বাফুফে নির্বাচন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৪ ২০:২৪ পিএম
আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৪ ২৩:০১ পিএম
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নির্বাচন আগামী ২৬ অক্টোবর। নির্বাচন উপলক্ষে ফরম বিতরণের শেষ দিন ছিল আজ শনিবার। শেষ দিনে সভাপতি পদে চমকের অপেক্ষায় অনেকে থাকলেও তেমন বড় কিছুই ঘটেনি। বরং সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে ফরম নেওয়া তরফদার রুহুল আমীনের ফরম নেওয়াটাই এ দিনের বিরাট চমক। সেক্ষেত্রে আসন্ন নির্বাচনে তার সঙ্গে লড়াইটা হতে পারে বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসানের সঙ্গে। সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন নেওয়া অন্যজন হলেন মোহাম্মদ মনির হোসেন। এই ফুটবল সংগঠকের নমিনেশন সংগ্রহও কিছুটা চমক দিয়েছে। আলোচনার বাইরে থেকে হঠাৎ করেই নমিনেশন নিয়েছেন তিনি।
সভাপতি- ৪ জন
সিনিয়র সহ-সভাপতি- ৩ জন
সহ-সভাপতি- ১২ জন
সদস্য- ৪৩ জন
এর আগে বাফুফের বর্তমান সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের নির্বাচন না করার সিদ্ধান্তের পরের দিনই এই পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন রুহুল আমীন। ঢাকার একটি পাঁচতারকা হোটেলে ঘটা করে দেওয়া সেই ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক ফুটবলার আমিনুল ইসলাম ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়শেনের কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ানসহ আরো অনেকেই। শেষ পর্যন্ত রুহুল আমীন সভাপতি পদে নির্বাচন না করায় এই পদের জন্য শনিবার ফরম তুলেছেন রেদোয়ান। রুহুল আমীন কেন সভাপতি পদে নির্বাচন করলেন না সে বিষয়ে রেদোয়ান জানাতে পারেননি কোনো কারণ, ‘তরফদার (রুহুল আমীন) ভাই সভাপতি পদে কেন নির্বাচন করলেন না এটা উনি বলতে পারবেন। আমি সভাপতি ও সহ-সভাপতি দুই পদে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছি।’ কারও সঙ্গে প্যানেল করে নির্বাচন করবেন কিনা এ বিষযে তিনি বলেছেন, ‘এখনো সময় আছে। আলোচনা হতে পারে। ফুটবলের স্বার্থে একক প্যানেল হলে সভাপতি পদ ছাড়তে রাজি রয়েছি।’
সভাপতি পদে এদিন আরেকটি ফরম নিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া এফসি’র কাউন্সিলর শাহাদাত হোসেন জুবায়ের। তিনি সদস্য পদের জন্যও আলাদা আরেকটি ফরম নিয়েছেন। সবমিলিয়ে সভাপতি পদে বাফুফে ফরম বিক্রি করেছে মোট ৪টি। বাকি দুজন- তাবিথ আউয়াল এবং দিনাজপুরের ফুটবল সংগঠক ও কোচ দাবী করা এএফএম মিজানুর রহমান চৌধুরী।
‘যেহেতু আমার কোচিং ক্যারিয়ার প্রায় শেষ পর্যায়। ফুটবলের জন্য আমি কাজ করতে চাই এবং কাজ করার জায়গাটা এখানে (বাফুফে)। আর কাজ করতে হলে একটা জায়গায় বসতে হয়। যে কারণে সহ-সভাপতি পদের নির্বাচন করতে যাচ্ছি। আমি বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য অনেক দিন কাজ করেছি, সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই। - শফিকুর ইসলাম মানিক, সাবেক ফুটবলার ও কোচ।
নির্বাচনের ফরম জমা দেওয়ার দিন আগামী ১৪ ও ১৫ অক্টোবর। শেষ পর্যন্ত কারা নির্বাচনের মাঠে থাকবেন সেটি সময় বলে দেবে। কেননা এর মধ্য থেকে অনেকেই মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারেন। আবার অনেকে বৈধ নাও হতে পারেন। তাই মনোয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন, তথা ২০ অক্টোবর বিকালে জানা যাবে কারা থাকছেন ভোটের লড়াইয়ে। তবে সহ-সভাপতি পদে মনোনয়ন সংগ্রহ করা ১২ জন ভোটের লড়াইয়ে থাকলে এই পদে তুমুল লড়াই হতে পারে ধারনা অনেকের। এই পদে ফরম নেওয়া ১২ জন হলেন- নাসের শাহরিয়ার জাহেদি, ফাহাদ মোহাম্মদ আহমেদ করীম, ইকবাল হোসেন, সাব্বির আহমেদ আরিফ, ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী, রশিদ সামিউল ইসলাম, সায়েদ রুম্মন বিন ওয়ালি সাব্বির, এসএম আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ান, শফিকুল ইসলাম মানিক, সত্যজিত দাস রুপু, মিসবাহ আহমেদ বিন সামাদ চৌধুরী ও সায়েদ হাসান কানন। এদিন সহ-সভাপতি পদের ফরম নেয়ার পর সাংবাদিকদের শফিকুর ইসলাম মানিক বলেছেন জিতে আসলে এক সঙ্গে বাফুফের কিছু সমস্যা সমাধান করবেন তিনি। সাবেক ফুটবলার ও কোচের কথায়, ‘যেহেতু আমার কোচিং ক্যারিয়ার প্রায় শেষ পর্যায়। ফুটবলের জন্য আমি কাজ করতে চাই এবং কাজ করার জায়গাটা এখানে (বাফুফে)। আর কাজ করতে হলে একটা জায়গায় বসতে হয়। যে কারণে সহ-সভাপতি পদের নির্বাচন করতে যাচ্ছি। আমি বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য অনেক দিন কাজ করেছি, সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই। আমি কারও সমালোচনা করতে চাই না, ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে চাই। ভবিষ্যতে যাতে দেশর ফুটবল একটা ভালো জায়গায় যেতে পারে, সবাইকে নিয়ে সেই জায়গাটায় কাজ করতে চাই।’
সর্বশেষ কয়েকটি নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ কম থাকলেও এবার সেই জায়গায় আসছে পরিবর্তন। ভোটের লড়াইয়ে দেখা যেতে পারে চারজন নারীকে। সদস্য পদে চারজন নারী ফরম নিয়েছেন। যার মধ্যে বর্তমান কমিটির নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরনের সঙ্গে আছে নিষিদ্ধ আবু নাঈম সোহাগের স্ত্রী তাসমিয়া রেজোয়ানা। বাকি দুজন হলেন মাহমুদা খাতুন ও রওশন আক্তার ওরফে ডেইজি জাফর। সদস্য পদে মোট প্রার্থী ৪৩জন। তারা হলেন- তাসমিয়া রেজোওয়ানা, সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া, ইয়াকুব আলী, মো. ইকবাল হোসেন, কামরুল হাসান হিল্টন, গোলাম গাউস, জাকির হোসেন চৌধুরী, মো. নজরুল ইসলাম, এ বি এম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, মাহফুজা আক্তার কিরন, হাজী মো. টিপু সুলতান, আ ন ম আমিনুল হক মামুন, ইমতিয়াজ হামিদ, সত্যজিৎ দাস রুপু, মানোস চন্দ্র দাস, আমিরুল ইসলাম বাবু, বিজন বড়ুয়া, মাহমুদা খাতুন, মো. আমের খান, মো. এখলাস উদ্দিন, মো. শফিকুল আজম ভূঁইয়া, শরীফ উদ্দিন, মো. মঞ্জুরুল করিম, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. ইকবাল হাসান জনি, মহি উদ্দিন আহমেদ সেলিম, মো. সাইফুর রহমান মনি, খন্দকার রকিবুল ইসলাম, রওসন আখতার (ডেইজি জাফর), মহিদুর রহমান মিরাজ, মো. মঞ্জুরুল করিম, মো. শাহাদাত হোসেন, মো. আব্দুল হাফিজ, জসিম উদ্দিন খান খসরু, সৈয়দ এম.ডি. শহিদুল ইসলাম, মো রিয়াজউদ্দিন, এ কে এম নুরুজ্জামান, মিসবাহ আহমেদ বিন সামাদ চৌধুরী, মো. সৈয়দ হাসান কানন, মো মাহবুবুর রহমান, দেলোয়ার হোসেন, শাকিল মাহমুদ চৌধুরী ও মো. শাহিন হাসান।