কানপুর টেস্ট
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৮:০৩ পিএম
আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৮:৪৭ পিএম
কানপুর টেস্টের আগের দিন সংবাদসম্মেলনে কথা বলেছেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। ছবি- আ. ই.আলীম
ছিল শঙ্কা। আকাশ ডেকেছিল মেঘে। চোট এবং পারফরম্যান্স— দুই মিলিয়ে কানপুর টেস্টে সাকিব আল হাসান খেলা নিয়ে তৈরি হয় ধুম্রজাল। তবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচের আগে বাংলাদেশের কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে সাফ জানিয়েছেন, ভারতের বিপক্ষে কানপুরে খেলতে বাধা নেই সাকিবের। এমনকী সাবেক অধিনায়কের অপফর্ম নিয়েও চিন্তিত নন হাথুরু। বরং তার কাছে মনে হয়েছে, সবাই শতভাগ উপহার দিতে কানপুরে ভালো ফল সম্ভব।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার কানপুর শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট। আজ হালকা গা গরমের মিশনে নেমেছিল সফরকারী দল। এদিন দলের কন্ডিশন এবং সাবেক অধিনায়ক সাকিবকে নিয়ে কথা বলেন বাংলাদেশের হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা হাথুরু। টাইগার কোচ বলেন, 'আমি সাকিবের পারফরম্যান্স নিয়ে মোটেও হতাশ নই। গোটা দলের পারফরম্যান্স আরও ভালো হতে পারত। আমরা আরও ভালো করতে পারতাম। নিশ্চিত সেও জানে, তার আরও ভালো পারফর্ম করা উচিত। তার সামর্থ্য সবাই জানে। আমার মতে, দ্বিতীয় ইনিংসে সে সত্যিই ভালো ব্যাটিং করেছে। এমন না যে সে তার সেরা সময়ে নেই। '
চিপকে প্রথম ইনিংসে সাকিব ৬৪ বলে করেন ৩২ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেন ৫৬ বলে ২৫ রানের ইনিংস। ব্যাটিংয়ের সময় হেলমেটের স্ট্র্যাপ কামড়ে রাখা, চোখের সমস্যা ও শরীরী মুভমেন্ট স্পষ্ট ছিল। যা অনেকের কাছে দৃষ্টিকটু ঠেকেছে। সাকিব বোলিংওয়েও ছিলেন যাচ্ছে-তাই। প্রথম ইনিংসে খরচ করেছেন ৭৯ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫০ রান। এতসবের পরও তারকা অলরাউন্ডারকে নিয়ে কুণ্ঠা নেই কোচের। বরং তিনি জানালেন, প্রিয় ছাত্রের দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে বাধা নেই।
এক সাকিবই নন, চিপকে সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিম। তাদের আসা-যাওয়ার মিছিলে কেবল নাজমুল হোসেনের বাঁশির সুর ওঠে। শান্ত দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ১২৭ বলে ৮২ রান। বলার মতো পারফর্ম তিনিই করেন। ব্যাটারদের ব্যর্থতা নিয়ে অবশ্য চাপা ক্ষোভ শ্রীলঙ্কান কোচের। ঘাটতি ও শূন্যস্থান পূরণে অবশ্য অনুশীলনে কাজ করেছেন তিনি। সমস্যা সমাধানে করেছেন মিটিং, চবক দিয়েছেন শিষ্যদের। হাথুরু বলেন, 'যা নিয়ে আমরা কথা বলছি তা হলো মাঝের ওভারগুলোতে আরো ভালো করতে পারি কিনা। আমরা জানি আমরা কি চাই। সাধারণত আমরা বলি আপনি যদি শুরু পেয়ে যান, ইনিংস বড় করেন, তবে ভালো কিছু সম্ভব।' শান্তদের কোচ চিন্তিত অবশ্য আরো একটি কারণে,'সবচেয়ে চিন্তার ব্যাপার হচ্ছে, কয়েকজন ৩০ বল করে খেলে ফেলে, এরপর ক্রিকেটে যা উচিত তা হচ্ছে, আরও সামনে এগিয়ে নেওয়া। ভারতে অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে আমাকে পড়তে হচ্ছে, সেটাও আমরা জানি। তাই আমাদের লম্বা সময় ধরে ব্যাটিং করে যাওয়া উচিত।'
চিপকের লাল মাটির গতিময় বাউন্সি উইকেটে রীতিমতো খাবি খেয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটাররা। কানপুরে কেমন উইকেট হতে পারে, এ নিয়ে কথা হচ্ছে ঢের। ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গ্রিন পার্কের এ পিচটি হয়তো র্যাঙ্ক টার্নার হবে না। চেন্নাইয়ের লাল মাটির বদলে এখানে কালো মাটির উইকেট থাকবে। বাউন্স বেশি হবে না এবং বল বেশি ক্যারি করবে না। প্রথম টেস্ট নিয়ে টাইগারদের প্রধান কোচ বলেন, 'পেস বান্ধব উইকেট দেখে আমি অবাক হইনি, কারণ জানি তারা কেন এমন করছে। আমরাও আমাদের দেশে খেলা হলে প্রতিপক্ষ অনুযায়ী স্পিন কন্ডিশন সাজাই। প্রতিপক্ষের শক্তি, নিজেদের শক্তি, প্রতিপক্ষের দুর্বলতা এসবের ওপর নির্ভর করে উইকেট তৈরি করা হয়। উপমহাদেশ বলে শুধু স্পিন নয়, চাইলে পেস নির্ভর উইকেটও তৈরি করা যায়।' আর কানপুরের টেস্ট নিয়ে তিনি বলেন, 'পিচ একটু দেখেছি। মাঠকর্মীরা দুটি পিচ তৈরি করছে। কোনটা বেছে নেওয়া হবে জানি না। কাল এসে হয়ত দেখতে হবে। আমাদের মনে হয় এটাই আমাদের সেরা কম্বিনেশন, হোক ডানহাতি বা বাঁহাতি। একাদশে পরিবর্তন নির্ভর করছে কাল উইকেট দেখার ওপর।'
পাকিস্তানকে তাদের মাটিকে হোয়াইটওয়াশ লজ্জায় ডুবানোর পর বাংলাদেশকে নিয়ে বেশ আলোচনা হয়। ক্রিকেট মহারথীরা ভক্তিতুল্যে নিয়ে গিয়েছিলেন সাকিব-শান্তদের। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নম্বর ওয়ানদের হারিয়ে দেবে, ঘোল খাইয়ে দেবে, এমনও বলেছিলেন কেউ কেউ। অবশ্য আশার বেলুন চুপসে গেছে অল্পতেই। প্রথম টেস্ট ২৮০ রানে হেরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধি দল। তবে স্বপ্নের যে মৃত্যু নেই, সে কথাই হয়তো অন্তরে ধারণ করা সফরকারীদের। তাই হয়তো, এখনো স্বপ্ন দেখছেন শান্তরা। এর জন্য মাঠেও শতভাগ উজাড় করে দিতে হবে টাইগারদের, সেটাও ভুললে চলবে না।