প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৪ ১৬:২৯ পিএম
মুলতান টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে পাকিস্তান। ১৪৭ বছরের টেস্ট ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে প্রথন ইনিংসে ৫০০–এর বেশি রান তুলেও ইনিংস ব্যবধানে হারল শান মাসুদের দল। এটি ঘরের মাটিতে পাকিস্তানের টানা তৃতীয় হার এবং সর্বশেষ ৯ টেস্টের মধ্যে সপ্তম হার। পাকিস্তানের এমন হারের ঘন্টাখানেকের মধ্যেই নির্বাচক কমিটিতে পরিবর্তন এনেছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। জাতীয় দলের নির্বাচক প্যানেলে যুক্ত হয়েছেন দেশটির কিংবদন্তি আম্পায়ার আলিম দার। তার সঙ্গে নির্বাচক প্যানেলে যুক্ত হয়েছেন সাবেক ক্রিকেটার আকিব জাভেদ ও সাবেক অধিনায়ক আজহার আলীও।
১০ দিন আগে পাকিস্তানের নির্বাচকের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন মোহাম্মদ ইউসুফ। এরপরই নির্বাচক প্যানেলকে ঢেলে সাজানোর জন্য উদ্যোগী হয় পিসিবি। আগে থেকেই নির্বাচক প্যানেলে ছিলেন সাবেক ডানহাতি ব্যাটাা আসাদ শফিক। পিসিবির নতুন পরিকল্পনায়ও নির্বাচক প্যানেলে থাকছেন তিনি। এই কমিটির ডাটা অ্যানালিস্টের দায়িত্ব পালন করবেন হাসান চিমা। অন্যান্য গুরু দায়িত্বে থাকবেন জাভেদ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাদা বলের সিরিজ নতুন কমিটির প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট। আগামী সপ্তাহে এই সিরিজের সূচি ঘোষণা করা হবে।
গত বছরের মার্চে আম্পায়ারদের এলিট প্যানেল থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন আলিম দার। তখনই পাকিস্তানি এই আম্পায়ারের অবসরের গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল৷ যদিও আন্তর্জাতিক আম্পায়ার হিসেবে গত এপ্রিলে পাকিস্তান- নিউজিল্যান্ড টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আম্পায়ারিং করেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছরের আম্পায়ারিং ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দেন ৫৬ বছর বয়সি এই কিংবদন্তি। অবসরের ঘোষণা দিলেও চলতি বছরের বাকি সময়টা আম্পায়ারিং করে যাবেন তিনি। আগামী বছরের পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেবেন৷
অবসরের ঘোষণায় আলিম দার জানিয়েছিলেন, ‘প্রায় ২৫ বছর আম্পায়ারিং ছিল আমার জীবনের অংশ। প্রজন্মের সেরা ক্রিকেটারদের কিছু দুর্দান্ত ম্যাচ পরিচালনার আকাঙ্ক্ষা আমার সবসময়ই ছিল। পুরো ক্যারিয়ারে আমি ম্যাচ পরিচালনায় পুরো পেশাদারিত্ব ধরে রাখতে চেষ্টা করেছি এবং বিশ্বের সবচেয়ে সেরা কিছু ম্যাচ অফিসিয়ালের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে সম্মানিত বোধ করছি।’
পাকিস্তানের জার্সিতে কখনও খেলা হয়নি আলিম দারের৷ ১৯৯৮-৯৯ কায়েদে আজম ট্রফিতে আম্পারিংয়ে অভিষেক হয় তার। এরপর নিজেকে নিয়ে যান আম্পায়ারদের সর্বোচ্চ স্তরে। চারটি বিশ্বকাপসহ রেকর্ডগড়া ১৪৫ টেস্ট ও ২২২টি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি। বিশ্ব ক্রিকেটে দারুণ পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে স্বীকৃতিও পেয়েছেন আলিম দার৷ পাকিস্তানের এই আম্পায়ার ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার আইসিসির বর্ষসেরা আম্পায়ারের পুরস্কার ‘ডেভিড শেফার্ড’ ট্রফি পেয়েছেন। ২০০২ সালে আইসিসির এলিট প্যানেল প্রতিষ্ঠার পর তিনি পাকিস্তানের প্রথম আম্পায়ার হিসেবে সেখানে জায়গা করে নেন।