প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৪ ২২:৩৪ পিএম
বৃহস্পতিবার কাজী সালাউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন বাফুফের নির্বাহী কমিটির সভায় ১৩৩ ভোটারকেই অনুমোদন দেওয়া হয়। ছবি : বাফুফে
আগামী ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) নির্বাচন। এই নির্বাচন সামনে রেখে গত বুধবার নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়নের পর ফেডারেশনের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠায় পর্যালোচনা কমিটি। পরের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার কাজী সালাউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন বাফুফের নির্বাহী কমিটির সভায় ১৩৩ ভোটারকেই অনুমোদন দেওয়া হয়। একই দিনে গঠিত হয় নতুন নির্বাচন কমিশন।
নির্বাহী কমিটির সভা শেষে অবশ্য সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি সামনের নির্বাচনের অংশহগ্রহণ করতে না চাওয়া সালাউদ্দিন। বাফুফের নির্বাহী সভায় এদিন সরাসরি ১০ জন আর অনলাইনে উপস্থিত ছিলেন ৪ জন। সভায় সরাসরি উপস্থিত ছিলেন না কোনো ভাইস প্রেসিডেন্ট। ইমরুল হাসান থাকলেও তিনি যুক্ত ছিলেন অনলাইনে। ফেডারেশনের পদে থেকেও প্রায় অধিকাংশ সভায় বসুন্ধরা কিংসের এই সভাপতি অনলাইনেই যুক্ত থাকেন। সেটির রহস্য জানা যায়নি এদিনও। এ ছাড়া আরেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুস সালাম মুর্শেদী কিছুদিন আগেই পদত্যাগ করেছেন। বাকি তিনজন ভাইস প্রেসিডেন্ট মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, কাজী নাবিল আহমেদ, আতাউর রহমান খান মানিকরা পটপরিবর্তনের পর থেকেই আত্মগোপনে।
সভায় ভোটার তালিকা অনুমোদন ও নির্বাচন কমিশিন গঠন করা ছাড়াও নেওয়া হয় আরও কিছু সিদ্ধান্ত। তার মধ্যে আছে আসন্ন নারীদের সাফে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ, নভেম্বর উইন্ডোতে জামাল ভূঁইয়াদের খেলা নিশ্চিত করা এবং বাফুফে ভবন সংস্কার সম্পর্কিত বিষয়। জানা গেছে, এএফসির স্টেডিয়াম প্রজেক্টের আওতায় প্রায় দুই কোটি টাকা পেতে যাচ্ছে বাফুফে। সেই টাকা দিয়ে ভবনের সামনে মিডিয়া সেন্টার নির্মাণসহ আরও কিছু কার্যক্রম হাতে নিতে যাচ্ছে দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি। এদিন সাংবাদিকদের সামনে কমিটির পর ব্রিফিং করেন ফেডারেশনের নির্বাহী সদস্য সত্যজিত দাস রুপু। বাফুফের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পুরো ভবনে যে জায়গা আছে সেটা নতুন করে সাজানোর একটা পরিকল্পনা আছে। আগামীতে আমরা প্ল্যান করলে আপনাদের জানানো হবে।’
বিদায়ি সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের সভাপতিত্বে এদিন তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে। যার প্রধান নির্বাচন কমিশনার মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ। তার সহকারী হিসেবে থাকবেন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা একেএম এহসানুর রহমান ও সুরাইয়া আক্তার জাহান। এ ছাড়া আপিল কমিশনের প্রধান থাকছেন ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া। তার সঙ্গে কাজ করবেন হারুনুর রশিদ ও মিহির সারোয়ার মোর্শেদ। গত বুধবারের ভোটার তালিকা পর্যালোচনা কমিটিতেও ছিলেন তারা।
এদিকে বাফুফের আগের চারটি নির্বাচন কমিশনের প্রধান ছিলেন সাবেক আমলা মেজবাহ উদ্দিন। এবার তাকে রাখার ব্যাপারে রুপু দাস যুক্তি দিয়েছেন এভাবে, ‘গত চারটি নির্বাচনে উনি (মেজবাহ উদ্দিন) ওনার দায়িত্ব সুচারুরূপে পরিচালনা করেছেন, এজন্যই তাকে আবার সবাই প্রস্তাব করেছে এবং আবার তাকে নির্বাচন কমিশনার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ বিকল্প ছিল কি না জানতে চাইলে রুপু দাস বলেন, ‘যেহেতু ওনার নাম অ্যাপ্রুভ হয়ে গেছে তাই পরবর্তী সময়ে আর কারও নাম আসার প্রয়োজন হয়নি।’