প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৪ ২১:২০ পিএম
আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৪ ২১:৪৮ পিএম
বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে দ্বিতীয় অধ্যায় শেষ হলো চন্ডিকা হাথুরুসিংহের। ছবি : আ. ই. আলীম
কথা ছিল চ্যাম্পিয়নস ট্রফি
পর্যন্ত তার অধীনে খেলবে বাংলাদেশ। কিন্তু বিসিবিতে রদবদলে শঙ্কা জাগে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের
ভবিষ্যৎ নিয়ে। বোর্ড প্রধান ফারুক আহমেদও চাননি শ্রীলঙ্কান এ কোচ থাকুক। সবশেষ সেটাই
হয়েছে। অসদাচরণ ও আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে হাথুরুসিংহেকে বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ
ক্রিকেট বোর্ড। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী কোচ হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফিল সিমন্সকে নিয়োগ
দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার মিরপুরে আনুষ্ঠানিক এক সংবাদ সম্মেলনে হাথুরুসিংহেকে শোকজ
ও বরখাস্তের পাশাপাশি নতুন কোচের নাম জানান বিসিবি সভাপতি।
২০১৪ সালে শেন জার্গেনসন বিদায়ের
পর বাংলাদেশে ক্রিকেটে পথচলা শুরু হাথুরুসিংহের। প্রথমবার কোচ হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন
২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত। সেবার স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ান। ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্ব
থাকা সত্ত্বেও নিজ দেশ শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে যুক্ত হন। ২০২৩ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে আসেন
বাংলাদেশ ক্রিকেটে। আগামী বছর পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পর্যন্ত তার চুক্তির
মেয়াদ। তবে মাঝপথেই বেজেছে বিদায়ঘণ্টা। প্রথম অধ্যায়ে হাথুরু নিজ থেকে অবসরে গেলেও
দ্বিতীয়বার তাকেই বাদ দিচ্ছে বিসিবি। যদিও বিসিবি এখনই বিদায় দিতে পারছে না তাকে। নিয়ম
অনুযায়ী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে, এই সময়ের জন্য হাথুরু বরখাস্ত
থাকবেন। এরপরই চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হবে তাকে। বোর্ড সভাপতি জানিয়েছেন, আইনগত কিছু
বিষয় থাকায় শুরুতে তাকে শোকজ ও বরখাস্তের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। তারপরই চুক্তি বাতিলের
বিষয়টি আসবে। হাথুরুসিংহে অবশ্য বরখাস্তের বিষয়টিতে অবাকই হয়েছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে কথা
বলার আগে বিসিবির চিঠির জবাব দিতে চেয়েছেন লঙ্কান কোচ।
সাফল্যের নিরিখে দ্বিতীয় মেয়াদে
সফল হাথুরুসিংহে। দেড় বছরের বেশি সময়ে তার অধীনে ১০টি টেস্ট, ৩৫টি ওয়ানডে ও ৩৫টি টি-টোয়েন্টি
খেলেছেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। টেস্টে ৫টি জয় ও ৫টি হার। ওয়ানডেতে ফল অবশ্য হতাশাজনকÑ
৩৫ ম্যাচে ১৩টি জয়, হার ১৯টি, ৩টি ম্যাচে ফল হয়নি। টি-টোয়েন্টিতে ৩৫ ম্যাচের ১৯টিতে
জিতেছে বাংলাদেশ, হেরেছে ১৫টি, একটিতে ফল হয়নি। র্যাঙ্কিংয়ে ১০ এর কাছাকাছি (টেস্ট
ও টি-টোয়েন্টিতে-৯, ওয়ানডেতে-৮) থাকা সত্ত্বেও দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করে গেছেন হাথুরুসিংহে।
তবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পেয়েই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। ‘একনায়কতন্ত্র’, অতিরিক্ত ছুটিতে
থাকা ও ‘শারীরিক হেনস্থা’সহ বেশ কিছু আপত্তিকর ঘটনা ঘটান তিনি। এ নিয়ে বিসিবি সভাপতি
সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘দু-তিনটি ঘটনা ঘটেছে, যেগুলো একজন সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে আমার
জন্য খুব পীড়াদায়ক ছিল। পাশাপাশি এটা দলের জন্যও খুব একটা ভালো উদাহরণ ছিল না। সেগুলো
বিবেচনা করেই তাকে একটা কারণ দর্শাও নোটিস এবং দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির চিঠি দিয়েছি।
তবে এটা ঠিক যে, আমরা চেষ্টা করেছিলাম মানিয়ে নিতে।’
গত বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপ চলাকালে
স্পিনার নাসুম আহমেদকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন হাথুরু। এ ঘটনায় বেশ উত্তাপ ছড়ায়। গণমাধ্যমে
এসব খবর প্রকাশ হতেই বিপাকে পড়েন তিনি। যদিও পরে অভিযোগ অস্বীকার করেন। নাসুমের ওই
ঘটনা যে বরখাস্তের একটি বড় কারণ, তা ফারুক আহমেদের কথায় স্পষ্ট, ‘আমরা মানুষ। হিট অব
দ্য মোমেন্টে অনেক কিছু হতেই পারে। তবে একজন জাতীয় দলের ক্রিকেটারকে আপনি শারীরিকভাবে
লাঞ্ছিত করতে পারেন না। সে কারণে যে শাস্তি পেতে হয়, সেটাই হচ্ছে (ছাঁটাই)। এটা আরও
আগে হওয়া উচিত ছিল। এখন হয়েছে, আমি খুশি।’
বিসিবি সভাপতির সঙ্গেও হাথুরুসিংহের
বেশ মতবিরোধ ছিল। ২০১৬ সালে ফারুক যখন প্রধান নির্বাচক থেকে পদত্যাগ করেন তার মূলে
অনেকাংশে দায়ী ছিলেন শ্রীলঙ্কান কোচ। তখন হাথুরুর বিরুদ্ধে স্কোয়াড গঠনে বাধা ও একনায়কতন্ত্রের
অভিযোগ তুলেছিলেন ফারুক। দ্বিতীয় মেয়াদে যখন দায়িত্ব নেন তখনও হাথুরুকে নিয়ে তির্যক
মন্তব্য করেন তিনি। আর পাপনের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে হাথুরুকে বিদায়ের আভাস
দেন।
হাথুরুকে বরখাস্তের পেছনে
শৃঙ্খলাভঙ্গ অন্যতম কারণ। বিসিবিকে না জানিয়ে বছরে তার পাওনা ৪০ দিনের বেশি সময় কাটিয়েছেন
বাংলাদেশের কোচ। এ নিয়ে ফারুক বলেন, ‘একজনের অসদাচরণের বিরুদ্ধে নোটিস দেওয়ার কিছু
নেই। সে যে সময় ছুটি কাটিয়েছে, সেটা তিন মাসের বেশি। ওটাও অসদাচরণের অংশ। বিচ্ছিন্নভাবে
তিনি ই-মেইলে জানিয়েছেন, তবে সেটা তিন মাসের বেশি হওয়ার সুযোগ নেই। আপনার জবাবদিহি
থাকতে হবে। এখানে নিয়ম ভেঙেছেন, আমরা জানিয়েছি যে খেলোয়াড়ের সঙ্গে তার অসদাচরণ এবং
একজন কর্মী হিসেবে নিজের অসদাচরণ।’
অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ
সাবেক ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার ও কোচ ফিল সিমন্স আজই ঢাকায় আসবেন। রাসেল ডমিঙ্গোকে কোচ
নিয়োগের সময়ও বিসিবিতে সাক্ষাৎকারও দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তার অধীনে আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা
সিরিজ, সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তান সিরিজ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর এবং চ্যাম্পিয়নস
ট্রফি খেলবে বাংলাদেশ। দেখার বিষয়, ঘুণে ধরা বাংলাদেশ ক্রিকেট কোন পথে নিয়ে যান সিমন্স।