রুবেল রেহান
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৮:২৩ পিএম
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হামজা চৌধুরী। ফাইল ফটো
বিচিত্র চুলের স্টাইলের জন্য আলাদাভাবে মনোযোগ আকর্ষণ করেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লেস্টার সিটির ফুটবলার হামজা চৌধুরী। তবে বাংলাদেশে আলোচনায় তিনি অন্য কারণে। এ দেশের জার্সিতে খেলার স্বপ্নের কথা জানানোর পর থেকেই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইংলিশ এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারকে ঘিরে সমর্থকদের আগ্রহ কিংবা উন্মাদনা। রাত জেগে ইউরোপিয়ান ফুটবলের বাংলাদেশি ভক্তরা হামজাকে দেখতে পাবেন বাংলাদেশের লাল-সবুজের জার্সিতে- এই স্বপ্নে বিভোর এখন কোটি সমর্থক।
এর আগে ২০১৩ সালে ডেনমার্কের ক্লাব ফুটবল ছেড়ে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয় জামাল ভূঁইয়ার। তারপরের একদশক দেশের ফুটবলের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়েই আছেন এই মিডফিল্ডার। এরপর আরেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তারিক কাজীও নাম লিখিয়েছেন লাল-সবুজের জার্সিতে। অভিষেকের পর থেকেই রক্ষণে নিজের ছাপ রেখে চলেছেন ফিনল্যান্ডে বড় হওয়া এবং সেখানকার ক্লাবে খেলা এই তারকা। এবার অপেক্ষা হামজা চৌধুরীকে নিয়ে। ওপরের দুজনের চেয়ে এই ফুটবলারকে নিয়ে দেশের সমর্থকদের রয়েছে বেশি আগ্রহ। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের এই ফুটবলারকে ঘিরে এখন দেশের ফুটবল নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখছেন সমর্থকরা।
হামজাও আগ্রহ দেখিয়েছেন বাংলাদেশের জার্সিতে খেলার। সেজন্য কয়েক ধাপ কাজও এগিয়ে রেখেছেন ২৬ বছর বয়সি ফুটবলার। প্রথমে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছেন। গেল মাসে দেশের জার্সিতে খেলার আরেকটি শর্তও পূরণ করেছেন তিনি। ইংল্যান্ডে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে হাতে পেয়েছেন সবুজ পাসপোর্ট। অপেক্ষার প্রহর বলা যায় প্রায় শেষ। সামনের নভেম্বরের ফিফা উইন্ডোতেই তাকে দেখা যেতে পারে বাংলাদেশের জার্সিতে।
হামজার খেলার সম্ভাবনা এখন সময়ের ব্যাপার। জানা গেছে, তাকে নিয়ে যেকোনো সময় আসতে পারে সিদ্ধান্ত। গত আগস্টেই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার বলেছেন, ‘নভেম্বর উইন্ডোতে হামজাকে খেলানোর চেষ্টা করছে ফেডারেশন। সে লক্ষ্যে বাফুফে প্রতিনিয়ত তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।’ সব ঠিক থাকলে লেস্টার সিটির হয়ে খেলা হামজা আসছেন বাংলাদেশ শিবিরে।
ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে খেলেছেন হামজা। ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত লেস্টারের একাডেমিতে ছিলেন। তার জন্ম দেশটির লাফবরোতে। এরপর ২০১৫ সালে অভিষেক হয় ক্লাবটির সিনিয়র দলে। সে বছরে ওই ক্লাবের জার্সিতে খেলেন মোট ৮৭ ম্যাচ। ২০১৬ থেকে ২০২৩ মৌসুমের বিভিন্ন সময়ে তাকে লোনে খেলতে হয় ব্রাইটন এবং ওয়াটফোর্ডের হয়ে। গেল বছর আবার নিজ ক্লাবে ফিরে দলকে তোলেন প্রিমিয়ার লিগে। লেস্টারের হয়ে এখন পর্যন্ত দুটি শিরোপা জিতেছেন হামজা। ২০২১ সালে চেলসিকে হারিয়ে জিতেছেন ইংলিশ এফএ কাপ। ওই বছরই জিতেছেন ইংলিশ সুপার কাপ (যেটা কমিউনিটি শিল্ড নামেও পরিচিত)। এরপর ২০২৩ সালে ইএফএল চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে তার দল জায়গা করে নেয় প্রিমিয়ার লিগে। লিগে অবশ্য সুবিধাজনক অবস্থানেই হামজার ক্লাব। এই মৌসুমে তার দল খেলেছে পাঁচ ম্যাচ। যেখানে এক ম্যাচে সতীর্থের গোলে অবদান রেখেছেন রাইট ব্যাকেও পারদর্শী হামজা।
ইংল্যান্ডের বয়সভিত্তিক দলে খেললেও সিনিয়র দলের হয়ে সুযোগ পাননি। এখন বাংলাদেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখেন হামজা। তার নানাবাড়ি সিলেটের হবিগঞ্জে। ছোটবেলায় এই দেশের আলো-বাতাস না পেলেও বেশ কয়েকবার বেড়াতে এসেছেন তিনি। তার মূল দায়িত্ব দলের দুর্গ রক্ষা করা। এবার বাংলাদেশের দুর্গ রক্ষা করার পালা। তা ছাড়া বিশ্বের অন্যতম সেরা লিগে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবেন তিনি। ইংল্যান্ডে খেলার মান এবং সেখানকার খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ পদ্ধতির সঙ্গে তার মাধ্যমে পরিচিত হবেন রাকিব হোসেন কিংবা শেখ মোরছালিনরা- এটা বলাই যায়।