নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৪ ১৭:১১ পিএম
আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৪ ১৭:১৯ পিএম
পা ফসকালেই বিপদ। রেস থেকে
ছিটকে পড়ার ভয়। এক জয় এক হারে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে বাংলাদেশ।
এমন চ্যালেঞ্জ আর সমীকরণ নিয়েই ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। চাপে ক্যারিবিয়ানরাও।
জয়টা দুদলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
আজ বৃহস্পতিবার দুবাইয়ের শারজা
স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় মাঠে গড়াবে এই তাপ ছড়ানো ম্যাচটি।
এর আগে ক্যারিবীয় চ্যালেঞ্জে
কোনো সুখস্মৃতি নেই বাংলাদেশের। এখন পর্যন্ত তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে
এই দুই দল। প্রত্যেকটির ফল জ্যোতিদের বিপক্ষে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দু’দল সবশেষ মুখোমুখি
হয়েছিল ২০১৮ সালে। গায়ানা প্রভিডেন্স পার্কের সেই ম্যাচে স্বাগতিকদের কাছে ধরাশায়ী
হয়েছিল লাল সবুজ দল। আগের দুটি ম্যাচে অবশ্য কিছুটা হলেও লড়াই করতে সমর্থ হয়েছিলেন
জ্যোতিরা। তবে ব্যাটিংয়ে বেহাল দশা ছিল প্রতিবারই। ২০২৪ বিশ্বকাপেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি।
চলতি আসরে নিজেদের প্রথম দু’ম্যাচে
এখন পর্যন্ত অর্ধশতক পাননি বাংলাদেশের কোনো ব্যাটার। দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছেন
সাতজন। এর মধ্যে ৩০ ঊর্ধ্ব রান কেবল দুজনের। সর্বোচ্চ সংগ্রহ সোবহানা মোস্তারির। ইংল্যান্ডের
বিপক্ষে ৪৪ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ-বাংলাদেশের পার্থক্য ঠিক এই জায়গাতেই।
জুটি মজবুত করার ক্ষেত্রে বারবারই পারদর্শিতার প্রমাণ দিচ্ছেন ক্যারিবিয়ানরা।
ব্যাটিংয়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও
ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্পিনে ভুগতে পারে। বরাবরই স্পিনে দুর্বল ক্যারিবিয়ানরা। এর জন্য প্রস্তুত
বাংলাদেশের স্পিন ইউনিট। ধারাবাহিক সাফল্য পাচ্ছেন বাঁ-হাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার,
ফাহিমা খাতুন এবং লেগব্রেক বোলার রাবেয়া খান ও স্বর্ণা আক্তার। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের
অভিজ্ঞ স্পিনার জাইদা জেমস পড়েছেন ইনজুরিতে। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার
বিপক্ষে ব্যাট হাতে পারফর্ম করা এই স্পিনার ফিল্ডিংয়ের সময় ব্যথা পান। ফলে স্কটল্যান্ডের
বিপক্ষে নামেননি। তৃতীয় ম্যাচে তার অবস্থান নিয়ে কোনো তথ্য দেয়নি বোর্ড।
আজকের ম্যাচে জয়ের বিকল্প
নেই দুপক্ষের। বাংলাদেশ দলের স্পিন কোচ দিনুক সুলাকশানা মনে করেন, দলের সবাই শতভাগ
দিলে আর স্পিনাররা ধারাবাহিক থাকলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় অসম্ভব নয়। বাংলাদেশ
ক্রিকেট বোর্ডের পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী, ওয়েস্ট ইন্ডিজের
বিপক্ষে ভালো করবে বাংলাদেশ।’ দুই শিষ্যÑ নাহিদা ও রাবেয়াকে নিয়ে সুলাকশানা বলেছেন,
‘দুজন জানে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়। নাহিদা দলের অন্যতম বোলার। উইকেট সম্পর্কে
তাদের ধারণা প্রখর।’
ক্যারিবিয়ানদের ৩৭ বর্ষী অভিজ্ঞ
স্পিনার অফেই ফ্লেচার মনে করেন, টি-টোয়েন্টি রানের খেলা। একই সঙ্গে এখানে নেট রান রেটটাও
অধিকতর গুরুত্বের। তিনি বলেছেন, ‘কুড়ি কুড়ির ম্যাচে নেট রান রেট খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আমি জানি না আগামী ম্যাচ আমাদের কেমন যাবে। ক্রিকেট টার্মের দিকে আরও মনোযোগ দেওয়া
উচিত আমাদের। চেষ্টা করতে হবে নিজেদের কীভাবে আরও সমৃদ্ধ করা যায়। বিশেষ করে নেট রান
রেট ঠিক রাখা এবং ভবিষ্যতে কীভাবে এটাকে ধারাবাহিক করা যায়, সে বিষয়েও চিন্তা করা উচিত
আমাদের।’
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পয়েন্ট
দুই। নেট রান রেট-০.১২৫। একই ফল নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের নেট রান রেট ১.১৫৪। পয়েন্ট একই
হলেও সেমির দৌড়ে এগিয়ে জাইদা জেমসের দল। আজ তাই জয়ের পাশাপাশি নেট রানরেট কীভাবে এগিয়ে
রাখা যায়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে জ্যোতিদের।