আরিফুর রাজু
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:৩৪ পিএম
আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:৩৮ পিএম
এক, দুই, তিন…। সংখ্যাটা তারচেয়েও বেশিÑ আট। নিখাঁদ আটই!
ব্যালন ডি’অর বিজেতাদের তালিকায় চোখ বুলালে শীর্ষে যে নামটি, সেই লিওনেল মেসির ব্যালন
ডি’অর সংখ্যা এটি। দ্বিতীয় স্থানটি অবশ্যই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। পর্তুগিজ তারকার
সংখ্যাটাও নেহাত কম নয়। পাঁচবার এ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
বলা চলে, ২০০৮ থেকে ২০১৭Ñ এই এক দশকে ব্যালন ডি’অরকে নিজেদের সম্পতি বানিয়ে রেখেছিলেন
ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা।
২০২৩ ব্যালন ডি’অর ওঠে মেসির হাতে। কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার
ট্রফি খরা কাটানোর ফল পান সেবার। তার আগের বছর হিসাব বদলে দেন করিম বেনজেমা। মেসি ও
রোনালদোর যুগে চট করে ডুকে পড়েন ফরাসি ফরোয়ার্ড। পঞ্চম ফরাসি ফুটবলার হিসেবে জিতে নেন
ব্যালন ডি’অর। তবে নক্ষত্রের পতনের মতো ক্রমান্বয়ে পতন হচ্ছে মেসি-রোনালদো যুগ। ২০২৪
ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের জন্য মনোনীত ৩০ জনের তালিকায় জায়গা পাননি এই দুই তারকা। ২০০৩
সালের পর এবারই প্রথম এমন ঘটনা দেখল বিশ্ব। গত বছরের পারফরম্যান্সের আলোকে অনুমিতভাবেই
আছেন রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, জুড বেলিংহাম ও ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান
স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড।
মেসি-রোনালদো ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে। চল্লিশের কাছাকাছি
বয়স দুজনেরই। আছে চোটের ভয়, বেছে খেলার প্রবণতাও। কার্যত ভিনিসিয়ুস-হালান্ডদের জৌলসে
কিছুটা ফিকে হয়ে যাচ্ছে কিংবদন্তিতুল্য এই ফুটবলারদের পারফরম্যান্স। মেজর লিগের ক্লাব
ইন্টার মিয়ামির মেসি কিংবা সৌদি প্রো লিগের আল নাসরের রোনালদোর পারফরম্যান্সও আহামরি
ভালো যাচ্ছে না। উল্লেখযোগ্য বা আলোচনা করার মতো ট্রফি জেতেনি তাদের ক্লাব। নিজেরাও
থাকছেন প্রদীপের নিচের ছায়া হয়ে। ২০২৩-২৪ মৌসুমে জাতীয় দল ও ক্লাবের হয়ে আর্জেন্টিনার
অধিনায়ক গোল করেছেন ৩৯টি। রোনালদোর সংখ্যাটা অবশ্য বেশিই। আল নাসরের এই তারকা ফরোয়ার্ড
গোল করেছেন ৬৪টি। তবে দলীয় অর্জন ম্যাড়মেড়ে হওয়াতে তিনিও নেই ব্যালন ডি’অরের আলোচনায়।
মেসি-রোনালদোকে পাশ কাটিয়ে আসন্ন ব্যালন ডি’অরে যোগ্য
ব্যক্তি হিসেবে ঘুরেফিরে কথা হচ্ছে ভিনিসিয়ুসকে নিয়ে। ২০২৩-২৪ মৌসুমে জাতীয় দল ও ক্লাবের
হয়ে ২৬ গোল করেছেন তিনি। রয়েছে ১২টি অ্যাসিস্ট। জিতেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ, লা লিগা ও
সুপার কোপা। গোলের সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারত। ইনজুরি বহু ম্যাচের শুরুর একাদশে সুযোগবঞ্চিত
করেছে তাকে। তবে ব্রাজিলিয়ান তারকার হ্যাটট্রিকের ওপর ভর করে স্প্যানিশ সুপার কাপের
ফাইনালে বার্সেলোনাকে হারায় রিয়াল। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে বার্য়ান মিউনিখ ও
ফাইনালে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ঘায়েল হয় ব্রাজিল ফরোয়ার্ডের পায়ের জাদুতে। তা ছাড়া কোপা
আমেরিকার গ্রুপপর্বে গোলের দেখা পেয়েছিলেন ভিনি। সবকিছু মিলিয়ে ব্যালন ডি’অরের জন্য
তাকেই যোগ্যের কাতারে রাখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
যে তিনটি বিষয় বিবেচনা করে ব্যালন ডি’অরের ভোট দিয়ে থাকেন
সাংবাদিকরা। পারফরম্যান্স, দলের সাফল্য ও আচরণÑ প্রথম দুটিতে ভিনিই এগিয়ে। মৌসুমজুড়ে
নিজে যেমন বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন, আবার আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়াও দেখিয়েছেন। শেষবেলায়
কোপায় ব্যর্থ হয়েছে তার দল ব্রাজিল। এটা আটকে ধরতে পারে ভিনিকে।
ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদার ভিনিরই সতীর্থ ও বন্ধু
বেলিংহাম। ২১ বছর বয়সি ইংলিশম্যান রিয়ালে যোগ দিয়েই হইচই ফেলে দেন। দলগত সাফল্যের সঙ্গে
ব্যক্তিগতভাবে মৌসুম শেষ করেছেন ৪২ ম্যাচে ২৩ গোল করে ও ১৩ গোল করিয়ে। জিতেছেন চ্যাম্পিয়নস
লিগ, লা লিগা ও সুপার কোপা। গত মৌসুমের প্রথম হাফের অন্যতম খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত
হয়েছিলেন তিনি। রোনালদো নতুন করে রিয়ালে না আসার সেই সুযোগ ভালোভাবেই কাজে লাগান বেলিংহাম।
দলের প্রয়োজনে শুধু স্কোর করেননি, বরং অনেক ম্যাচে দলকে খাদের কিনারা থেকেও টেনে তুলেছেন।
বিশেষ করে, ইউরোর শেষ আসরে স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে গোল করে দলকে উদ্ধার করেন বেলিংহাম।
ব্যালন ডি’অরের প্রতিযোগিতা এই দুজনের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী
হতে পারেন আর্লিং হালান্ড। ২০২৩-২৪ মৌসুমে ৪৫টি গোল করেছেন নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ড। আছে
ছয়টি অ্যাসিস্ট। জিতেছেন প্রিমিয়ার লিগ ও উয়েফা সুপার কাপ। হালান্ডের সঙ্গে কিলিয়ান
এমবাপের কথা না বললেই নয়। রিয়ালে নাম লেখানোর আগে পিএসজিতে শেষ মৌসুমে লিগ জিতেছেন
এমবাপে, খেলেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালেও। পার্ক দেস প্রিন্সেসের হয়ে করেছেন
৪৪ গোল।
ব্যালন ডি’অর অর্জনের এই রেসটা অবশ্য একটু লম্বাই। রদ্রিকে
একেবারেই ফেলে দেওয়া যায় না। ফিল ফোডেন, টনি ক্রুশ, লামিন ইয়ামাল, নিক উইলিয়ামসদের
নামও ঘুরেফিরে আসছে। তবে এটা একপ্রকার নিশ্চিত যে আসল প্রতিদ্বন্ধিতা হবে ভিনি-হালান্ড-বেলিংহামের
মধ্যে। মেসি-রোনালদো যুগের অবসানের পর আগামী দশকটাতেও যে ব্যালন ডি’অরে এদের দৌরাত্ম্য
থাকবে তাও হলফ করে বলে দেওয়া যায়।