উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৪ ১৬:৪৪ পিএম
মোহনীয় এক রাতের অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা। চ্যাম্পিয়নস লিগে আজ মঙ্গলবার রাতে বেশ ক’টি হাইভোল্টেজ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। বুন্দেসলিগার চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন লেভারকুসেনের লড়াই সিরি’আর রানার্স আপ এসি মিলানের বিপক্ষে। আর্সেনালের প্রতিপক্ষ প্যারিস সেন্ট জার্মেই। ম্যানচেস্টার সিটি খেলবে স্লোভান ব্রাতিস্লাভার বিপক্ষে। সিরি’আ লিগের সর্বোচ্চ শিরোপাধারী ইন্টার মিলান মোকাবিলা করবে রেড স্টার বেলগ্রেডের। বার্সেলোনার ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচে প্রতিপক্ষ ইয়াং বয়েস। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ভিন্ন মাঠে এসব ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে দলগুলো।
ঘরের মাঠ বে অ্যারিনাতে জাবি আলানসোর লেভারকুসেনের দ্বিতীয় জয়ের মিশনে প্রতিপক্ষ এসি মিলান। জয় দিয়েই নতুন সিজন শুরু করেছিল লেভারকুসেন। ফেনুর্ডের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে শুরুর পথ রাঙিয়েছিল তারা। মিলানকে দোরগোড়াতেই ধাক্কা দেয় লিভারপুল। তাই ম্যাচটি পাউলো ফোনসেকাদের জয়ের বিকল্প নেই। চ্যাম্পিয়ন লিগে অতীতে দুই দলের মুখোমুখির রেকর্ড না থাকলেও এই ম্যাচ যে উত্তেজনা ছড়াবে তা হলফ করে বলে দেওয়া যায়।
ঘরের মাঠ বলেই আলানসো একটু বেশিই আশা দেখছেন। ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘তাদের (এসি মিলান) বিপক্ষে খেলাটা সম্মানের। আমরা প্রস্তুত। একটি ভালো ম্যাচ হতে চলেছে। আশা করি জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ব।’ তিনি যোগ করেন, আমরা মানিয়ে নিয়েছি, আমাদের একটা পরিকল্পনা আছে। আমরা আমাদের খেলার ধরন সম্পর্কে জানি। এটি এমন একটি ম্যাচ হতে চলেছে, যেখানে আমরা মাঠ এবং মাঠের বাইরের শক্তিতে এগিয়ে।’ অবশ্য মিলানের শক্তিমত্তা নিয়েও প্রশংসা করেছেন স্প্যানিয়ার্ড, ‘তাদের ভালো গুণসম্পন্ন দ্রুতগতির ফুটবলার রয়েছে। একটি ভালো প্রতিযোগিতার আভাস পাচ্ছি।’ কোচের সঙ্গে সুর মিলিয়ে লেভারকুসেন ডিফেন্ডার জোনাথন টথ জানিয়েছেন, মিলানের বিপক্ষে আমরা শতভাগ দিতে প্রস্তুত। শুরুতে হোঁচট খেলেও ঘুরে দাঁড়ানোর মন্ত্র ভালোই জানা পাওলো ফনসেকার। স্তেফানো পিওলি দায়িত্ব ছাড়ার পর নতুন করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার কাজটাই করে যাচ্ছেন তিনি। গত ম্যাচে হারের পর তার বক্তব্য ছিল, খুব খারাপভাবেই হেরেছি। তবে এটাও জানি ভালো মুহূর্ত আসবে।’ অবশ্য ফনসেকাকে একটু দুশ্চিন্তা করতেই হবে। দলের নির্ভরযোগ্য আলভারো মোরতোকে নিয়ে কিছুটা সংশয় দেখা দিয়েছে। লিসেরে ম্যাচে মাসলের সমস্যায় পড়েছিলেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।
নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচটি একটু গুরুত্বপূর্ণ বার্সেলোনার জন্য। জার্মান কোচ হানসি ফ্লিকের অধীনে পাঁচ ম্যাচে জয়ের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে পা হড়কায় কাতালানরা। মোনাকোর বিপক্ষে হেরে বসে লেভানডভস্কি-রাফিনহারা। তাই ঘরের মাঠ ইস্তাদিওতে ঘুরে তিন পয়েন্ট ভাগিয়ে নেওয়ার সুযোগ লামিন ইয়ামালদের। বার্সার মতো ইয়াং বয়েজও নিজেদের শুরুর ম্যাচে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে হারের স্বাদ পায়। তারাও চাইবে কিছুটা গা ঝাড়া দিতে। এক্ষেত্রে অবশ্য কিছুটা কাঠখড় পোড়াতে হবে ইয়াং বয়েজকে। ম্যাচ শুরুর আগে সেটাই জানিয়ে রাখলেন কোচ ফ্লিক, ‘গত সিজনে আমরা শেষ পর্যন্ত গিয়ে হতাশ হয়েছি। এবারও শুরুতে ধাক্কা। প্রথম হার মাথা পেতে নিয়েছি। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাড়াবে ছেলেরা।’ তিনি যোগ করেন, ‘ধারাবাহিকভাবে আমরা সব ম্যাচে জয় চাই। জয়ের বিকল্প নেই।’
রাতের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর মধ্যে আর্সেনাল ও পিএসজির ম্যাচে উত্তাপ ছড়াতে পারে। প্রিমিয়ার লিগের রানারআপের চ্যাম্পিয়নস লিগে যাত্রা ড্র দিয়ে। প্রতিপক্ষ পিএসজি অবশ্য জিতেছে। টেবিলে অবস্থান জানান দিতে তাই জয়ে পাখির চোখ করবে দুই দলই। সব মিলিয়ে এটি দুই পক্ষের চতুর্থবারের মতো দেখা। যাতে একবারের জন্য জয় পায় লুইস এনরিকের দল। একটি জয় ভাগে পেয়েছে আরতেতারা। বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। এমিরাত স্টেডিয়ামে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই তাই কোন দিকে যায়, সেটাই দেখার বিষয়।
গতবারের চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টারকে শুরুর ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছিল। তাই পেপ গার্দিওয়ালাদের বার্টিসলাভার মাঠ থেকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট আনার বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে দলের নির্ভরযোগ্য কেভিন ডি ব্রুইন, রদ্রি ও নাথান একে কে ইনজুরির কারণে না পেলেও হালান্ড-পোডেনে ভরসা রাখতে পারেন পরাসি কোচ। আর এফসি ক্রাভিনা বেলগ্রেডের বিপক্ষে সিরি আ’র চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলানের। কারণ, তারাও সিটির মতো প্রথম ম্যাচে পূর্ণ পয়েন্ট পেতে ব্যর্থ হয়েছে। দুই লিগের চ্যাম্পিয়নদের প্রথম লড়াইটি হয়েছে ড্র। দুই দলেরই তাই দ্বিতীয় ম্যাচ রাঙানোর মিশন।
৩৬ দলের চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন আসরে একটি করে ম্যাচ খেলেছে দলগুলো। ১৫ দল দেখেছে জয়ের দেখা, সমপরিমাণ দল হেরেছে। তিনটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।