বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৪ ১৬:৫৭ পিএম
টেস্টের পর এবার শান্তদের টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ; ছবি: বিসিবি
টেস্ট মৌসুমের মাঝে হঠাৎ টি-টোয়েন্টির
দামামা। তবে ম্যাচটি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বলেই বাড়তি উত্তেজনা। বেশ কিছু বছর
ধরেই এই দুই দলের সিরিজ মানেই মাঠ ছাপিয়ে সমর্থকদের অনুভব করেন বাড়তি রোমাঞ্চ। যদিও
এই সিরিজের আগে অবসর ও বিশ্রাম মিলিয়ে ভারত তাদের সেরা খেলোয়াড়দের নামছে মাঠে। তবে ব্যাকআপ খেলোয়াড় হিসেবে যারা আছেন তারাও চাইবেন
নিজেদের প্রমাণ করতে। বিশেষ করে আসন্ন আইপিএলে নিজেদের দাম বাড়িয়ে নেওয়ার এটাই তো মোক্ষম
সুযোগ। যদিও অবসর নেয়ায় বাংলাদেশ শিবিরে নেই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তারপরও
অভিজ্ঞতার দিক থেকে (খেলোয়াড়দের ম্যাচ সংখ্যা বিবেচনায়) ভারতের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশই।
ভারত স্কোয়াডের অভিজ্ঞতায় ৩৮৯ ম্যাচ আর সেখানে
বাংলাদেশ স্কোয়াডের ঝুলিতে ৬৪৪ ম্যাচ।
আজ ভারতের গোয়ালিয়রে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি
সিরিজের প্রথম ম্যাচটি মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। সরাসরি সম্প্রচার
করবে গাজী টিভি। মাধবরাও সিন্ধিয়া ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৪ বছর পর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ
অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই ম্যাচ উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা দিতে যাচ্ছে ভারত। কানপুর টেস্টের
পর এই ম্যাচেও হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছে মৌলবাদী দল হিন্দু সভা। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থান
থেকে বিক্ষোভের সময় অন্তত ১৫জনকে আটক করেছে ভারতীয় পুলিশ। জানা গেছে, ম্যাচের দিন নিরাপত্তার
দায়িত্ব পালনে থাকবেন প্রায় ২৫০০ পুলিশ। এমন পরিস্থিতির মধ্যে গত শুক্রবার জুমার নামাজ
আদায় করতে মসজিদে যাননি বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।
চাপা উৎকণ্ঠার মধ্যে অবশ্য ম্যাচেই
ফোকাস দুই দলের ক্রিকেটারদের। ভারতের ঘোষিত এই দলের স্কোয়াডের ম্যাচ বিবেচনায় বেশ অভিজ্ঞ
বাংলাদেশ দল। তবে প্রতিপক্ষ দলটির অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব; এই ফরম্যাটে তিনি কী করতে
পারেন সেটি নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। দলে আছেন হার্দিক পান্ডিয়া এবং আর্শদ্বীপের
মতো শর্টার ফরম্যাটের কার্যকরী খেলোয়াড়েরাও। তবে দশটির চেয়েও কম ম্যাচ খেলা ক্রিকেটারদের
সংখ্যাই বেশি। নবাগত মায়াঙ্ক যাদব, নীতীশ কুমার রেড্ডি এবং হর্ষিত রানারা এখনো অভিষেক
ক্যাপ পরেননি।
ভারত তাদের মূল সারির পেসারদের রেখে
খেললেও এটা অবশ্যই বাংলাদেশ দল মাথায় রাখবে, মায়াঙ্ক সর্বশেষ আইপিএলে লখনৌয়ের হয়ে ঘন্টায়
১৫০ কিমি গতিতে বল করেছেন। এছাড়া ২০২৪ আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে জেতানো রানার
অভিষেক হতে পারে বাংলাদেশের বিপক্ষে। অলরাউন্ডার হার্দিক এবং শিভন দুবে পেস বোলিংয়ে
বৈচিত্র আনবেন বলাই যায়। সঙ্গে ওয়াশিংটন সুন্দর রবি বিষ্ণই ও বরুণ চক্রবর্তীর মতো
স্পিনাররা আছেন।
স্পিনিং বৈচিত্রে বাংলাদেশও কম যায়
না। টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলো ছড়ানো রিশাদ হোসেন ফিরছেন এই সিরিজে। নিশ্চিতভাবেই
অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সাকিবের অভাববোধ করবে বাংলাদেশ। তবে বাঁহাতি স্পিনে ভেলকি দেখাতে
পারেন তরুণ রাকিবুল হাসান। আছেন অফস্পিনিং অলরাউন্ডার শেখ মাহেদি হাসান। পেস অ্যাটাকে
তাসকিনের সঙ্গে ফিরছেন মোস্তাফিজুর রহমান। এদিকে লিটন দাস, মোস্তাফিজ, মাহমুদুল্লাহ
রিয়াদ ও মাহেদিরা খেলেছেন পঞ্চাশেরও বেশি ম্যাচ । এমনিক রিশাদ, তানজিম হাসান সাকিব
ও তানজিদ তামিমরাও প্রায় নিয়মিতই অংশ নিচ্ছেন জাতীয় দলে।
সর্বশেষ ৫টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে
শতভাগ জয় ভারতের। এদিকে সর্বশেষ খেলা পাঁচ ম্যাচের মধ্যে কেবল দুটিতে জিতেছে টাইগাররা।
শেষ তিন ম্যাচে আবার জয়হীন বাংলাদেশ। এই ফরম্যাটে ভারতের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ১৪টি
ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। যেখানে সর্বাধিক ১৩টি জয় ভারতের পক্ষে, আর একটি ম্যাচ জিতেছিল
বাংলাদেশ। সেটি অবশ্য ভারতের মাটিতেই। দিল্লিতে ২০১৯ সালে পাওয়া একমাত্র জয়ের নায়ক
ছিলেন মুশফিকুর রহিম। অবসর নেওয়ায় এবার তিনি নেই বাংলাদেশ দলে। তারুণ্যনির্ভর ভারতকে
হারিয়ে জয়ের সংখ্যাটা এবার বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে।