প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৪ ২১:২৪ পিএম
আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৪ ২১:২৫ পিএম
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন ৬১ বছর বয়সি ফিল সিমন্স; ফাইল ছবি
অসদাচরণ ও আচরণবিধি
ভাঙার দায়ে বরখাস্ত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। তার
জায়গায় টাইগারদের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক ক্রিকেটার ও কোচ
ফিল সিমন্স। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি চ্যাম্পিয়নস
ট্রফি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন ৬১ বছর বয়সি সাবেক এই ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার। নাজমুল
হোসেন শান্তদের দায়িত্ব নিতে আগামীকাল বুধবারই তার বাংলাদেশে পা রাখার কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন
বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা-আফগানিস্তান সিরিজ ও চ্যাম্পিয়নস
ট্রফির জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি অন্তর্বর্তীকালীন হেড কোচ নিয়োগ দেওয়ার। নতুন অন্তর্বর্তীকালীন
হেড কোচ হিসেবে ফিল সিমন্স চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পর্যন্ত কাজ করবেন।’
কোচ হিসেবে বেশ
প্রসিদ্ধ ফিল সিমন্স খেলোয়াড়ি জীবনে ছিলেন ব্যাটিং অলরাউন্ডার। টুকটাক পেস বোলিং করতেন।
১৯৮৭ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলেছেন ২৬টি টেস্ট এবং ১৪৩ ওয়ানডে।
টেস্টে ১ সেঞ্চুরি ও ৪ ফিফটিটে আছে ১০০২ রান, বল হাতে নিয়েছেন ৪ উইকেট। ওয়ানডেতে ৫
সেঞ্চুরি ও ১৮ ফিফটিতে করেছেন ৩৬৭৫ রান, বল হাতে শিকার করেছেন ৮৩ উইকেট। এ ছাড়া ঘরোয়া
ক্রিকেটে ২০৭টি প্রথম শ্রেণি ও ৩০৬টি লিস্ট এ ম্যাচ খেলেছেন সাবেক এই অলরাউন্ডার।
২০০২ সালে সব
ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর কোচিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তিনি। দীর্ঘ দুই যুগের
অভিজ্ঞতায় এই ক্যারিবিয়ান কোচ জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের
প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ছিলেন পাপুয়া নিউগিনির
বিশেষজ্ঞ কোচের দায়িত্বে। এ ছাড়া ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও বিভিন্ন দলকে কোচিং করিয়েছেন
সিমন্স।
২০০৪ সালে সর্বপ্রথম
জিম্বাবুয়ের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন সিমন্স। তবে এক বছরের মাথায় ২০০৫ সালে বরখাস্ত
হন তিনি। এরপর ২০০৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর আয়ারল্যান্ডের কোচ আদ্রিয়ান বিরেলের
স্থলাভিষিক্ত হন। তার হাত ধরেই পরিবর্তন শুরু হয় আইরিশ ক্রিকেটের। আসতে শুরু করে সাফল্য।
চমকে দেয় বিশ্বকাপের মতো বড় আসরেও। সুবাদে দীর্ঘ আট বছর টানা পালন করেন প্রধান কোচের
দায়িত্ব। তার অধীনে মোট ২২৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে আয়ারল্যান্ড। যা কোনো আন্তর্জাতিক
কোচ হিসেবে টানা সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব পালনের রেকর্ড।
এরপর ২০১৫ বিশ্বকাপের
পরপরই ওয়েস্ট ইন্ডিজের হেড কোচের প্রস্তাব গ্রহণ করেন সিমন্স। সাফল্য ধরা দেয় সেখানেও।
তার অধীনেই ভাঙাচোরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল গড়ে অবিশ্বাস্য এক কীর্তি। র্যাঙ্কিংয়ের সেরা
দশের বাইরে চলে যাওয়া দলটাকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ান তিনি। ২০১৬ সালে ক্যারিবীয়দের জেতান
দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপা। এরপর ২০১৮ সালে আফগানিস্তান জাতীয় দলের
কোচের দায়িত্ব নেন সিমন্স। তবে বছরখানেক পর ফের ওয়েস্ট ইন্ডিজের দায়িত্বে ফেরেন তিনি।
২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন সিমন্স।
এবার বাংলাদেশ
দলের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে যুক্ত হলেন সিমন্স। ২১ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া
দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ থেকেই শুরু হচ্ছে তার বাংলাদেশ অধ্যায়। অবশ্য এর আগেও বাংলাদেশ
ক্রিকেট দলের কোচ হওয়ার জন্য বিসিবিতে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রাও
নাকি তাকে কোচ হিসেবে চেয়েছিলেন। তবে সিমন্স খেলোয়াড়দের স্বার্থের ব্যাপারে আপস করেন
না, এই ধারণা থেকে তৎকালীন বোর্ড তাকে নিয়োগ দেয়নি। ঘটনাচক্রে পছন্দের কোচকেই এখন ড্রেসিংরুমে
পাবেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।