প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৪ ২১:২৬ পিএম
‘টি-টোয়েন্টি ভিন্ন বলের খেলা। নির্দিষ্ট দিনে যে ভালো খেলবে সেই
জিতবে। আশা করছি ভালো ক্রিকেট উপহার দিতে পারব। সত্যি বলতে আমরা সিরিজটি জিততে চাই।
আগ্রাসী ক্রিকেট খেলতে চাই’Ñ ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগের সংবাদ সম্মেলনে
এভাবেই কথাগুলো বলেছিলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু টেস্টের
পর টি-টোয়েন্টি সিরিজেও টাইগারদের ভঙ্গুর দশা কাটেনি। ব্যাটিং, বোলিং কিংবা ফিল্ডিংÑ
তিন বিভাগেই দ্বিতীয় সারির ভারতীয় দলের বিপক্ষে ব্যর্থ শান্ত ব্রিগেড। কুড়ি কুড়ির সিরিজ
হেরেছে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই। এতেই টাইগার ক্রিকেটারদের সামর্থ্য নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন।
সবশেষ পাকিস্তান সফরেই টেস্ট সিরিজে বাবর আজমদের হোয়াইটওয়াশ করেছিল
বাংলাদেশ দল। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই নতুন ইতিহাস গড়ার প্রত্যয় নিয়ে ভারতে পা রেখেছিল
লাল-সবুজের দল। কিন্তু চেন্নাইয়ের পর কানপুরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই
করতে পারেনি সফরকারীরা। সাদা পোশাকে ব্যর্থ হলেও টি-টোয়েন্টি সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর
অঙ্গীকার করেছিলেন টাইগার কাপ্তান নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম
দুই ম্যাচে প্রত্যাশার সিকিভাগও প্রতিফলন ঘটাতে পারেননি ক্রিকেটাররা।
দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে গতকাল বুধবার সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে
৮৬ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ দল। ভারতের দেওয়া ২২২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে
নেমে ৯ উইকেটে ১৩৫ রানেই থেমে যায় টাইগারদের ইনিংস। গৌয়ালিয়রে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে
৪৯ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটে জেতায় এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জিতে নিয়েছে ভারত। এই
হারের পর হতাশ সম্প্রচারমাধ্যমকে টাইগার অধিনায়ক শান্ত জানান, ‘আমরা বারবার একই ভুল
করছি, যেটা দল হিসেবে ইতিবাচক কিছু নয়। আমাদের উন্নতির অনেক জায়গা রয়েছে।’
শান্ত আরও যোগ করেন ‘টস জিতে বোলিং নেওয়া খুবই ভালো সিদ্ধান্ত ছিল।
আমরা প্রথম ৬-৭ ওভারে ভালো বোলিং করেছি। তবে, ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছি।
এরপর তারা (ভারত) ভালো ব্যাটিং করেছে। আমরা নিজেদের পরিকল্পনা সেভাবে বাস্তবায়ন করতে
পারিনি। যেটা ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেয়। মাঝের ওভারগুলোতে আমাদের আরও ২-১টি উইকেট প্রয়োজন
ছিল। ব্যাটার হিসেবে আমাদের দায়িত্ব নিতে হবে। পাশাপাশি কীভাবে বেশি সময় ক্রিজে থাকা
যায়, সেটা নিয়েও কাজ করতে হবে।’
পাওয়ার প্লেতে ভারতের ৩ উইকেট তুলে লড়াইয়ের আভাস দিয়েছিল বাংলাদেশ।
কিন্তু ভারতের দুই ব্যাটার নিতীশ রেডি (৩৪ বলে ৭৪) ও রিঙ্কু সিং (২৯ বলে ৫৩) দুর্দান্ত
ব্যাটিংয়ে ২২১ রানের বিশাল বড় স্কোর পেয়ে যায় স্বাগতিকরা। বোলিংয়ে বাংলাদেশের স্পিনাররা
৮ ওভারে ১১৬ রান নিয়েছেন। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সময় হয়েছে উল্টোটা। ভারতের ৯ ওভার
স্পিনে মাত্র ৪৯ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ম্যাচ থেকে ছিটকে
পড়ে সেখানেই।
ম্যাচ শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে টাইগার তাসকিন আহমেদও বললেন স্পিনারদের
দেদারসে রান দেওয়ার কথা, ‘স্পিনারদের দিনটা একটু বেশিই খারাপ গেছে। আর ওদের রানটা যখন
বেশি হয়ে গেছে, তখন মারতে গিয়ে আউট হয়েছে। আসলে শুরুতে উইকেট পড়ে গেলে খুব কঠিন হয়ে
যায়।’ টসে জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চাইলে তাসকিন বলেছেন, ‘দেখুন,
পাওয়ারপ্লেতে আমরা ভালো করেছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্পিনারদের খারাপ দিন গেছে। শিশির
ছিল, বোলারদের বল গ্রিপ করতে সমস্যা হচ্ছিল। বড় রান হওয়ায় হেরে গেছি। ১৮০ থেকে ১৯০-এর
মধ্যে রাখা গেলেও রান তাড়া সম্ভব ছিল।’
দিল্লির ব্যাটিং সহায়ক উইকেট নিয়ে তাসকিনের কথা, ‘আমরা জানতাম, দিল্লির
উইকেটে অনেক রান হবে। কিন্তু আমরা ভালো ব্যাটিং করিনি। দুটি ম্যাচেই উইকেট ভালো ছিল।
আমরাই ভালো খেলিনি।’ ব্যাটিং-বোলিংয়ের বাইরে ফিল্ডিংও ছিল বাংলাদেশ দলের হারের আরেক
কারণ। তানজিম হাসানের বলে ব্যক্তিগত ৫ রানে নীতিশের ক্যাচ ছাড়েন লিটন দাস। সেই নীতিশই
ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন। তাসকিনও বললেন, ‘ক্যাচ ফেলা তো সব সময়ই খারাপ।’
ভারতকে প্রশংসায় ভাসিয়ে তাসকিন বলেছেন, ‘ওরা বিশ্বের সেরা দল। ওরা
আমাদের চেয়ে অভিজ্ঞ। ওদের কন্ডিশনে তো ওরা ভালোই। উইকেট পড়লেও ওরা আমাদের বোলারদের
বিপক্ষে চড়াও হয়েছে। বড় স্কোর হওয়ায় মারতে গিয়ে আমরা দ্রুত উইকেট হারিয়েছি, ছন্দ হারিয়েছি।’
আইপিএলের কারণে ভারতের টি-টোয়েন্টির যে উন্নতি হয়েছে, এসেছে সে প্রসঙ্গও,
‘এটা অবশ্যই একটা ব্যাপার। আইপিএলে বেশিরভাগ ম্যাচই হাই স্কোরিং হয়। ওদের কাছে ১৮০
রান খুবই স্বাভাবিক। আমাদের জন্য যেটা ১৩০, ১৪০, ১৫০ রান।’
ভালো উইকেটে ব্যাটিং-বোলিং নিয়ে তাসকিন এ কথাও বলেছেন, ‘ওদের মতো
শুয়ে-বসে খেলতে গেলে আমাদের দেশে হয়তো বল মুখে লাগবে। ওরা ছোট থেকেই ভালো উইকেটে খেলে
এভাবে খেলার অভ্যাস করেছে।’ নিজের টি-টোয়েন্টি সামর্থ্য নিয়েও সোজাসাপটা কথা বলেছেন
তাসকিন, ‘আমারা ৮০ শতাংশের ওপরে ভালো খেললে জিতি। এক-দুজন ভালো খেললে জিতি না। আমরা
ওই রকম দল নই।’