সাফ অ-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:৫৯ পিএম
ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল ছিল বাংলাদেশের জন্য এক অর্থে প্রতিশোধ মিশনও। এবারের আসরেই গ্রুপপর্বে হার। গত বছরও প্রতিবেশীদের বিপক্ষে হেরে ট্রফি হাতছাড়া হয়েছিল বাংলাদেশের। কিন্তু হলো না এবারও। ফাইনালে সেই ভারতের কাছে হেরেই হৃদয়ভঙ্গ হলো বাংলাদেশের। আর বয়সভিত্তিক সাফের ষষ্ঠ শিরোপা ঘরে তুলল প্রতিবেশী দেশ ভারত।
সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভুটানের থিম্পুর চ্যাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় অনূর্ধ্ব-১৭ সাফের ফাইনাল। যেখানে
বাংলাদেশকে ২-০ গোলে হারায় ভারত। দুটি গোলই হয়েছে খেলার দ্বিতীয়ার্ধে। মোহাম্মদ কাইফ
দলকে এগিয়ে দেওয়ার পর যোগ করা সময়ের অন্তিম সময়ে বাংলাদেশের জাল কাঁপান মোহাম্মদ আরবাস।
এ নিয়ে বয়সভিত্তিক সাফের এই ক্যাটাগরিতে পরপর শিরোপা জিতল ভারত। ২০২৩ সালের এমনই এক
সেপ্টেম্বরে ঠিক একই ব্যবধানে এবং একই স্টেডিয়ামে বাংলাদেশকে হারিয়ে সাফের ট্রফি জিতেছিল
ভারত। দলটি এবারও টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই খেলেছে দুর্দান্ত। গ্রুপপর্বের দুই ম্যাচেই
চার গোল করা ভারত সেমিফাইনালে নেপালের জালে বল পাঠায় চারবার। তাদের বিপক্ষে ফাইনাল
জেতাটা মোটেও সহজ হবে না বলে আগেই দলকে সতর্ক করেছিলেন কোচ সাইফুল বারী। পাকিস্তানকে
হারানোর পর বলেছিলেন, জিততে হলে গোলের সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না।
কিন্তু এদিন বাংলাদেশের
খেলায় সেই সতর্কতা কিংবা গোল করার স্পৃহা দেখা যায়নি খুব একটা। সেট পিসের দুর্বলতা
ফুটে উঠেছে এ দিনও। সেটির ফায়দা নিয়েছে ভারত। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে ভারত যে গোলে এগিয়ে
যায় সেটি ছিল কর্নার কিক থেকেই। ভারতের অধিনায়ক মাতের কর্নারে সরাসরি হেডে জালে বল
জড়ান রাইট ব্যাক কাইফ। ভারত অবশ্য গোল পেতে পারত আরও আগেই। ৩১ মিনিটে ভারতের একটি ফ্রি
কিক বাংলাদেশের বক্স ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। গোলরক্ষক নাহিদুল ইসলামের কিছুই করার ছিল না।
বাংলাদেশ এই ম্যাচে
সবচেয়ে বড় সুযোগটা পায় খেলার ৬৮ মিনিটে। বদলি হিসেবে নামা মোহাম্মদ জয় আহমেদের পাস
বেরিয়ে যায় ভারতের রক্ষণ চিঁড়ে। বক্সের ডান প্রান্ত দিয়ে বল পেয়ে যান বাংলাদেশের অধিনায়ক
নাজমুল হুদা ফয়সাল। কিন্তু ওয়ান বাই ওয়ান চান্সে ভারতের গোলরক্ষক সুরাজ সিংকে পরাস্ত
করতে পারলেন না এই ফরোয়ার্ড, অনেকটা ফাকা পোস্ট থাকতেও গোলরক্ষকের শরীর বরাবর মারেন
ফয়সাল। সুযোগ হাতছাড়ার পর তাকে তুলে নেন কোচ সাইফুল বারী। অভিষেক হয় মেহেদি হাসানের।
এই ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধেই তিনবার বদলি নামান কোচ। কিন্তু খেলায় তাতে প্রভাব পড়েনি।
শেষ ১০-১৫ মিনিটে গোলের জন্য মরিয়া হলেও কার্যত কোনো পরিকল্পিত আক্রমণ শানাতে পারেনি
বাংলাদেশ। এলোমেলো ফুটবল আর ভুল পাসই দেখা গেছে এ সময়। যোগ করা সময়ের ৯৩ মিনিটেই যেমন
বাংলাদেশের এক ফুটবলার বক্সে বল পেয়েও গোলে জোড়ালো শট নিতে পারলেন না।
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ
সময়ে এ রকম সুযোগ হাতছাড়া হলে ম্যাচ জেতা যাবে না। ট্রফি জিততে হলে সুযোগ কাজে লাগাতে
হবে। এই দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে এমনই শঙ্কা ছিল কোচ সাইফুল বারীর। শেষ পর্যন্ত কোচের
আশঙ্কাকেই বাস্তবে রূপ দিলেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা।