× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আলোর খোঁজে আফগান নারী ক্রীড়াবিদরা

নজরুল ইসলাম

প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৪ ২২:০৬ পিএম

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৪ ২২:১৫ পিএম

 খেলাধুলায় তালেবানি নিষেধাজ্ঞায় আফগান নারী ক্রীড়াবিদদের অভিনব প্রতিবাদ

খেলাধুলায় তালেবানি নিষেধাজ্ঞায় আফগান নারী ক্রীড়াবিদদের অভিনব প্রতিবাদ

সারা বিশ্বেই চলছে নারীদের জয়জয়কার। কোনো ক্ষেত্রেই পিছিয়ে নেই এখন আর মেয়েরা। সমুদ্র তলদেশ থেকে সম্পদ আহরণ থেকে মহাকাশ জয়, প্রতিটি জায়গায় নারীদের রয়েছে দীপ্ত পদচারণা। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্য, আফগানিস্তানে কিন্তু এখন ভিন্ন চিত্র। সেখানে নারীরা যেন আলো থেকে ফিরে গেছে আঁধারে। প্রতিটি জায়গাতেই মেয়েদের ভূমিকা ছেঁটে ফেলেছে তালেবান সরকার। রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বলতে কিছুই নেই। শিক্ষা ও কাজে মেয়েদের সুযোগ সীমিত করে ফেলা হয়েছে। জনসমক্ষে চলাফেরাও করা হয়েছে সীমিত। এমনকি ঘরের বাইরে উচ্চস্বরে কথা বলা বা হাসাও নিষেধ। খেলাধুলা তো আরও দূরের ব্যাপার। আফগান নারীরা বলতে গেলে এক রকম ঘরবন্দি!

তালেবানরা ক্ষমতায় ফিরলেও আফগান নারীরা ফিরতে পারেননি খেলাধুলায়। অলিখিত নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে আটকে পড়েছেন তারা। মেয়েদের ঘরে আটকে রাখার কারণ কী? এ নিয়ে তালেবানদের ব্যাখ্যা, খেলাধুলায় মেয়েদের অংশগ্রহণ শুধু ‘অনুচিতই নয়, একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয়। কারণ খেলাধুলা করতে গিয়ে মেয়েদের পক্ষে শরীর এবং মুখ ঢেকে রাখা সম্ভব নয়, ফলে তা শরিয়াবিরোধী।’ ২০২১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তালেবান সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক উপমন্ত্রী আহমাদুল্লাহ ওয়াসিক বলেছিলেন কথাগুলো। এই পরিস্থিতির এখনও কোনো পরিবর্তন হয়নি।

পর্দার আড়ালে স্কেটবোর্ড হাতে এক নারী ক্রীড়াবিদ

তালেবান সরকারের ওই মন্ত্রী আশার বাণীও শুনিয়েছিলেন, মেয়েদের তখনই খেলার অনুমতি পাবেন, যখন তাদের জন্য ‘নিরাপদ’ একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য দীর্ঘ কয়েক বছরেও আফগান নারীরা দেশে কিংবা দেশের বাইরে কোথাও খেলাধুলায় ফিরতে পারেননি। ফিফা, আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি থেকে আইসিসির মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার নিষেধাজ্ঞা ও সদস্যপদ বাতিলের হুমকিও তালেবানদের টলাতে পারেনি।

নিষেধাজ্ঞা পেয়ে বাস্কেটবল, ফুটবল, হ্যান্ডবল, স্কেটবোর্ডার, বক্সিং, সাইক্লিংয়ে অভিনব প্রতিবাদও জানায় আফগানরা নারীরা। ফুটবল, হ্যান্ডবল, স্কেটবোর্ড, বক্সিং গ্লাভস-বেল্ট-পদক-ট্রফি, সাইকেল নিয়ে বোরকা পরিহিত নারীদের সেই ছবি বেশ আলোড়ন তুলেছিল ভার্চুয়াল জগতে। কিন্তু তাতে তালেবানদের মন গলেনি। কট্টরপন্থিরা ক্ষমতায় ফিরতেই ফুটবলার ও ক্রিকেটারদের সঙ্গে অন্যান্য নারী খেলোয়াড় আফগানিস্তান ছেড়ে প্রাণে বেঁচেছেন। কেননা তারা হত্যার হুমকি পেয়েছিলেন ফোনে-খুদে বার্তায়। যারা এখনও দেশে আছেন, তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে রয়েছেন লুকিয়ে। এমনকি তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সরব হতে পারছেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগের সব পোস্ট, ছবি ও লেখা মুছে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন। দেশের বাইরে যারা রয়েছেন তাদের চিত্রটা অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন।

বক্সিং বেল্ট, মেডেল ও ট্রফি হাতে নিয়ে প্রতিবাদে সামিল নারী বক্সার

ক্রিকেট ময়দানে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে আফগানিস্তান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গত আসরে শেষ চারের টিকিটও ছিনিয়ে নিয়েছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি। কুড়ি ওভারের বিশ্বমঞ্চে এটাই তাদের সেরা সাফল্য। সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তারা গড়েছে নয়া ইতিহাস। আফ্রিকার দলটির বিপক্ষে প্রথমবারের মতো জিতে নিয়েছে ওয়ানডে সিরিজ। আফগান পুরুষ ক্রিকেটাররা বীরত্বগাথা লিখে চললেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে নারী ক্রিকেটের নেই কোনো অস্তিত্ব। এ কারণে বিপাকে পড়েছে তাদের পুরুষ দলও। অস্ট্রেলিয়া তো তাদের বিরুদ্ধে ক্রিকেটের সব ধরনের সংস্করণেই সিরিজ খেলতে নারাজ। কারণটা তো সবারই জানা। তালেবান শাসন ফিরতেই যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে দেশটির নারী ক্রিকেট টিম। কিন্তু তাই বলে ক্রিকেট খেলার প্রতি আফগান নারীদের ভালোবাসার টানটা এখনও অটুট আগের মতোই। সেই আকর্ষণেই তারা আইসিসির দ্বারস্থ হয়েছিলেন মাঠে ফেরার আকুতি নিয়ে।

তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসায় দেশটির নারী ক্রিকেটারদের প্রায় সবাই দেশ ছেড়েছেন। এখন তারা ঘাঁটি গেড়েছেন অস্ট্রেলিয়াতে। তাসমান সাগর পারের দেশটিতে বিভিন্ন ক্লাবে খেলছেন তারা। ক্রিকেট বিশ্বের অভিভাবক সংস্থার কাছে এই আফগান নারীদের চাওয়া, অস্ট্রেলিয়া-ভিত্তিক শরণার্থী দল হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সুযোগ। এজন্য আইসিসি কাছের একটি খোলা চিঠিতে নিজেদের আর্জি জানিয়েছেন তারা। চিঠিতে আফগান নারী ক্রিকেটাররা লেখেন, ‘আমরা এই শরণার্থী দলটির মাধ্যমে পৃথিবীর সামনে প্রতিভার প্রমাণ রাখব। এর মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানে বসবাস করা নারীদের আশার আলো দেখাব। আফগানিস্তানে নারীদের প্রতি কী অমানবিক আচরণ হচ্ছে, সেটি দুনিয়ার সামনে তুলে ধরব। আমরা আফগানিস্তান পুরুষ দলের মতোই সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা রাখি।’

পর্দায় ঢাকা বাস্কেটবল খেলোয়াড়

কিন্তু আইসিসির দরজায় নক করেও কোনো লাভ হয়নি। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (এসিবি) সহায়তা ছাড়া তাদের ক্রিকেটারদের খেলার কোনো সুযোগ দিতে পারবে না। এমনটাই সাফ জানিয়ে দিয়েছে ক্রিকেট দুনিয়ার এ নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ‘আইসিসির কোনো সদস্য দেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সম্পর্ক কী হবে সেটা ওই দেশের বোর্ড দেখাশোনা করে। এতে আইসিসি জড়িত না। একইভাবে, কোনো দেশের নারী ও পুরুষ দলকে দিয়ে খেলানোর সিদ্ধান্ত ওই সদস্য দেশের বোর্ডের ওপর নির্ভর করে, আইসিসির ওপরে নয়।’

এদিকে এবারের প্যারিস অলিম্পিকে অংশ নেয় আফগানিস্তানের ছয় অ্যাথলেট। তিন পুরুষ ক্রীড়াবিদের সঙ্গে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে সমান তালে দ্যুতি ছড়িয়ে গেছেন তিন নারী অ্যাথলেটও। কিন্তু গভীরে পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, আফগান সরকার শুধু পুরুষ ক্রীড়াবিদদের দায়িত্ব নিয়েছিল। তবে হাল ছেড়ে আফগান নারী অ্যাথলেটরা আসরে নিজেদের অবস্থানের জানান দেন স্বমহিমায়, তবে নিরপেক্ষ অ্যাথলেট হিসেবে।

সাইক্লিংয়ে দ্যুতি ছড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে বাঁচতে চান এ আফগান নারী সাইক্লিস্ট

১৯৯৬-২০০১ সালে প্রথমবারের শাসনামলে নারীদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করেছিল তালেবানরা। সবকিছু থেকে বঞ্চিত করে দেশের মেয়েদের রাখা হয়েছিল ঘরবন্দি। এ কারণে ১৯৯৯ সালে আফগানিস্তানকে অলিম্পিক গেমসে নিষিদ্ধও করেছিল আইওসি। পরে তালেবানরা ক্ষমতাচ্যুত হলে আফগানিস্তান সদস্যপদ ফিরে পায়। আফগান নারী এখন অপেক্ষায় তেমন দিনের। কেননা ক্ষমতার পালাবদলই এখন কেবল পারে নারীদের খেলাধুলার অধিকার ও স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে। অন্যথায় তালেবানদের অধীনে অন্ধকার, পর্দার আড়ালে থেকে যেতে হবে অনাদি-অনন্তকাল! আফগান নারী ক্রীড়াবিদরাও একটু দমে যাচ্ছেন না তাতে। আঁধার কাটিয়ে আলোতে পা রাখতে যে যারপরনাই মুখিয়ে তারা। সেই আলো কবে আসবে? উত্তরটা যে পুরো দুনিয়ার কাছেই অজানা!

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা