প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৩:১৫ পিএম
বেন ডাকেট ও হ্যারি ব্রুকের দারুণ ইনিংসের পর শেষদিকে লিয়াম লিভিংস্টোনের তান্ডবে বিশাল সংগ্রহ পায় ইংল্যান্ড। সে লক্ষ্য তাড়ায় নেমে অস্ট্রেলিয়া ব্যাটারদের সহজেই কাবু করলেন ম্যাথিউ পটস, ব্রাইডন কার্সরা। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে অজিদের ১৮৬ রানে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ২-২ ব্যবধানে সমতা আনল ইংল্যান্ড।
লর্ডসে গতকাল শুক্রবার পাঁচ ম্যাচ সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডে ম্যাচ বৃষ্টির কবলে পড়ে। পরবর্তীতে ১১ ওভার কেটে রাখা হয়। ৩৯ ওভারের খেলায় আগে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩১২ রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড। জবাবে স্রেফ ১২৬ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ব্রিস্টলে আগামীকাল সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডে।
লর্ডসে ওয়ানডে হচ্ছে ১৯৭২ সাল থেকে। এই ৫২ বছরের মধ্যে লর্ডসে দ্রুততম ওয়ানডে ফিফটির নতুন রেকর্ড গড়েছেন লিভিংস্টোন। ২৭ বলে ৬২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পথে ২৫ বলে ফিফটি তুলে নেন ডানহাতি এই ব্যাটার। এর মধ্যে মিচেল স্টার্কের করা ইনিংসের শেষ ওভারে চার ছক্কাসহ একাই তুলেছেন ২৮ রান! ছেলেদের ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার কোনো বোলারের এটাই সবচেয়ে ব্যয়বহুল ওভার।
টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামা ইংল্যান্ডের হয়ে বড় সংগ্রহের ভিত গড়েছেন অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ও বেন ডাকেট। ৫৮ বলে ৮৭ রানের ইনিংস খেলেন ব্রুক এবং ওপেনার ডাকেটের ব্যাট থেকে এসেছে ৬২ বলে ৬৩। ৩৭ বলে ফিফটি তুলে নেওয়া ব্রুক তৃতীয় উইকেটে ডাকেটের সঙ্গে ৫৩ বলে ৭৯ এবং চতুর্থ উইকেটে জেমি স্মিথের সঙ্গে ৪৭ বলে ৭৫ রানের জুটি গড়েন। শেষ ১৫ ওভারে ১৫৬ রান তুলেছে ইংল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৬৬ রানে ২ উইকেট লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পার।
বড় রান তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে শুরুটা ভালো করেছিলেন দুই ওপেনার ট্রাভিস হেড ও মিচেল মার্শ। ৮.৪ ওভারে হেড (২৩ বলে ৩৪) আউট হওয়ার আগে মার্শের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে যোগ করেছেন ৬৮ রান। কার্স হেডকে ফিরিয়ে দেওয়ার পরের ওভারে স্টিভেন স্মিথকে ড্রেসিংরুমের পথ দেখান পটস। এরপর ১২ থেকে ১৬ ওভারের মধ্যে আরও ৪টি উইকেট হারিয়ে জয়ের পথ থেকে ছিটকে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।
চোট থেকে ফেরা ইংল্যান্ড পেসার জফরা আর্চার মার্শ ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের উইকেট পাওয়ার পাশাপাশি ৯৩ মাইল গতিতে বোলিংও করেছেন। তবে দিনটা ছিল পটসের। ৩৮ রানে ৪ উইকেট তাঁর ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে কোনো ফিফটি নেই। সর্বোচ্চ ৩৪ রান এসেছে হেডের ব্যাট থেকে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড: ৩৯ ওভারে ৩১২/৫ (ব্রুক ৮৭, ডাকেট ৬৩, লিভিংস্টোন ৬২*, স্মিথ ৩৯, সল্ট ২২; জাম্পা ২/৬৬, মার্শ ১/২৭, হ্যাজলউড ১/৪০, ম্যাক্সওয়েল ১/৩০)।
অস্ট্রেলিয়া: ২৪.৪ ওভারে ১২৬ (হেড ৩৪, মার্শ ২৮, ক্যারি ১২; পটস ৪/৩৮, কার্স ৩/৩৬, আর্চার ২/৩৩)
ফল: ইংল্যান্ড ১৮৬ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: হ্যারি ব্রুক (ইংল্যান্ড)।
সিরিজ: পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২–২ ব্যবধানে সমতায় ইংল্যান্ড।