চেন্নাই টেস্ট
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:২৫ পিএম
চেন্নাই টেস্টে একমাত্র ফিফটির দেখা পেয়েছেন অধিনায়ক শান্ত। বাকিদের কেউ এখন অবধি ব্যক্তিগত চল্লিশ রানও করতে পারেননি— চেন্নাই থেকে ছবি তুলেছেন আ. ই. আলীম
চেন্নাই টেস্টের প্রথম দিনে ভারতের যখন টপ অর্ডার লন্ডভন্ড তখন স্বাগতিকদের ত্রাতা হন দুই লোয়ার মিডল অর্ডার ব্যাটার। সেদিন রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজা যা পেরেছিলেন, পরের দিন সেটি করতেই ব্যর্থ হন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। সেট হওয়ার পর অপ্রয়োজনে শট খেলে উইকেট ছুড়ে আসাটা যেন টাইগার ব্যাটারদের নিয়মিত রোগ। উইকেটে থিতু হয়ে যেখানে প্রতিপক্ষের ব্যাটাররা বড় রান করেন, সেখানে বাংলাদেশের ব্যাটার বিপদ বাড়িয়ে আসেন। প্রকট হয়ে ওঠা বিষয়টির দিকে নজর দেওয়ার কথা বলেছেন শান্তদের ব্যাটিং কোচ ডেভিড হেম্প।
তামিম ইকবাল একবার বলেছিলেন, ২০-৩০ রানে আউট হওয়া একটা অপরাধ। চিপক টেস্টের ধারাভাষ্যকার তামিম মূলত টি-টোয়েন্টির প্রেক্ষিতে কথাটি বলেছিলেন। সাদা পোশাকের লড়াইয়ে ওই কথাটির গুরত্ব আরও বেড়ে যায় বহুগুণ। অর্থাৎ অপরাধের মাত্রাটাও চড়ে সপ্তমে। ইনিংসের শুরুতেই উইকেট বিলিয়ে আসা কিংবা থিতু হয়ে অহেতুক শট খেলা বাংলাদেশের ক্রিকেটের নিয়মিত দৃশ্য। এসব নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনার কথা জানিয়েছেন হেম্প। আজ শনিবার টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে কোচ জানিয়েছেন, এখন ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ ঠিক করাই তার লক্ষ্য।
চিপকের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে দুই ইনিংসে ভারতের সেঞ্চুরি এসেছে তিনটি। বিপরীতে বাংলাদেশের সবেধন নীলমনি এক ফিফটি। দ্বিতীয় ইনিংসে অধিনায়ক শান্ত বহুদিনের রানখরা কাটিয়ে পেয়েছেন মাইলফলকের দেখা। বাকি দুই ইনিংসে এখন অবধি চল্লিশ পেরোনোও কোনো ইনিংস নেই। বোলাররা ভালো করলেও ব্যাটারদের ব্যর্থতায় তাই ম্যাচ ছিটকে গেছে। সব হারানোর পর যেন হেম্প বলছেন লক্ষ্যের কথা, ‘ব্যাটিংয়ের বিষয়টি নজরে এসেছে।’
দুই ইনিংসে বাংলাদেশের টপ অর্ডার ব্যাটাররা ইনিংস বড় করতে পারেননি। আউটের ধরনগুলোও ম্যাচ পরিস্থিতিতে প্রশ্নবিদ্ধ। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাটারদের ঘাটতি রয়েছে মনে করেন হেম্প, ‘এটা নিয়ে আমরা কথা বলছি। কোচ এই ব্যাপারে সচেতন। আমরা অনুশীলনে দলীয় আলোচনায় এগুলো তুলছি। বলছি ম্যাচে মানসিক শক্তিটা বেশ শক্ত থাকতে হয়। পরিস্থিতিতে থিতু হওয়া জরুরি, যেখানে আমরা ব্যর্থ। এই ব্যর্থতাগুলোকে আমরা ঝেড়ে ফেলতে চাই। আমরা সামনে তাকাতে চাই। উন্নতির বিকল্প নেই।’
তামিমের মতো, হেম্পও মনে করেন থিতু হওয়ার পর ইনিংস বড় করা উচিত, ‘আমার কাছে এই মুহূর্তে লক্ষ্য হচ্ছে ব্যাটিং অ্যাপ্রোচটা ঠিক করা। এটা আমাদের খুব একটা ভালো হচ্ছে না। কেউ যদি ৪০-৫০-৬০ বল খেলে ফেলে তাহলে তার উচিত ১২০ বল অন্তত খেলা, তার অবদানটাকে অর্থবহ করে তোলা। এটা নিয়ে আমরা কথা বলছি। আমাদের অবশ্যই শুরুটা ভালো করতে হবে আর একবার শুরুটা পেয়ে গেলে, ২০-৩০টা বল (ডেলিভারি) কেউ খেলে ফেললে তার একটা ধারণা হয়ে যায় কি হচ্ছে মাঠে। কেউ ৩০-৪০ রান করলে তার ইনিংসটা বড় করা উচিত, কঠিন কাজটা করে ফেলার পর এখন সুযোগটা কাজে লাগানো তার দরকার। পাকিস্তানের বিপক্ষে খণ্ড-খণ্ডভাবে এই জিনিসটা দেখা গেছে। এই ব্যাপারটি নিয়ে আমরা কাজ করছি, এটা আমাদের নজরে আছে।’
ব্যাটিংয়ে নেমে দুই ইনিংসে শুরুতে চাপে পড়লেও বাংলাদেশকে ভুগিয়েছে ভারতীয় ব্যাটাররা। বোলাররাও কম যাননি। গতকাল রবিচন্দ্রন অশ্বিন ঘূর্ণিতে কাবু করেছেন টাইগারদের। ভারতীয়দের বোলিং দক্ষতা নিয়ে হেম্প বলেন, ‘ভারতীয় বোলাররা বেশ দক্ষ। আমাদের তাদের মতো হওয়া দরকার। আমাদের ব্যাটিংটাকে গুরুত্ব দিয়ে ম্যাচের চাহিদা অনুযায়ী খেলতে হবে। না হয় এই সমস্যা থেকে বের হওয়া যাবে না সহজে।’
বাংলাদেশ দলে ইনিংসের শুরুতে চারজন টানা বাঁহাতি ব্যাটার। প্রতিপক্ষও সেটি মাথায় রেখে বোলিং কৌশল সাজিয়েছে। চেন্নাই টেস্টে ভারত বোলিং ফাঁদ ফেলে উইকেট তুলে নিয়েছে নিয়মিত বিরতিতে। কখনও বাংলাদেশের ব্যাটাররা নিজেরাই উইকেট বিলিয়ে দিয়েছে। হেম্প বলেছেন, তাদের কাছে পর্যাপ্ত বিকল্প নেই, ‘আসলে আমাদের হাতে এখন এর থেকে বেশি বিকল্প নেই। বাঁহাতি একাধিক হলেও একজনের শক্তির জায়গা একেক রকম। এটা খুব বেশি গুরুত্ববহ করে না ম্যাচে। তবে সম্পদের সেরা ব্যবহারটা ভালোভাবে জানা থাকলে অনেক সময় দারুণ ভূমিকা রাখা যায় ম্যাচে।’
চিপকে বড় হারের ক্ষণ গুনছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৩৭৬ রান তোলা ভারত পরে বাংলাদেশকে থামিয়ে দেয় ১৪৯ রানে। এরপর ৪ উইকেট হারিয়ে ২৮৭ রান যোগ করে ভারত। ৫১৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রান করেছে বাংলাদেশ। ফিফটি করে বাংলাদেশকে টানছেন শান্ত তার সঙ্গে আছেন সাকিব। চতুর্থ দিনে তারা সহ বাকিরা বাংলাদেশকে কতদূর নিতে পারেন, সেটাই দেখার। লক্ষ্য এখনও সাড়ে তিনশরও বেশি।