প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:১৭ পিএম
চেন্নাইয়ের সকাল তাসকিন নিজের করেছিলেন, বিকেলেও দ্রুত উইকেট তুলে নিয়েছেন। কিন্তু দিনটা বাংলাদেশের হয়নি— চিপক থেকে ছবি তুলেছেন আ. ই. আলীম
সংবাদ সম্মেলনে তাসকিন আহমেদ ছিলেন বেশ নার্ভাস। হাত দিয়ে অনেকবার চোখমুখ মুছলেন, ইংরেজিতে আসা প্রশ্নগুলোরও দিলেন সংক্ষিপ্ত উত্তর। আট মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্বে চেন্নাই টেস্টে বাংলাদেশের লক্ষ্যও বলেছেন কয়েকটি শব্দে, ‘দেখা যাক কি হয়!’ চেন্নাই টেস্টে হারের দিকে ঝুঁকে পড়া অবস্থার দায় তাসকিন দিয়েছেন ব্যাটারদের, ব্যবধান দেখছেন আনকোরা এসজি বলেরও। তিনশ ছাড়ানো রান নিয়ে প্রতিপক্ষ ভারত চাইছে স্কোরবোর্ডে কম করে হলেও সাড়ে চারশ রান, নাজমুল হোসেন শান্তরা তাকিয়ে ভাগ্যের দিকে, ‘দেখা যাক কি হয়!’
চেন্নাইয়ে এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে আরেকটা সকাল বাংলাদেশের হয়েছিল বটে, দিনটা আর হলো না। টেস্টের প্রথম দিনে ভারতের টপ অর্ডারদের নাকানি চুবানি খাওয়ানোর পর বিকালটাতেই হ-য-ব-র-ল। শুক্রবার ৩৩৯ রানে দ্বিতীয় দিন শুরু করা ভারতকে বেশিদূর এগোতে দেননি তাসকিন। ৪০০ রানের মানসিক পীড়া থেকে মুক্তি পেলেও অস্বস্তি আর কাটেনি। ভারতকে ৩৭৬ রানে থামানোর সেই স্বস্তি বেলা গড়াতেই রূপ নেয় অস্বস্তিতে। এরপর ব্যাটারদের আত্মাহুতি, বল পড়তে ব্যর্থ হওয়া এবং বাজে শট খেলা। সব মিলিয়ে টাইগারদের বুমেরাং হওয়ার দিন। স্কোরবোর্ডে প্রথম ইনিংসে শান্তদের সংগ্রহ সাকুল্যে ১৪৯ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে শেষ বিকালে তিন উইকেট হারানো ভারত তুলে নিয়েছে আরও ৮১ রান। বাংলাদেশের চেয়ে তারা এগিয়ে ৩০৮ রানে।
চিপকে রান করতে ব্যর্থ হওয়া টাইগার ব্যাটাররা তাই সংবাদ সম্মেলনে আসেনওনি। বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে আসা তাসকিন এক প্রশ্নের জবাবে খানিকটা হেসে বলেছিলেন, ‘আমরা রান করি, তারপর ব্যাটারদের এখানে (সংবাদ সম্মেলনে) পাঠাব।’ তার আগে ছোট ছোট উত্তরে তাসকিন অভিযোগ করেছিলেন, অনুযোগ ছিল, দিয়েছেন আশ্বাসও । ৯০ বছরে প্রথমবার চেন্নাইয়ে এক দিনে ১৭ উইকেট পতন হয়েছে। যার বেশিরভাগেই পেসারদের। তাসকিন মানছেন পেসাররা পিচ থেকে সুবিধা পাচ্ছেন, তবে ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণ হিসেবে এসজি বলকেও দুষছেন।
ওরা আমাদের চেয়ে এসজি কীভাবে ব্যবহার করতে হয় সেটি একটু বেশি জানে। আমরা প্রথমে স্ট্রাগল করেছি, তাও ভালো ব্যাটিং করতে পারতাম। আর ব্যাটাররাও সেটাই মনে করে। নতুন বলে একটু ভালো খেললে এতগুলো উইকেট যেত না।
— তাসকিন আহমেদ (এসজি বলে খেলা প্রসঙ্গে)
পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির ব্যাটিং ধারাবাহিকতা চেন্নাইয়ে পাল্টে গেল কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তাসকিন দেখছেন এসজি বলে নিজেদের অভ্যাস না থাকা, ‘পাকিস্তান সিরিজে কিন্তু আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছিলাম । ওভার অল ব্যাটিং-বোলিং ভালো হয়েছিল ওই কারণে জিততে পেরেছিলাম। আসলে টেস্ট ক্রিকেটে সেশন বাই সেশন ব্যাটিং-বোলিং অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখানের কন্ডিশন যেহেতু চ্যালেঞ্জিং। এসজি বলে ওরা একটু বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে। কারণ, ওরা ছোটবেলা থেকে এসজি বলে খেলে, ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে। ওরা আমাদের চেয়ে এসজি কীভাবে ব্যবহার করতে হয় সেটি একটু বেশি জানে। আমরা প্রথমে স্ট্রাগল করেছি, তাও ভালো ব্যাটিং করতে পারতাম। আর ব্যাটাররাও সেটাই মনে করে। নতুন বলে একটু ভালো খেললে এতগুলো উইকেট যেত না। মিডল অর্ডারের জন্য নতুন বল চ্যালেঞ্জিং।’
তাসকিন অবশ্য ভারতের ভালো পারফরম্যান্সকে খাটো করে দেখতে নারাজ। তাদের হোম এডভান্টেজকেও দেখছেন ইতিবাচকভাবে, ‘হোম বা অ্যাওয়ে, ভারত সব সময় শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। হোমে সবাই সুবিধা নেয়। সামনে আমাদের হোম সিরিজ আছে, আমরাও হয়তো এভাবে ডমিনেট করব ইনশাল্লাহ। পাকিস্তানের কন্ডিশন আর প্রতিপক্ষ একটু ভিন্ন ছিল। আমরাও ব্যাটিং, বোলিং ভালো করেছি। আমাদের আরও আগে ওদের অলআউট করা উচিত ছিল। আমরাও চা বিরতির পর আপ টু দ্য মার্ক বল করতে পারিনি। সাড়ে তিনশতে করেছি, আড়াইশতে অলআউট করা উচিত ছিল। আমরা মেনে নিচ্ছি, সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো করতে পারিনি।’
দ্বিতীয় ইনিংসে আমাদের ভালো স্কোর করতে হবে। এখান থেকে আরও ১২০-১৫০ রান করতে হবে। তারপর তাদের যত দ্রুত সম্ভব অলআউট করার চেষ্টা করতে হবে।
— রবীন্দ্র জাদেজা, ভারতীয় অলরাউন্ডার
তাসকিনদের এই মুহূর্তে চাওয়া ভারতকে দ্রুত অলআউট করে লিডটা কমের মাঝে রাখতে। ৩০৮ রানে এগিয়ে থাকা ভারত কমপক্ষে আরও ১২০ রান চায়। দিনের খেলা থামার পর ভারতের স্পিন অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজা তেমনটিই বলেছেন, ‘দ্বিতীয় ইনিংসে আমাদের ভালো স্কোর করতে হবে। এখান থেকে আরও ১২০-১৫০ রান করতে হবে। তারপর তাদের যত দ্রুত সম্ভব অলআউট করার চেষ্টা করতে হবে। পিচ ব্যাটিংয়ের জন্য খুব ভালো, যদিও ফাস্ট বোলারদের জন্য এখানে আলাদা কিছু ছিল।’
তাসকিনরা পিচের সুবিধাটা আরেকবার নিতে চান। ব্যাটিং অর্ডারে শুরুর দিকে দ্রুত উইকেট হারানোর বিষয়টি মাথায় রেখে তৃতীয় দিনে খেলাটি অনেকটা দূর টেনে নিতে চান। চেন্নাই টেস্টে বাংলাদেশের আপাতত লক্ষ্য যেন তাসকিনের সেই কথাটির মতোই, ‘দেখা যাক কি হয়!’