প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৪ ১৭:৩৬ পিএম
আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৪ ১৭:২১ পিএম
বিপিএল ইতিহাসের অন্যতম সফল দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। দেশের জনপ্রিয়
ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের একমাত্র ধারাবাহিক দলও ছিল তারা। সব মিলিয়ে বিপিএলের ইতিহাসে
রেকর্ড চারবার শিরোপা জিতেছে এই দল। তবে আসন্ন বিপিএলের এগারোতম আসরে থাকছে না ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
আর কুমিল্লা না থাকায় বিপিএল রঙ হারাবে বলে মনে করেন দলটির সাবেক সফল অধিনায়ক ইমরুল
কায়েস।
আজ রবিবার (৬ অক্টোবর) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গণমাধ্যমের
মুখোমুখি হয়ে আসন্ন বিপিএল নিয়ে কথা বলেন জাতীয় দলের বাইরে থাকা ব্যাটার ইমরুল কায়েস।
এ সময় বিপিএলে কুমিল্লার না থাকা প্রসঙ্গে টুর্নামেন্টের রঙ হারানোর কথা জানান ৩৭ বছর
বয়সি এই তারকা। অবশ্য সেটার কারণও স্পষ্ট করেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।
ইমরুল বলেন, ‘আমি মনে করি কুমিল্লার মতো দল থাকলে সেটা বিপিএলের জন্য
ভালো। ওরা এমন একটা দল যারা সব সময় ভালো দল তৈরি করে। বড় বড় তারকা ক্রিকেটার নিয়ে আসে।
আমি মনে করি, ওইদিক থেকে যদি বলেন বিপিএল কিছুটা হলেও রঙ হারিয়েছে। ওরা যেভাবে প্লেয়ার
নিয়ে আসে, আমি জানি না এভাবে কেউ প্লেয়ার আনবে কি না। বিপিএল কুমিল্লাকে মিস করবে।’
এবারের বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের না থাকার বিষয়টি আগেই
নিশ্চিত হয়েছিল। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের
পর থেকেই ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মালিক নাফিসা কামাল দেশে নেই। বিসিবির পক্ষ থেকে বারবার
যোগাযোগ করেও এই ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ভিক্টোরিয়ান্সের
স্পন্সর কোম্পানি ওরিয়ন গ্রুপের দল নেওয়ার গুঞ্জন উঠলেও শেষ পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি।
এবারের আসরে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশালের সঙ্গে পুরোনো মালিকানায়
থাকছে রংপুর রাইডার্স, সিলেট স্টাইকার্স। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স, ঢাকা ক্যাপিটালস
(প্রস্তাবিত), খুলনা টাইগার্সের মালিকানা বদল হয়েছে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স না থাকায়
দুর্বার রাজশাহীকে (প্রস্তাবিত) নেওয়া হয়েছে নতুন করে। সবকিছু ঠিক থাকলে ১৪ অক্টোবর
রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে বিপিএলের প্লেয়ার ড্রাফট। এরপর আগামী ২৭ ডিসেম্বর
মাঠে গড়াবে বিপিএলের নতুন আসর।
এদিকে অনেক দিন ধরেই বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা দাবি জানিয়ে
আসছিলেন রাজস্বের ভাগ দিতে হবে। বিসিবির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ফারুক আহমেদও রাজস্ব
বণ্টনে বেশ ইতিবাচক ছিলেন। কিন্তু বিপিএলের আয়-ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা করে গতকাল শনিবার
বিসিবি কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় তিনি সব ফ্র্যাঞ্চাইজির কর্তাদের জানিয়ে দিয়েছেন, এবারও
রাজস্ব ভাগাভাগি করতে পারছেন না।
ফারুক আহমেদ বলেন, ‘বিপিএল ১০টি আসরের খেলা হয়ে গেলেও বাণিজ্যিকভাবে
সফল করতে পারেনি। ব্যক্তিগত লাভের জন্য কম মূল্যে টিভি স্বত্ব বিক্রি করে। নিজেরা প্রডাকশন
করার নামে বিশাল খরচ দেখিয়েছে বিগত বছরগুলোতে। অথচ পেশাদার প্রতিষ্ঠান বা সেটআপ দিয়ে
বিপিএল চালালে আর্থিকভাবে নিজেরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সঙ্গে রাজস্ব
ভাগাভাগি করতে পারত। সবচেয়ে বড় যে সমস্যা, টিভি স্বত্ব বিক্রি করে পুরো টাকা তুলতে
পারে না।’
জানা গেছে, রিটেইন ও ডাইরেক্ট সাইনিং মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৩ জন স্থানীয়
খেলোয়াড় নিতে পারবে দলগুলো। ড্রাফট শেষে দলে সর্বোচ্চ ১৪ জন স্থানীয় খেলোয়াড় নেওয়া
যাবে। এ ছাড়া ড্রাফটে থাকবে ৬টি ক্যাটাগরিÑ এ, বি, সি, ডি, ই ও এফ। যেখানে ‘এ’ ক্যাটাগরির
সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক ৬০ লাখ, সর্বনিম্ন এফ ক্যাটাগরি ১০ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া
‘বি’ ৪০, ‘সি’ ২৫, ‘ডি’ ২০ ও ‘ই’ ক্যাটাগরিতে থাকা ক্রিকেটাররা ১৫ লাখ টাকা পাবেন।