নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৪ ০২:১৪ এএম
আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৪ ০২:১৯ এএম
মারুফা আক্তার
টাইগাররা পেস বোলিংয়ে বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছে অনেক আগেই। নাজমুল হোসেন শান্তরা এখন তিন পেসার একাদশে রেখে টেস্টে খেলতে নামতেও পিছুপা হন না। অথচ এমন একটা সময় গেছে, যখন একজন ভালো পেসারের অভাবে ভুগত লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আর এখন তো পেসারদের পালাক্রমে মাঠের বাইরে রাখার মতো অপশনও তৈরি হয়েছে দলে। তাসকিন আহমেদ-মুস্তাফিজুর রহমান-এবাদত হোসেন-হাসান মাহমুদ-শরিফুল ইসলামরা তো এখন বাংলাদেশের নারী পেসারদের প্রেরণার অফুরন্ত উৎস।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এবার মেয়েদের পেস বোলিংয়ে বিপ্লব ঘটানোর পালা। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মাঠে গড়াতে যাচ্ছে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তার আগে বাংলাদেশের নারী পেসার দিশা বিশ্বাস স্বপ্ন দেখালেন ছেলেদের মতো মেয়েদের ক্রিকেটেও পেস বোলিং পারফরম্যান্সে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার।
দিশা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখনও পা রাখেননি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়েই অভিষেকের অপেক্ষায় রয়েছেন ২০ বছরের এ তরুণী। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে ২০ ওভারের ক্রিকেটের এ বিশ্বমঞ্চে আয়োজক হয়েও দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে দেশের মেয়েদের ক্রিকেটারদের খেলতে হচ্ছে অতিথি হয়ে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে মোকাবিলা করবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে এখন শেষ সময়ের প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটাররা। দ্বিতীয় ও শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিয়েছে মেয়েরা। মরুভূমির দেশে পেস বোলিং নিয়ে আশার ফানুস ওড়ালেন দিশা, ‘আগে ছেলেদের দলে ১-২ জন পেসার থাকত, এখন সেটা ৪-৫ জন হয়ে গেছে। আমাদেরও এমন পারফরম্যান্স করতে হবে, যেন মেয়েদের একাদশেও ৩-৪ জন পেসার থাকতে পারে।’
দিশা একা নন। পেস বোলিংয়ে দুর্দান্ত কিছু করার স্বপ্ন বুনছেন তার অন্য তিন সতীর্থ পেসার জাহানারা আলম, মারুফা আক্তার ও রিতু মনিরাও। আশায় প্রহর গুনছেন ভালো কিছু উপহার দেওয়ার। বাংলাদেশের নারী টিমের পেস বোলিং কোচ তালহা জুবায়েরও আস্থা রাখছেন শিষ্যদের ওপর। তার বিশ্বাস, মাঠের লড়াইয়ে দাপট দেখাবেন তার দলের পেসাররা। ফেসবুকে বিসিবির শেয়ার করা এক ভিডিও বার্তায় মারুফা-দিশাতে যারপরনাই মুগ্ধ জাতীয় দলের সাবেক পেসার তালহা জানালেন, ‘মারুফার এই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হওয়ার মতো সামর্থ্য আছে। দিশা আমাদের ভবিষ্যৎ। ওকে যদি ঠিকঠাক দেখভাল করা যায়, তবে সে পরে আমাদের রেজাল্ট এনে দেবে।’
জাহানারাকে নিয়েও আশাবাদী তালহা। সিনিয়র এ পেসারকে বোলিংয়ে ফোকাস রাখার পরামর্শ দিয়েছেন কোচ, ‘ওর লাইন-লেংথ ধরে রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ, ধরে রাখতে হবে ফোকাসও। এ দুই কাজ করতে পারলে ও দলের সম্পদ হয়ে উঠবে।’
টি-টোয়েন্টির মহাযজ্ঞে জাহানারা-মারুফা-দিশাদের সঙ্গী হয়েছেন মিডিয়াম পেসার রিতু মনি। তাকেও প্রশংসায় ভাসালেন তালহা, ‘ও মোর অ্যাকুরেট। লাইন-লেংথ খুব ভালো, পেস বেশি নেই, তবে ব্যাটারকে খুব ভালো বোঝে এবং ফিল্ড সেটআপ অনুযায়ী বল করতে পারে।’ বাংলাদেশের পুরো পেস ব্যাটারি নিয়ে সব মিলিয়েই প্রত্যাশা একটু বেশি তালহার, ‘সামর্থ্য অনুযায়ী বল করতে পারলে পেস বোলিং ইউনিট হিসেবে খুব ভালো অবস্থায় থাকব।’ মাঠে পেস তোপ দাগানোর স্বপ্ন দেখালেন সিনিয়র পেসার জাহানারাও, সময় এবার পেসারদের দারুণ কিছু করার, ‘স্পিন বিভাগের সঙ্গে পেস বিভাগও অবদান রাখতে পারবে বলেই আশা করছি।’