প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৪ ১২:১৯ পিএম
আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৪ ১২:২২ পিএম
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে ৪-০ গোলে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে উড়িয়ে দিয়েছে পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকা। ম্যাচে গোল পেয়েছেন আর্জেন্টাইন বিশ্বকাপজয়ী তারকা অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। ছবি : সংগৃহীত
বুধবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রাত ছিল অঘটনের। লিলের মাঠে রিয়াল মাদ্রিদ হেরে গেছে সেটা তো জানা হয়েই গেছে। একই সঙ্গে হারল বায়ার্ন মিউনিখ, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদও। ভয়ঙ্কর রাতে বেঁচে গেছে অবশ্য লিভারপুল ও জুভেন্টাস।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে ঘরের মাঠে ৪-০ গোলে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে উড়িয়ে দিয়েছে পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকা। অপ্রত্যাশিতভাবেই স্পেনের ক্লাবটিকে পর্যুদস্ত করল অ্যাঞ্জেল দি মারিয়ার দল। ম্যাচের ১২ মিনিটে আকটুরকোগলুর গোলে এগিয়ে যায় বেনফিকা। ৫২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুন করেন দি মারিয়া। ৭৫ মিনিটে তৃতীয় গোলটি করেন অ্যালেক্সান্ডার বাহ। ৮৪ মিনিটে ওর্কুন কোচু পেনাল্টি থেকে গোল করে বেনফিকার ৪-০ গোলে জয় নিশ্চিত করেন।
ভিলা পার্কে বায়ার্ন মিউনিখের হারের যন্ত্রণা আরও বেশিই হওয়ার কথা। আগের ম্যাচেই ডায়নামো জাগরেবকে ৯-২ গোলে উড়িয়েছে ভিনসেন্ট কোম্পানির দল। হ্যারি কেইন করেছিলেন একাই চার গোল। কিন্তু স্বদেশে ফিরে ইংলিশ তারকাকে খুজেই পাওয়া গেল না ম্যাচে।
হিসাব বদলে চার দশক পুরোনো স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে অ্যাস্টন ভিলা। ১৯৮২ ইউরোপিয়ান কাপের ফাইনালে এই অ্যাস্টন ভিলার কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল বায়ার্ন। ৪২ বছর পর সেই একই ব্যবধানে ফের হারল জার্মান দলটি।
ম্যাচের ৭৯ মিনিটে মানুয়েল নয়্যারের মাথার ওপর দিয়ে বল পাঠিয়ে গোলটি করেন জন ডুরান। তবে ভিলার জয়ে বদলি নেমে গোল করা ডুরানের চেয়ে অবদান কম নয় এমিলিয়ানো মার্তিনেজের। এই আর্জেন্টাইন গোলকিপার ম্যাচে মোট ৭টি সেভ করেছেন। এর মধ্যে সার্জ জিনাব্রিকে দুবার আর হ্যারি কেইনকে একবার ‘প্রায় গোল’ থেকে বঞ্চিত করেছেন।
অঘটনের রাতে অল্পের জন্য বেচে গেছে জুভেন্টাস। লাল কার্ড দেখে ১০ জনের দল নিয়ে এই পরীক্ষায় পাস ইতালিয়ান জায়ান্টরা। আরবি লাইপজিগকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে জুভেন্টাস। এদিন জিততে অবশ্য বেশ ঘাম ঝরাতে হয়েছে তাদের। পিছিয়ে পড়েও দুরন্ত জয় তুলে নিয়ে ইতালির ক্লাবটি। বেঞ্জামিন সেসকো ম্যাচের ৩০ ও ৬৫ মিনিটে গোল করে এগিয়ে দেয় লেইপজিগকে। ম্যাচের ৫০ এবং ৬৮ মিনিটে জুভেন্টাসে হয়ে গোল করেন দুসান ভ্লাহোভিচ। ম্যাচে ইতালির দলটির হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন ফ্রান্সিসকো কোইনসাও।
এদিকে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুর্দান্ত এক রাত কাটালেন মোহাম্মদ সালাহ। নিজে গোল করলেন, করালেন সতীর্থকে দিয়ে। গড়লেন অ্যানফিল্ডের রেকর্ড। নামের পাশে জুড়লো আফ্রিকান রেকর্ডও। বুধবার সালাহময় রাতে বোরোনিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়েছে লিভারপুল। আসরে আর্নে স্লটের অধীনে দলের এটি দ্বিতীয় জয়।
অ্যানফিল্ডে বোলোনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ১১ মিনিটেই এগিয়ে যায় লিভারপুল। সালাহর বাড়ানো বল ধরে দলকে এগিয়ে দেন আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার। দ্বিতীয়ার্ধে ৭৫ মিনিটে সালাহ নিজেও পান গোল। এটি ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আসরে অ্যানফিল্ডের মাঠে সালাহর টানা পঞ্চম ম্যাচে গোল। লিভারপুলের হয়ে এমন কীর্তি আর কারও নেই।
ওই গোলে আরো একটা রেকর্ড গড়েছেন সালাহ। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে আফ্রিকান খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৫ গোল এখন তার, পেছনে ফেলেছেন ৪৪ গোল করা দিদিয়ের দ্রগবাকে।
এদিন ডায়নামো জাগরেবের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে আগের ম্যাচে বার্সেলোনাকে হারানো এএস মোনাকো। ম্যাচের ৪৫ মিনিটে পিচার সুচিচের গোলে এগিয়ে যায় জাগরেব, ৬৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুন করেন মার্টিন বাটুরিনা। এরপর ৭৪ মিনিটে ফ্রান্সের ক্লাবের হয়ে ব্যবধান কমান সালিসু। ৮৯ মিনিটি পেনাল্টি থেকে গোল করে মোনাকোকে সমতায় ফেরান ডেনিস জাকারিয়া।