প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৪ ১৩:৩৯ পিএম
আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৪ ১৭:৪৫ পিএম
জয়ের উল্লাস পাকিস্তান শিবিরে। ঘরের মাঠে তিন বছর পর টেস্ট জয় দেখলেন শান মাসুদরা।
মুলতানে
সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ১-১ সমতায় ফিরল পাকিস্তান। এ জয়ে সাড়ে তিন
বছরের অপেক্ষা ও ১১ টেস্ট পর ঘরের মাঠে জয়খরা ঘোচালে শান মাসুদ বিগ্রেড। একই সঙ্গে
বিস্ময় উপহার দিলেন সাজিদ খান ও নোমান আলী! দুই ইনিংস ইংল্যান্ডের সব উইকেট নিয়েছেন
এই দুই স্পিনার। সাজিদ নিয়েছেন ৯টি, নোমান ১১টি। একবিংশ শতাব্দীতে এক টেস্টে ২০ উইকেট
নেওয়ার প্রথম কীর্তি গড়লেন দুজন।
আজ শুক্রবার মুলতানে চতুর্থ ইনিংসে ২৬১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামে ইংল্যান্ড। সফরকারীদের হাতে ৮ উইকেট অবশিষ্ট থাকা সত্ত্বেও নোমান আলি ও সাজিদ খানের ঘূর্ণিবিষে নীল হয়েছেন বেন স্টোকসরা। গতকাল শেষ বিকালে ৩৬ রান তোলা ইংল্যান্ড আজ স্কোরবোর্ডে যোগ করতে পেরেছে ১০৮ রান। বহুলপ্রত্যাশার এ জয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮টিসহ ১১ উইকেটই নোমানের। আর সাজিদ খানের দখলে ৯টি উইকেট। উইকেটে নোমান এগিয়ে থাকলেও ম্যাচসেরা নির্বাচিত হয়েছেন সাজিদ।
ঘরে-বাইরে বেশ বাজে সময় কাটাচ্ছিল পাকিস্তান। সবশেষ বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে হারে। এরপর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ে সিরিজের প্রথম টেস্ট হেরে। সব মিলিয়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায় পাকিস্তানের। অনেকটা বাধ্য হয়েই দ্বিতীয় টেস্টে তিন পরিবর্তন আনে টিম ম্যানেজমেন্ট। বাবর আজমের মতো অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটারকে ছাঁটাই করে কামরান গোলামকে একাদশে ভেড়ানো হয়। মুলতানের পিচ বিবেচনা করে অন্তর্ভুক্ত করা হয় দুই স্পিনার নোমান ও সাজিদকে। মজার ব্যাপার হলো, এ তিনজনই পাকিস্তানকে জয় উপহার দিয়েছেন। কামরান প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি (১১৮) দেখা পান, পরেরটিতে ২৬ রানের ইনিংস খেলেন। আর দুই স্পিনার মিলেই ভাগাভাগি করে নিলেন ইংলিশদের ২০ উইকেট। সাজিদ খানের দখলে ৯টি, ১১ উইকেট নোমানের ঝুলিতে।
হারতে হারতে দিশাহারা হওয়া পাকিস্তান ঘরের মাঠে সবশেষ টেস্ট জিতেছিল ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। এরপর টানা ১১ ম্যাচে জয়বঞ্চিত। যদিও মুলতানের তৃতীয় দিন থেকেই জয়ের সুবাস পেতে থাকে তারা। স্পিনবান্ধব উইকেটে এক প্রকার নাজেহাল হয়ে পড়েছিল ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানকে ২১১ রানে আটকে দিলেও তৃতীয় দিনের শেষ সময়ে মূল্যবান ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে সফরকারীরা। ব্যক্তিগত রানের খাতা খোলার আগেই প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান বেন ডাকেটকে ফিরিয়ে দেন সাজিদ। দলীয় ১১ রানে জ্যাক ক্রলিকে (৩) ফেরান নোমান। শুরুর এ জোড়া ধাক্কা সামলে ২৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে টিকে থাকেন জো রুট ও ওলি পোপ। চতুর্থ দিনে অর্থাৎ দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের আর বাকি থাকে ২৬১ রান। অথচ ইতিহাস তখনও বলছিল, পাকিস্তানের মাটিতে কোনো সফরকারী দল ২২০ রানের বেশি তাড়া করে জিততে পারেনি।
ইতিহাস বদলে দেওয়ার সুযোগ পায় ইংল্যান্ড। কিন্তু নতুন দিনের শুরুতেই নোমানের ঘূর্ণিপাকে খেই হারিয়ে ফেলেন। একে একে রুট, হ্যারি ব্রুক, বেন স্টোক, জ্যামি স্মিথ, ব্রাইডন ক্রেসদের মাঠছাড়া করেন নোমান। দলের পক্ষে রান যা এসেছে তা সুইপ-রিভার্স সুইপেই এসেছে। এ সুইপ-রিভার্স সুইপ খেলেই ৩৬ বলে ৩৭ রানের সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক স্টোকস। আর শেষটাও মোটেও সুন্দর হয়নি। থামতে হয়েছে ১৪৪ রানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান : ৩৬৬ ও ২২১ (সালমান ৬৩, শাকিল ৩১, কামরান ২৬, রিজওয়ান ২৩; বশির ৪/৬৬, লিচ ৩/৬৭, কার্স ২/২৯)।
ইংল্যান্ড : ২৯১ ও ১৪৪ (স্টোকস ৩৬, কার্স ২৭, পোপ ২২; নোমান ৮/৪৬, সাজিদ ২/৯৩)।
ফল : পাকিস্তান ১৫২ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা : সাজিদ খান।
সিরিজ : তিন টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয়টি শেষে ১-১ সমতা