চ্যাম্পিয়নস লিগ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:৪৭ পিএম
দশ জনের বার্সা হার মেনেছে মোনাকোর কাছে
মাঠে লড়াই গড়াতেই আঘাত খেয়ে বসে বার্সেলোনা। ধাক্কাটা আবার একটি নয়। শুরুর দিকের দুবারের ঘায়ে বেসামাল হয়ে পড়ে অতিথিরা। প্রথম ১০ মিনিটেই ১০ জনে পরিণত হয়ে যায় বার্সা। সেই ধাক্কা সামাল দিতে না দিতে ছয় মিনিট বাদে হতবাক হয়ে পড়ে সফরকারীরা। গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে বার্সা। সেই ঝামেলা কাটিয়ে খেলায় ফেরার আভাস দিয়েছিল স্প্যানিশ দলটি। লামিনে ইয়ামালের চোখ ধাঁধানো গোলে খেলায় প্রত্যাবর্তনের গল্পও লিখেছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। বৃহস্পতিবার রাতে নিজেদের মাঠে ইউরোপের সাবেক চ্যাম্পিয়নদের ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছে মোনাকো। তাতে ছয় বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের ফেরার উপলক্ষটা জয়ের রঙে রাঙাল ফরাসি ক্লাবটি।
মানসার গোলে শুরুতেই লিড নিয়েছিল স্বাগতিক মোনাকো। পিছিয়ে পরে গোলের জন্য হন্যে হয়ে মাঠ দাঁপিয়ে বেড়াতে থাকে বার্সা। তার সুফল হিসেবে প্রথমার্ধেই সমতাসূচক গোল এনে দেন লামিনে ইয়ামাল। বিরতির পর মোনাকোকে জয়সূচক গোল উপহার দেন বদলি ফুটবলার হিসেবে মাঠে নামা জর্জ ইলেনিখেনা।
চলতি মৌসুমে এটাই প্রথম হারের তেতো স্বাদ হজম করল বার্সেলোনা। অথচ লা লিগায় প্রথম পাঁচ ম্যাচে টানা জয়ে যেন আকাশেই উড়ছিল তারা। কোচ হান্সি ফ্লিকের আত্মবিশ্বাসী শিষ্যদের মাটিয়ে নামিয়ে আনল ফ্রান্সের ক্লাবটি।
চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনার বিরুদ্ধে এ নিয়ে তিন ম্যাচ খেলে এই প্রথম জয় ছিনিয়ে নিল মোনাকো। এর আগে ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে ইউরোপিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাকর এ টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের হোম ও অ্যাওয়ে ম্যাচে বার্সা জয় পেয়েছিল ২-০ ও ১-০ গোলে। ইয়ামালের গোল বাদে দশজনের বার্সা ছিল ছন্নছাড়া। ডিফেন্সের সঙ্গে আক্রমণ ও পাল্টা-আক্রমণে নিষ্প্রভ ছিল বার্সেলোনা। গোলমুখে শটিই নিয়েছিল তারা মাত্র ৪টি। যার মধ্যে মাত্র একটি শট ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে দারুণ খেলেছে ফরাসি ক্লাবটি। তাদের ১৮ শটের ৮টি আঘাত হানে লক্ষ্য।
ম্যাচের দশ মিনিটের মাথায় বিপদে পড়ে যায় বার্সেলোনা। বক্সের বাইরে তাকুমি মিনামিনোকে পেছন থেকে বাজেভাবে ট্যাকল করেন এরিক গার্সিয়া। সেই অপরাধে সরাসরি লাল কার্ডের খড়গ নিয়ে মাঠ ছাড়েন রক্ষণভাগের এ ফুটবলার। দলের শক্তি কমে যাওয়ার ছয় মিনিট না যেতেই এবার বার্সেলোনার জাল কেঁপে উঠে। ডান দিক আক্রমণ শাণিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন মানসা। দুই পাশে থাকা প্রতিপক্ষের কয়েকজন ফুটবলারের মাঝ দিয়ে নিচু শটে নির্ভুল নিশানায় লক্ষ্যভেদ করেন ফরাসি মাঝমাঠের খেলোয়াড়।
ম্যাচের বয়স ২৮ মিনিট হতেই ইয়ামালের দর্শনীয় গোলে সমতায় ফেরার স্বস্তির পরশ ছুঁয়ে যায় সফরকারীদের ডাগআউট। মাঝমাঠ থেকে মার্ক কাসাদোর উড়ন্ত শট ধরে আক্রমণে যান ইয়ামাল। এক ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের নিচু শট জাল খুঁজে নেন স্প্যানিশ এ তরুণ তুর্কি। চ্যাম্পিয়নস লিগে এই প্রথম গোলের দেখা পেলেন স্প্যানিশ এ উইঙ্গার। ইউরোপের সেরাদের টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় কনিষ্ঠ গোলদাতা বনে গেছেন তিনি। গোলটি করেছেন ১৭ বছর ৬৮ দিন বয়সে। বার্সেলোনার হয়েই ১৭ বছর ৪০ দিন বয়সে গোল করে আগের রেকর্ডটি গড়ে ছিলেন আনসু ফাতি।
লড়াইয়ের ৭১তম মিনিটে ফের লিড নেয় মোনাকো। নিজেদের অর্ধ থেকে সতীর্থের উঁচু করে বাড়ানো বল পেয়ে যান ইলেনিখেনা। অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে বল ধরে এগিয়ে যান তিনি। বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে বার্সার জালে বল জড়িয়ে দেন নাইজেরিয়ান এ ফরোয়ার্ড।
খেলোয়াড় একজন কম নিয়েও দারুণ লড়াই করে গেছে বার্সা। শিষ্যদের এই লড়াকু মানসিকতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ কোচ হান্সি ফ্লিক। এই ধাক্কা সামলে ওঠার প্রত্যয়ের কথা জানালেন তিনি, ‘আমাদের দলে এমন ছেলেরা আছে, যারা শতভাগের বেশি দিয়ে চেষ্টা করে। সবাই নিজেদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করেছে। এই দল নিয়ে আমি গর্বিত ও এই ছেলেদের নিয়ে দারুণ আশাবাদী আমি। এই হারকে মেনে নিতে হবে আমাদের। তবে এখনও সাতটি ম্যাচ বাকি আছে। নিশ্চিতভাবেই আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারব।’
এখন দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে আর্সেনাল। গত মৌসুমের দারুণ ছন্দ এবারও ধরে রেখেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দলটি। ইউরোপা লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আতালান্তাও কোনো অংশে কম যায় না। যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্কের এক নাম। চ্যাম্পিয়নস লিগে দুদলের লড়াইটা ছিল ম্যাড়মেড়ে। আতালান্তার মাঠে ম্যাচটি থেকে গেছে অমীমাংসিত। ম্যাচ হয়েছে গোলশূন্য ড্র। দুদলের রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলাই বেশি হতাশায় ডুবিয়েছে দর্শকদের। অন্যদিকে আতলেতিকো মাদ্রিদ ২-১ গোলে হারায় আরবি লাইপজিগকে। ফেইনুর্দকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বায়ার লেভারকুসেন।