চিপক টেস্ট
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২০:৫৮ পিএম
আগের দিন দলের সঙ্গে যোগ দেওয়া সাকিব প্রস্তুত হচ্ছিলেন স্পিনের বিপক্ষে লড়ার। তাইজুল ইসলাম চিপকে ঝালিয়ে নিচ্ছিলেন নিজের স্পিন অস্ত্র— চেন্নাই থেকে ছবি তুলেছেন আ. ই. আলীম
আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে প্রচ্ছন্ন হুমকি ছুড়ে রেখেছিলেন রোহিত শর্মা। ওই দিন বাংলাদেশের প্রতিনিধি চন্ডিকা হাথুরুসিংহে ছিলেন নির্ভার। টাইগারদের কোচ জানান ‘শিষ্যদের ওপর বিশ্বাস রাখছেন’। আজ যেন অদল-বদল। স্বাগতিকদের কোচ গৌতম গম্ভীরের পর চিপক টেস্ট সামনে রেখে নানা প্রশ্নের উত্তর দেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দুই দলের কোচ ও অধিনায়ক তথা চারজনের কণ্ঠেই ঘুরেফিরে এসেছিল ‘নতুন সিরিজ’ শব্দটি।
নতুনের প্রসঙ্গ টেনে ভারত যেন বোঝাতে চাচ্ছে, পাকিস্তানকে হারাতে পারলেও রোহিতরা তত সহজে ছাড় দেবে না। বিষয়টি অনুধাবন করেছে বাংলাদেশ, কিন্তু ভিন্নভাবে। আগের দিন কোচ হাথুরু বলেছিলেন, ভালো খেলার চাপ তাদের সুবিধাজনক জায়গায় নিয়েছে। গতকাল শান্তও তেমনটি বলেছেন। পাকিস্তানকে হারিয়ে পাওয়া আত্মবিশ্বাস শান্ত কাজে লাগাতে চান, কিন্তু অতীত নিয়ে অত আবেগী হতে চান না। এমনকি কন্ডিশন, প্রতিপক্ষ কিংবা পরিসংখ্যান নিয়েও ভাবতে নারাজ শান্ত। বাংলাদেশ অধিনায়কের ভাবনায় স্রেফ দল এবং আজ সকালে শুরু হওয়া টেস্টের পাঁচ দিন কীভাবে ভালো খেলা যায়, সেটা।
সপ্তাহ দুয়েক আগে পাকিস্তান থেকে ইতিহাস গড়ে আসা শান্ত এবারও প্রত্যয়ী। ভারতের বিপক্ষে এখন অবধি না পাওয়া অধরা জয়ের স্বাদ এবারই পূরণ করতে চান। পরক্ষণেই নিজেদের সতর্ক করেন, ‘ভারত শক্তিশালী দল’। রোহিত শর্মাদের এই দলটি অনেক বেশি অভিজ্ঞ, তা ছাড়া দেশের মাটিতে তাদের হারানো বেশ কঠিন। সেই কঠিনকে জয় করতে চান শান্ত।
গতকাল চিপকে সংবাদ সম্মেলনে টাইগার অধিনায়ক বলেছেন, ‘সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ (ভারত), এটা সবাই স্বীকার করি। কিন্তু প্রতিপক্ষকে নিয়ে খুব বেশি চিন্তা না করে নিজেদের নিয়ে চিন্তা করাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের দলটার সেই সামর্থ্য আছে যে এখানে ভালো ক্রিকেট খেলা। পাঁচ দিনের একটা ম্যাচ, এই পাঁচটা দিন আমরা কীভাবে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি। লক্ষ্য তো একটাই থাকে, প্রতিটি ম্যাচ জিতব। সব আন্তর্জাতিক দলেরই এই লক্ষ্য থাকে। আমাদেরই একই লক্ষ্য। জেতার জন্য যে জিনিসগুলো করা প্রয়োজন, আমরা ওগুলোই করব। ফল নিয়ে যদি বলেন, পঞ্চম দিনে শেষ সেশনে গিয়ে আমাদের রেজাল্ট নিয়ে চিন্তা। তার আগ পর্যন্ত আমরা নিজেদের শক্তিমত্তা অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করব।’
নিজেদের মাটিতে টেস্টে ভারত কতটা শক্তিশালী দল, তার প্রমাণ ছোট্ট এই পরিসংখ্যানে। গত এক যুগ ধরে নিজেদের উঠোনে ১৭টি টেস্ট সিরিজ জিতেছে ভারত। এর মধ্যে তাদের জয় ৪০ টেস্টে। হার মোটে চারটিতে। বাকি সাতটিতে ড্র। পাকিস্তানকে সিরিজ হারিয়ে আসা বাংলাদেশের জন্য এবারের ভারত সফরের চ্যালেঞ্জও সেখানেই। অনেকটা ‘মিশন ইম্পসিবল’-এর মতো। তবে শান্তর মতে, প্রক্রিয়া মেনে এগোতে পারলে জয় তোলা খুব বেশি কঠিনও না, ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে আমরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছি। যেটা বললেন, এটা আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছে। এটা নতুন সিরিজ। ড্রেসিংরুমের বিশ্বাস, আমরা এখানেও খুব ভালো ক্রিকেট খেলতে পারব। আমরা ফল নিয়ে ভাবছি না। প্রক্রিয়াটা অনুসরণ করতে চাই।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে এখন অবধি ১৩ টেস্টের ১১টিতেই জিতেছে ভারত। বাকি দুটি ড্র। এই ১১ টেস্টের আটটি হয়েছে বাংলাদেশে। গতকাল শান্তর কাছে জানতে চাওয়া হয়, ভারতের বিপক্ষে এবারের সফরে ভালো করতে পারলে পরবর্তী সময়ে আরও বেশি খেলার সুযোগ আসবে কি না? উত্তরে টাইগার কাপ্তান বলেন, ‘অবশ্যই এ ধরনের সিরিজ যদি ভালো করতে পারি, প্রতিটি দলই হয়তো আমাদের সঙ্গে আরও বেশি বেশি ম্যাচ খেলতে চাইবে। এটা একটা অনেক বড় সুযোগ যে এখানে আমরা কত ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি। আশা করি, বাংলাদেশ দল এখন যেভাবে টেস্ট ক্রিকেট খেলছে, আমার মনে হয় সব দল আমাদের সঙ্গে খেলার ব্যাপারে আগ্রহী হবে।’
গত পরশু রাতে দলের সঙ্গে যোগ দেন সাকিব আল হাসান। পাকিস্তান সিরিজের পর তিনি দেশে ফেরেননি। খেলেছেন ইংলিশ কাউন্টিতে। গতকাল বাংলাদেশ দলের অনুশীলন ছিল অনেকটা ঐচ্ছিক। সাকিব লম্বা সময় অনুশীলনে ঘাম ঝরিয়েছেন। মুমিনুল, জাকেরের পাশাপাশি দেখা গেছে দুই স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও নাইম ইসলামকে হাত ঘোরাতে। ধারণা করা হচ্ছে, তিন পেসারের বদলে দুই পেসার ও তিন স্পিনার নিয়ে দল সাজাতে পারে বাংলাদেশ।
চিপকের পিচ আগের মতো স্লো হবে নাকি পেসারদের জন্য সুবিধা দেবে, তা নিয়ে অনেক জল্পনা। তবে যেমনই পিচ হোক না কেন, তার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন শান্ত, ‘উইকেটের ব্যাপারে যতটুকু দেখে বুঝেছি, ভালো একটা উইকেট হবে। বেশি স্পিন না পেসনির্ভর, তা নিয়ে কথা বলতে চাই না। যত দ্রুত সম্ভব উইকেটটা মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব। আমাদের দলে স্পিন ও পেস— দুই দিক থেকে ভারসাম্য আছে। তাই এটা খুব বেশি চিন্তার কারণ হবে না।’