প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:২২ পিএম
আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:৪৯ পিএম
আগেই ঘটে। দুই
ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের করে নেয় আফগানিস্তান। ফলে দুবাইয়ের শারজাহর রবিবারের ম্যাচটি
ছিল কেবল নিয়ম রক্ষার। তার চেয়েও বরং দক্ষিণ আফ্রিকার মান বাঁচানোর। লো স্কোরিং ম্যাচে
অবশ্য বড় জয় পেয়েছে প্রোটিয়ারা। তবে ২০২৩ সালে বাংলাদেশবধের পর দ্বিতীয়বার কোনো বড়
দলের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতল আফগানরা।
তিন ম্যাচের সিরিজের আগে আফগানিস্তানের
বিপক্ষে শতভাগ জয় ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। এক দিনের ম্যাচে দুইবারের মুখোমুখিতে ফল যায়
টেম্বা বাভুমাদের পক্ষে। তবে প্রোটিয়ারা মুদ্রার উল্টো পিঠ থেকে দুবাইয়ে এসেছে। সিরিজের
প্রথম দুই ম্যাচে হেরে বসে প্রোটিয়ারা। গত বুধবার প্রথম ওয়ানডেতে ছয় উইকেটে জেতে আফগানরা।
পরের ম্যাচে অর্থাৎ শুক্রবার দ্বিতীয় ম্যাচেও ব্যাটে-বলে প্রোটিয়াদের ওপর চড়ি ঘোরায়
রশিদ খানরা। রেকর্ড ১৭৭ রানে জয় নিশ্চিত করে তারা। অবশ্য তৃতীয় ম্যাচে আফগানরা আর পেরে
ওঠেনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার এমন হাপিত্যেশ
পারফরম্যান্সের জন্য অনভিজ্ঞ দল পাঠানোকে দায়ী করছেন অনেকেই। তবে দলটির অধিনায়কের মতে,
সঠিক সময় ব্যাটে-বলে জ্বলে উঠতে না পারায় এমন দশা হয়েছে তাদের। তার মধ্যে আফগান ব্যাটারদের
ধারাবাহিকতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। যদিও টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হারের পর আত্মবিশ্বাসের
কথা বলেছিলেন টেম্বা। তার বিশ্বাস ছিল হারের বৃত্ত থেকে বের হয়ে আসবে তার দল। পেরেছেনও
তিনি। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করে ১৬৯ রানে গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান। জবাবে ১০২ বল হাতে
রেখে ৭ উইকেটে জয় তুলে নেয় প্রোটিয়ারা।
এদিন আফগানিস্তানের শুরুটা
আশা-জাগানিয়া ছিল। দুই ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও আবদুল মালিক এগোতে থাকেন। কিন্তু
মালিক এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়লে ওপেনিং জুটি ভেঙে যায়। দলীয় স্কোরবোর্ডে আরও নয় রান যোগ
হতেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় আফগানরা। ক্রমান্বয়ে তাদের পথচলাটা একটু কঠিন হয়ে ওঠে। ৪
উইকেটে দলীয় শতক পার হলেও বাকি ৬৯ রানের মধ্যে সব উইকেট হারিয়ে বসে তারা। এ দিন দলটির
প্রথম আট ব্যাটারের মধ্যে ১০-এর বেশি রান করতে পারেন কেবল গুরবাজ। ১১ রানের জন্য টানা
দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পাননি এই ওপেনার। ৯৪ বলে সাতটি চার এবং চারটি ছক্কায় করেন ৮৯ রান।
প্রোটিয়াদের হয়ে দুটি করে উইকেট তোলেন এনগিদি, নাবাইয়োমজি পিটার ও আন্দিলে ফেহলুকায়ো।
ছোট লক্ষ্যে নেমে ৪০ রানের
উদ্বোধনী জুটি গড়েন টেম্বা বাভুমা ও টনি ডি জর্জি। দুজনের কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি।
ডি জর্জি ৩১ বলে করেন ২৬, বাভুমার ব্যাটে ২৮ বলে আসে ২২ রান। তিনে নেমে রিজা হেনড্রিকসের
ব্যাটে আসে ১৮ রান। তারপর ট্রিস্টান স্টাবসের সঙ্গে ৯০ রানের হার না-মানা জুটিতে দলকে
জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন মার্করাম। ৪২ বলে ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন স্টাবস। চারটি চার এবং
তিনটি ছক্কায় ৬৭ বলে অপরাজিত ৬৯ রানের ইনিংস খেলেন মার্করাম। আফগানদের হয়ে একটি করে
উইকেট নেন মোহাম্মদ গজনফর, মোহাম্মদ নবি এবং ফরিদ আহমেদ। ম্যাচ ও সিরিজসেরা নির্বাচিত
হন গুরবাজ।