প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:২২ পিএম
সাকিবের আঙুল ফেটেছে, রক্তও পড়েছে। চেন্নাই টেস্টে বলও কম করেছিলেন সাকিব— চেন্নাই থেকে ছবি তুলেছেন আ. ই. আলীম
পাকিস্তান সফরে ব্যাট হাতে তেমন কিছু করতে না পারলেও বল হাতে মোটামুটি উজ্জ্বলই ছিলেন দেশসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। কিন্তু ভরতের বিপক্ষে চেন্নাইয়ে প্রথম টেস্টে বল হাতে পুরোপুরি নির্বিষ ছিলেন এই বাঁহাতি। আর ব্যাটিংয়ে চলনসই। তবে এসব ছাপিয়ে উঠেছে তার আঙুলের ইনজুরি। এ অবস্থায় কানপুরে সিরিজ নির্ধারণী দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে বাদ পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে সাকিবের।
চেন্নাই টেস্টে বল হাতে নিজের ছায়া ছিলেন সাকিব। রান বিলিয়েছেন দেদার। ফিল্ডিংয়ে হারিয়ে বসেছেন ক্ষিপ্রতা। এমন অবস্থায় উঠল সেই চরম প্রশ্নটাই। চিপকের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর কাছে জানতে চাওয়া হয়, সাকিবের জায়গা কি তবে নড়বড়ে? উত্তর দিতে খানিকটা নড়েচড়ে বসেন টাইগার অধিনায়ক। বাংলাদেশ থেকে সিরিজ কাভার করতে আসা সাংবাদিকের প্রশ্নটি শুনে নিজেকে সামলে নিতে কয়েক মুহূর্ত সময়ও নেন শান্ত। এরপর সহাস্যে বলেন, ‘আপনি কিন্তু ভাই খুব সাহসী প্রশ্ন করেছেন! কিন্তু সরাসরি কোনো উত্তর দেননি শান্ত।’
সাকিব হয়তো বুঝে গেছেন, সময় এখন কঠিন। চেন্নাই টেস্টে পারেননি নামের প্রতি সুবিচার করতে। বোলিং-ফিল্ডিংয়ে গড়পড়তা। ব্যাটিংয়ে থিতু হয়েও পারেননি বড় ইনিংস খেলতে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আঙুলের চোট। আজ সংবাদ সম্মেলনে শান্ত জানিয়েছেন, সাকিবের আঙুল থেকে রক্তও ঝরেছিল। ঠিক সেই কারণেই হয়তো বোলিংয়ে আসছিলেন না সাকিব। প্রথম ইনিংসে প্রথম দুই সেশনে বল করেননি সাকিব। চেন্নাই টেস্টে প্রথম ইনিংসে বল করেছেন ৮ ওভার। উইকেট পাননি, রান খরচ করেছেন ৫০। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩ ওভারে খরচ ৭৯ রান। সাদামাটা সাকিব দুই ইনিংসে ২১ ওভার বল করে ৬.১৯ ইকোনমিতে। টেস্ট ক্যারিয়ারে এমন অকাতরে রান আগে কখনও দেননি। দুই ইনিংসে তার ব্যাট থেকে আসে ৩২ ও ২৫ রান।
নিষ্প্রভ সাকিবের ফিটনেস নিয়ে ধারাভাষ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন তামিম ইকবাল। সেই প্রশ্ন এবং আলোচনা গড়িয়েছে অনেক দূর। ভারতের বিপক্ষে খেলতে যাওয়ার আগে সাকিব কাউন্টিতে খেলেছিলেন। টনটনে সারের হয়ে অভিষেকে ৯ উইকেট নিয়েছিলেন। কিন্তু এক সপ্তাহ পর চেন্নাইয়ে এসে যেন বোলিংটায় ভুলে গেলেন! নতুন খবর জানা গেল, সাকিবের আঙুলে নাকি অস্ত্রোপচার করানো হয়েছে! স্টার স্পোর্টসের ধারাভাষ্যে ভারতের সাবেক স্পিনার ও ধারাভাষ্যকার মুরালি কার্তিক সাকিবের বোলিং ফিঙ্গার নিয়ে সমস্যার কথা বলেছিলেন। তার ভাষায়, ‘সাকিবের সঙ্গে কথা হয়েছে। ওর বাঁ হাতের স্পিনিং ফিঙ্গারে একটা অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। সেটি এখন ফুলে গেছে, শক্ত হয়ে আছে। ওই আঙুলে সে বলের অনুভূতিটাও পাচ্ছে না। স্পিনার হিসেবে বলের অনুভূতিটা দরকার। এ ছাড়া তার কাঁধেও অস্বস্তি আছে।’
পাল্টা প্রশ্ন ছোড়েন তামিম, ‘যদি তাই হয়, টিম ম্যানেজমেন্টের অবশ্যই বলা উচিত, তারা এই ইনজুরির কথাটা আগে থেকেই জানত কি না।’ সাকিবের কম বল করার ইস্যুটি ততক্ষণে ফিট না আনফিটে চলে আসে। বিসিবি যদিও জানিয়েছে, সাকিব ফিট হিসেবেই খেলেছেন চেন্নাই টেস্ট। তাছাড়া বিসিবি চিকিৎসককে না জানিয়ে কোনো খেলোয়াড় অস্ত্রোপচার করতেও পারেন না। সাকিব অবশ্য অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। কিন্তু সেটা ছিল ছয় বছর আগে! ২০১৮ এশিয়া কাপে আঙুলে চোট পাওয়ার পর। সাকিবকে সবশেষ ছুরিকাঁচির নিচে যেতে হয় ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে বাঁহাতির তর্জনী ভেঙে যাওয়ার পর চিকিৎসা নিয়েছিলেন সাকিব। সব মিলিয়ে পাকিস্তান সফরের পর চেন্নাই টেস্টেও ছায়া হয়ে থাকা সাকিবকে নিয়ে কথা উঠেছে, ২৭ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া কানপুর টেস্টে কি সাকিব থাকবেন নাকি তার জায়গায় দলে আসবেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম?
তবে সাকিব যে স্বমূর্তিতে নেই সেটা সুস্পষ্ট। চেন্নাই টেস্টে ব্যর্থ সাকিব যদিও একটি রেকর্ড গড়ে বসেছেন। সবচেয়ে বেশি বয়সের। বাংলাদেশি টেস্ট ক্রিকেটারের মধ্যে সাকিবের চেয়ে বয়স্ক আর কেউ নেই। বয়স, ফিটনেস ঘাটতি, ইনজুরি ছাড়াও রাজনৈতিক সংকট, সব মিলিয়ে সামনের দিনগুলো যে সাকিবের জন্য ভীষণই চ্যালেঞ্জের তা বলাই বাহুল্য। আর বোধকরি কানপুর টেস্টই হতে যাচ্ছে তার এসিড টেস্টের শুরু।