সেটাই নিয়ন্ত্রণ
করি, যা আমার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তা হলো প্রস্তুতি। সোমবারের জন্য দলটাকে তৈরি করতে
চাই। আমার গত দুই দিনের অভিজ্ঞতা দারুণ। আমরা ক্রিকেটের আশপাশে যেসব দোটানা আছে, তা
সরিয়ে সোমবারে মনোযোগ দিতে চাই।’
দীর্ঘ দুই যুগের কোচিং ক্যারিয়ারের
অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে কাজে লাগাতে চান ২০১৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
জেতানো এই কোচ, ‘সব অভিজ্ঞতাই আমাকে ছেলেদের সোমবারের জন্য তৈরি করতে সাহায্য করবে।’
বাংলাদেশের তারুণ্যনির্ভর টেস্ট দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সিমন্সের নজর কেড়েছে,
‘আমি আগ্রহী হয়েছি তরুণ খেলোয়াড়ের সামর্থ্য দেখে। ওরা পাকিস্তানে নিজেদের দারুণভাবে
প্রমাণ করেছে। ভারতে টি-টোয়েন্টিতে ওরা ভালো খেলেনি। কিন্তু ভারত ওই সংস্করণে সেরা
দল। আপনার সেখান থেকে শেখার ছিল অনেক কিছু। প্রথমত, আমি তরুণদের গড়ে তুলতে চাই। পাশাপাশি
এখানে টেস্ট ও ওয়ানডে সংস্করণে কাজ করার সুযোগও আছে। সব মিলিয়ে আমার এখানে কাজ করার
সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন ছিল না।’
তবে বাংলাদেশ দলের প্রধান
কোচের দায়িত্ব পালন করা যে সহজ নয়, সেটা ভালোভাবেই জানেন সিমন্স। অনিশ্চিতায় ঠাসা এ
দায়িত্বকে উপভোগ্যই মানছেন ক্যারিবিয়ান তারকা। নিজের কোচিং দর্শন নিয়ে সিমন্সের ভাষ্য,
‘কঠোর পরিশ্রম করলে ফল আসবে। গত দুই দিনে ছেলেদের মধ্যে সেটা দেখেছি। এই ছেলেরা কঠোর
পরিশ্রম করছে, দক্ষতা ও ফিটনেস নিয়ে।’