প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:২৯ পিএম
আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:৫০ পিএম
অক্টোবরে ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আসন্ন সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলে সাদা পোশাকের ক্রিকেটকে বিদায়ের ইচ্ছাপোষণ করেছেন টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। যদি তাকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া হয়, তাহলে তিনি ঘরের মাঠেই শেষ টেস্ট খেলতে চান। তবে সাকিবকে বাড়তি নিরাপত্তা দিতে অপরাগতা জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) কানপুরে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নামার আগেরদিন টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন সাকিব। এদিকে মিরপুরে বিসিবির পরিচালকদের সভা শেষে বেরিয়ে সাকিবের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদের হাতে নেই। তাকেই (সাকিব) এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বোর্ড থেকে এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারব না।’
সাকিবের নিরাপত্তার ব্যাপারটি যে বিসিবির হাতে নেই সেটিই মনে করিয়ে দিয়েছেন ফারুক। বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে আসতে হবে বলেই মনে করেন তিনি, ‘ নির্দিষ্ট একজনকে ব্যক্তিগতভাবে নিরাপত্তা দেওয়ার সামর্থ্য নেই বিসিবির। নিরাপত্তার বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে আসতে হবে। বিসিবি কোনো এজেন্সি না, পুলিশ না, র্যাব না। সরকারের তরফ থেকে নিরাপত্তার ব্যাপারটি আসতে হবে।’
বিসিবি সভাপতি অবশ্য খুব করেই চান সাকিব তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ টেস্টটি দেশের মাটিতে খেলুন, ‘সাকিব যদি এখান থেকে শেষ টেস্ট খেলতে পারে, ওর মতো আমিও বিশ্বাস করি এর থেকে ভালো কিছু হতে পারে না।’
সাকিবের অবসর ঘোষণা তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত বলেই মনে করেন বিসিবি সভাপতি, ‘সাকিব এ মুহূর্তে তার জীবনের খুব বাজে সময় পার করছে। তাকে বোঝানোর চেষ্টা করিনি। সে মনে করেছে অবসর নেওয়ার এটাই সঠিক সময়। আমি তার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই। আমার দিক থেকে ওর জন্য খুব বেশি কিছু বলার নেই।’
গত জানুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া সাকিব গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশেই ফিরতে পারেননি। এর মধ্যেই তিনি পাকিস্তানে দেশের হয়ে টেস্ট খেলেছেন, এখন ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে দলের সঙ্গে আছেন। পাকিস্তানে খেলে ইংল্যান্ডে গিয়ে সারের হয়ে খেলেছেন কাউন্টি ক্রিকেটও। সরকার পতনের পর সাকিবের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দেশে ফিরলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে কি না, সে নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উৎকণ্ঠিত সাকিব। গ্রেপ্তার করা না হলেও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর পরিবার বাস করে। সব দিক দিয়েই নিশ্চয়তা চান সাকিব। নিরাপত্তার পাশাপাশি বাংলাদেশে গেলে পরিবারের কাছে ফেরার নিশ্চয়তা। সেটি সরকার বা বিসিবির উচ্চপর্যায় থেকে নিশ্চিত হোক, এটাই চাওয়া সাকিবের।