প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৪ ২১:১৮ পিএম
আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৪ ২১:৩৯ পিএম
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া ও সাকিব আল হাসান। সংগৃহীত ছবি
প্রায় পুরোটা দিন সংবাদমাধ্যম সরব ছিল সাকিব আল হাসানকে নিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ খেলতে আজ রাতেই তার দেশে আসার কথা। তবে দুবাইয়ে তিনি জানতে পারেন আপাতত দেশে না আসাই তার জন্য মঙ্গলজনক। শেষ পর্যন্ত সাকিব আসবেন নাকি আসবেন না তা নিয়ে ছিল তুমুল আলোচনা। অবশেষে সাকিব ইস্যুতে মুখ খুলেছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমি নিজেও চেয়েছি, সাকিব আল হাসানের মতো একজন ক্রিকেটার দেশের মাটিতে অবসর নিক। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে। তবে, প্রথম দিকেই বলেছি সাকিব আল হাসানের আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে জনমনে ক্ষোভ রয়েছে যা স্বাভাবিক।’
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুর টেস্ট খেলতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় ফেরার কথা ছিল সাকিবের। যুক্তরাষ্ট্র থেকে রওনা হয়েছিলেন তিনি। দুবাইয়ে যাত্রাবিরতি চলছিল তার। তখনই তাকে নিরাপত্তার বিষয়টি জানানো হয়। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের পক্ষ থেকে মিরপুরে বিদায়ি টেস্ট খেলতে না আসার পরামর্শ দেওয়া হয় সাকিবকে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে টাইগারদের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ওখান থেকেই ফিরে যান।
আগের দিন বিসিবি থেকে জানানো হয়, মিরপুরে ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে ফিরছেন সাকিব। বোর্ডের দেওয়া প্রথম টেস্টের দলেও ছিলেন তিনি। পরে বিসিবি নির্বাচক হান্নান সরকার দেন সাকিবের ফেরার সুখবর। কিন্তু রাত গভীর হয়ে ভোর হতে হতে পাল্টে যায় সিদ্ধান্ত। গতকাল সারা দিনে নানা নাটকীয়তার পর জানা যায়, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে’ দেশে ফিরছেন না সাকিব। ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে সাকিব বলেছেন, ‘কোথায় ফিরব তা নিশ্চিত না। তবে এটা নিশ্চিত বলতে পারেন যে দেশে আসছি না।’
গতকাল সাকিব ইস্যুতে ক্রীড়া উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বলেন, ‘নিজেও চেয়েছি, সাকিবের মতো একজন ক্রিকেটার দেশের মাটিতে অবসর নিক। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে। তবে, প্রথম দিকেই বলেছি সাকিব আল হাসানের আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে জনমনে ক্ষোভ রয়েছে যা স্বাভাবিক। রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করাসহ জনমনের ক্ষোভ নিরসনে তিনি ফেসবুক পোস্ট দিলেও সাম্প্রতিক প্রতিবাদে প্রতীয়মান হয়েছে যে তা যথেষ্ট ছিল না। যারা প্রতিবাদ করছে তাদেরও তা করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশের মধ্যকার সিরিজে কোনপ্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই আপাতত দেশে খেলতে আসার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করে বিসিবিকে পরামর্শ দিতে হয়েছে।’
গত কয়েক দিন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সাকিবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মিছিল করেছে কিছু মানুষ। দেয়াললিখন লিখেছে। গতকাল ‘মিরপুর ছাত্র-জনতা’ ব্যানারে আন্দোলনকারীরা ‘আমার ভাই কবরে, সাকিব কেন বাইরে’, ‘টরন্টো নাকি মিরপুর, মিরপুর মিরপুর’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়। একই সঙ্গে তারা ‘মিরপুর ব্লকেড’ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে। মোটকথা সাকিবের নিরাপত্তা ইস্যুটি বিশেষ করে ভাবা হচ্ছে। ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেছেন, ‘খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার আশু ব্যবস্থা হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে সকলেরই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত বলে মনে করি। কোন অভিযোগ থাকলে আইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিয়েই তার সমাধান খোঁজা যেতে পারে।’
সাকিবের দেশে ফেরা নিয়ে জল্পনার শুরু আগস্টে। ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের একজন সংসদ সদস্য ছিলেন সাকিব। জুলাই-আগস্টে সংগঠিত গণঅভ্যুত্থানে দেশের উত্তাল পরিস্থিতিতে জাতীয় তারকা হিসেবে সাকিবের সমর্থন আশা করছিল দেশবাসী। তবে জাতীয় দলের এই তারকা ক্রিকেটার ছিলেন নীরব। তারপর থেকেই সাকিবের বিরুদ্ধে দেশের মানুষের ক্ষোভ। এরমাঝে দেশে তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাও হয়েছে। সবশেষ নানা নাটকীয়তার পর সাকিবের দেশের মাটিতে খেলে টেস্ট থেকে বিদায় নেওয়ার ইচ্ছে অপূর্ণই থাকছে। টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়া সাকিব আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পর্যন্ত ওয়ানডে ক্রিকেটে খেলবেন। তবে মিরপুরে টেস্ট খেলতে আসতে না পারা সাকিবকে বিপিএলে পাওয়া নিয়েও জেগেছে শঙ্কা।