× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

জ্যোতির শততম ম্যাচে রঙিন বাংলাদেশ

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৪ ২১:৩৪ পিএম

জ্যোতির শততম ম্যাচে রঙিন বাংলাদেশ

যার নামের অর্থ ‘ঐশ্বরিক আলো’, সেই জ্যোতির বিশেষ দিনে কোনো ঘটনা ঘটবে না, তা কী করে হয়! ব্যতিক্রম ঘটেনি! ক্যারিয়ারের শততম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ বিশেষভাবে রাঙিয়েছেন লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। তার নেতৃত্বে নারী বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ১৬ রানের এ জয়ে বড় বার্তাই দিয়ে রাখল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আলো ছড়ানো ম্যাচে মিলেছে কীর্তির দেখা, দূর হয়েছে ১০ বছরের আক্ষেপ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ধু ধু মরুতে জয়ের ফুল ফোটানো চ্যালেঞ্জের কথা জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নিগার সুলতানা। গ্রুপপর্বের বাধা পেরিয়ে সেমিফাইনালের স্বপ্নও দেখেছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার স্কটিশদের হারিয়ে সে যাত্রার শুরুটা হয়েছে আশা জাগানীয়া। যদিও জ্যোতির এটাকে অনেকেই দেখেছেন উচ্চাশা হিসেবেই। কারণ, ১০ বছর ধরে বিশ্বকাপে জয়হীন বাংলাদেশ। ২০১৪ সালের আসরে দুই ম্যাচে জিতেছিল বাংলাদেশ নন্দিনীরা। জয়ের গল্পের শুরুর সঙ্গে শেষও ছিল সেখানেই। এরপর গুনে গুনে শেষ হয় চারটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট। খেলা হয়েছে ১৬টি। কিন্তু একটিবারের জন্যও হারের বৃত্ত ভেঙে বেরোতে পারেনি টাইগ্রেসরা। তবে ২০২৪ সালে জ্যোতির বিশেষ দিনে হাসল বাংলাদেশ।

শারজার ম্যাচে বাংলাদেশের পুঁজি ১১৯ রান। টস জিতে সাবধানি শুরু করেছিলেন দুই ওপেনার সাথী রানী ও মুর্শিদা খাতুন। সুবানা মোস্তরিও ব্যাট চালিয়েছেন বেশ জোরে। ক্যাপ্টেন নিগারের তাল-লয় ঠিক ছিল। তবে অভিষেক ম্যাচে তাজ নেহারের অহেতুক রান আউট, স্বর্না আক্তার ও রিতু মনির অসহায়ত্ব বড় স্কোর থেকে বাংলাদেশকে বঞ্চিত করেছে। যদিও বাংলাদেশের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বেশ হাঁসফাঁস অবস্থা হয় স্কটিশদের। নির্ধারিত ২০ ওভার ব্যাটিং করেও তারা লক্ষ্য থেকে ১৬ রান দূরত্বে থামে। এর মূলে রিতু মনি-রাবেয়া ও নাহিদা আক্তারের দুর্দান্ত বোলিং। এক উইকেট তুলে নাহিদা কীর্তি গড়েন। প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে শততম উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। ৮৮টি ম্যাচ খেলে ৮৭ ইনিংসে এমন কীর্তি গড়লেন নাহিদা।

ভয়-শঙ্কা ও বাঁকে বাঁকে চমকের দিনে ম্যাচসেরা হয়েছেন রিতু মনি। স্কটিশদের ১০৩ রানে বেঁধে ফেলতে দারুণ ভূমিকা ছিল তার। কোটার ৪ ওভার বোলিং করে মাত্র ১৫ রান খরচ করেন তিনি। উইকেট টু উইকেট বোলিংয়ে এমন সফলতা পান রিতু। ম্যাচ শেষে বলেছেন সফলতার গল্প। ‘উইকেট খুব একটা খারাপ ছিল না। তবে আমি চেষ্টা করেছি ভ্যারিয়েশন বজায় রেখে উইকেট টু উইকেট বল করার। গত একটি বছর কঠিন পরিশ্রম করে প্রস্তুতি নিয়েছি। জয় পাওয়াটা সত্যিই অসাধারণ মুহূর্ত। এই মুহূর্তের জন্য নিজেকে এবং দলের জন্য গর্ব হচ্ছে।’

অধিনায়ক নিগার সুলতানার আনন্দটাও আরও চওড়া। ম্যাচ শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, আগে যা হয়নি এবার সেটিই করে দেখাবেন। দেখিয়েছেনও। তিনি বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই সময়ের জন্য অপেক্ষায় ছিলাম । আমরা বলাবলি করছিলাম এটাই এবং এখনই আমাদের সময় । এই ধরনের উইকেটে থিতু হওয়া দরকার ছিল। শুরুতে ব্যাট করা খুব একটা সহজ ছিল না। তবুও আমরা চেষ্টা করে গেছি।’

ম্যাচটি লো-স্কোরিং ছিল। ১১৯ রানও মনে হচ্ছিল বিশাল। তবে বাংলাদেশের শুরুর দিকে জুটি দেখে মনে হচ্ছিল স্কোর সমৃদ্ধ হবে আরও। এমনকি ১০ ওভারে যখন চায়ের বিরতিতে যায় তখন বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৬৮ রান। উইকেট পড়েছিল কেবল একটি। অথচ শেষ দশ ওভারে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে যোগ হয়েছে মোটে ৫১। উইকেট পড়েছে ৬টি। একটি জুটির অভাবে এমনটা হয়েছে বলে মনে করেন নিগার। তিনি বলেছেন, ‘একে তো থিতু হওয়া কষ্টকর ছিল। তার মধ্যে আমরা ভালো জুটি পাচ্ছিলাম না। বড় সংগ্রহের জন্য আমাদের জুটি লম্বা করা প্রয়োজন।’

রান আশানুরূপ না হলেও নিজ দলের বোলারদের প্রতি অগাধ বিশ্বাস ছিল জ্যোতির। কারণ, এখন পর্যন্ত দেশের যত জয়, যার মূলে বড় ধরনের ভূমিকা বোলারদের। ম্যাচ শেষে বলেছেন সে কথাই, ‘রান কম হয়েছে এটা সত্য। তবে আমাদের ভালো স্পিন অ্যাটাক ছিল। বিশেষ করে মারুফা বেশ ভালো বোলিং করেছে। দলের অন্য বোলাররাও সেরাটা দেখিয়েছেন।’

এদিন অভিষেক হয় তাজ নেহারের। তবে অভিষেক ম্যাচ রাঙাতে পারেননি এই ব্যাটার। রান আউট হয়ে মাঠ ছেড়েছেন স্কোরকার্ডে কোনো রান যোগ না করেই। এ নিয়ে নিগার বলেছেন, ‘তাকে নিয়ে আমাদের বিশেষ পরিকল্পনা ছিল। সবশেষ দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে সে দুর্দান্ত ব্যাট করেছে। দুঃখজনক তার শুরুটা ভালো হয়নি। তবে শেষ হাসি আমরাই হেসেছি।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা