হেলাল নিরব
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৬:২০ পিএম
আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৬:২৩ পিএম
টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় বলেছেন সাকিব— সংগৃহীত ছবি
‘প্রেম ধীরে মুছে যায়, নক্ষত্রেরও একদিন মরে যেতে হয়’—কবিতাটির পরের লাইনেই জীবনানন্দ দাশ প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘হয় নাকি?’ হয়তো হয়, হতে তো হবেই। সাকিব আল হাসানেরও থামতে হত, ক্রিকেট ছাড়তে হত একদিন। সেই একদিনের শুরুটা হয়েই গেল! এবার মহা নায়কের প্রস্থানের ক্ষণগণনা।
সাকিব একবার বলেছিলেন, ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলবেন। এরপর একে একে বিদায় বলবেন ক্রিকেটকে। তবে অনেকটা বাধ্য হয়েই যেন থেমে গেলেন সাকিব। ব্যাট কথা শুনছে না, মনমর্জি করেছে বল। শরীরও দিচ্ছে না সায়। অফ ফর্মের সাকিবকে নিয়েও কত প্রশ্ন, আনফিট অলরাউন্ডারকে নিয়ে হাজারও সমালোচনা।
চেন্নাইতে কদিন আগে প্রশ্নও উঠেছিল, ‘সাকিব কি তবে বাদ পড়তে যাচ্ছেন?’ সাহসী সেই প্রশ্নের একটিই জবাব ছিল, ‘না!’ সাকিব থাকছেন, থাকলেও খুব বেশি দিন না। আঙুলের কড়ে গুনে বলা যাবে, কতদিন মাঠে দেখা যাবে তাকে৷ আর কদিন পরেই টি-টোয়েন্টির পর টেস্টেও সাকিব বনে যাবেন সাবেক।
টি-টোয়েন্টিতে আমি শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছি। মিরপুর টেস্টে (দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে) খেলতে পারলে সেটি হবে আমার শেষ টেস্ট।
— সাকিব আল হাসান, বাংলাদেশের ক্রিকেটার
আজ ভারতের কানপুরে সাকিব শেষের শুরু বলে দিয়েছেন। কথায় আছে— ‘তখনই ছেড়ে যাও, যখন তোমাকে সবাই চাইবে৷’ সাকিবকে খুব চেয়েছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। অলরাউন্ডার না হোক শুধু ব্যাটার হিসেবে হলেও দলে থাকুক। বিসিবির সেই চাওয়া ফুরাল। সাকিব শেষ বলে দিয়েছেন, ‘আমার মনে হয় টি-টোয়েন্টিতে আমি শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছি। মিরপুর টেস্টে (দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে) খেলতে পারলে সেটি হবে আমার শেষ টেস্ট।’
টেস্ট—টি টোয়েন্টির পাঠ তো চুকল, ওয়ানডেতে কি থাকবেন সাকিব? চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলবেন? প্রশ্নের পিঠে প্রশ্ন জমছে। সাকিবের একসময় থামতেও হবে। কিন্তু সাকিবের চোখে দেখা স্বপ্নগুলো তো স্বপ্ন হয়েই থাকছে। ভারতে মঞ্চ প্রস্তুত ছিল। তামিম বেঁকে বসায় সেবার সাকিব হন ওয়ানডে অধিনায়ক। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে এরপর ভুলে যাওয়ার মতো স্মৃতি। স্মরণকালের সবচেয়ে বাজে বিশ্বকাপ বলতেও কুণ্ঠা করেননি সাকিব।
এরপর কত চড়াই উৎরাই। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আরেকটি ব্যর্থতা। চোট, সমালোচনা এবং মামলা— ঘুরে ফিরে সেই স্বপ্নের সামনে সাকিব। তিনি তো থামছেন, কিন্তু তার দেখা স্বপ্নের কী হবে। ‘আমরা একদিন বিশ্বকাপ জিতব’, বুক চিতিয়ে বলার মতো অমন কেউ কি আসবেন। আসতে পারেন, হয়তো আসবেনও। কিন্তু আরেকজন সাকিব আসবেন না।
একজন নিরেট অলরাউন্ডার রেখে যাচ্ছেন অনেক কিছুর ছাপ। মেহেদি হাসান মিরাজ, নাজমুল হোসেন শান্ত কিংবা লিটন দাসদের মাঝে গড়ে দিয়েছেন নেতৃত্বের বীজ। তরুণদের মনে বুনে দিয়েছেন ‘সাকিবের মতো হওয়ার’ ইচ্ছা। সেই ইচ্ছাশক্তিই দেশের ক্রিকেটকে ভাসিয়ে নেবে অনেকদূর। মহা নায়ক আপনাকে মনে রাখা হবে৷ রাখতেই হবে।
খেরোখাতায় হিসেবটা টানা যাক— ব্যক্তি সাকিব কী পেলেন? এতশত অর্জন যার, কতশত রেকর্ড— সেই সাকিবের দলগত অর্জনের ঝুলিটা বলতে গেলে ফাঁকা। ব্যক্তিগত অর্জন ছাড়া নেই অমন কিছুও। ২০১১ সালের পর ২০২৩ সালে অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপে ছিলেন ব্যর্থ। বাকি সবার মত তিনিও আশা দেখিয়েছিলেন। কিন্তু আক্ষেপ হয়ে ঝড়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও যাচ্ছেতাই। সাকিব বরং আক্ষেপ করতে পারেন, ‘ইস হলো না। একজীবনে হয়তো হবেও না।’
বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে ‘অবসর’ প্রসঙ্গে সাকিব বলেছিলেন, ভবিষ্যৎ কী হবে তিনি জানেন না। হয়তো পরের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও থাকবেন, অধিনায়ক হিসেবেও হয়তো। কিন্তু স্বপ্নগুলো? গানের ভাষায় বললে, ‘সাকিবের স্বপ্নগুলো স্বপ্ন হয়েই রয়।’ থেকেও যাবে হয়ত। এক জীবনে কি আর এমন হয়!