প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১০:১৩ এএম
আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১১:২১ এএম
বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড়দের গোলোৎসব
ম্যাচজুড়ে উদ্যাপন তো চললই। লড়াই শেষে উল্লাসটা হলো আরও বেশি। বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ল বায়ার্ন মিউনিখের ফুটবলাররা। জয়োৎসব আর গোলোৎসব, দুটোর আনন্দ একসঙ্গে করে নিল খেলোয়াড়রা। তাতেই মাঠে ছুটল হইহুল্লোড়ের ফোয়ারা। চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই দিনামো জাগরেবকে বিধ্বস্ত করল বায়ার্ন। অ্যালিয়াঞ্জ এরেনায় ক্রোয়েশিয়ান ক্লাবটিকে ৯-২ গোলের বন্যায় ভাসিয়ে দিয়ে ইতিহাস গড়ল জার্মান জায়ান্টরা।
বায়ার্নের ৯ গোলের ধ্বংসাত্মক পারফরম্যান্সের রাতে দ্যুতি ছড়িয়েছেন হ্যারি কেইন। ফুটবল জাদুতে প্রতিদ্বন্দ্বী জাগরেবের জালে ইংল্যান্ডের এ তারকা স্ট্রাইকার একাই দিয়েছেন ৪ গোল। ঝলক দেখিয়ে অনন্য এক কীর্তিও নিজের করে নিয়েছেন কেইন। চ্যাম্পিয়নস লিগে ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে সর্বোচ্চ গোল স্কোরের মাইলফলক গড়লেন কেইন। মাঠের লড়াইয়ে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে টপকে গেলেন ওয়েইন রুনিকে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কিংবদন্তি রুনির ৩০ গোলের অর্জন পেছনে ফেলে কেইন পেয়ে গেলেন ৩৩ গোলের দেখা।
মাঠে এখন দারুণ সময় কাটছে বায়ার্নের। চ্যাম্পিয়নস লিগের রাজকীয় এ জয়ই বলে দিচ্ছে ঠিক কতটা ছন্দে রয়েছে কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির শিষ্যরা। বুন্দেসলিগায় তিন ম্যাচ খেলে শতভাগ জয় তুলে নিয়ে সবার ওপরেই রয়েছে এফসি হলিউড।
কম তো নয় ১১ গোলের ম্যাচ। এমন লড়াইটা তো কালেভদ্রেই দেখা যায় ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের আসরে। গোলবৃষ্টির ম্যাচ শেষে যারা হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়ে, তাদের খুশি যে কিছুতেই ধরে না। সেই পুলকিতদের দলে বাভারিয়ানরাও। কিন্তু যে দল হজম করে এত এত গোল, তাদের কাছে দুঃস্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নয় এটা। নিশ্চিত এ দুঃসহ স্মৃতি ভুলে যেতে চাইবে জাগরেবও।
কেননা তারা গোল হজম করেছে গুনে গুনে ৯টি। বিপরীতে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়েছে তারা মাত্র দুবার। সে আবার দুই মিনিটের ব্যবধানে। যা নিতান্তই কম! সান্ত্বনা খুঁজে নেওয়ার জায়গাটুকুও নেই জাগরেবের। চ্যাম্পিয়নস লিগের এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৯ গোল হজমের লজ্জার রেকর্ডই গড়ে ফেলেছে ক্লাবটি। চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলতে পারাটা যেকোনো ক্লাবের জন্যই গৌরবের। কিন্তু এমনভাবে উড়ে যেতে হবে জানলে হয়তো ম্যাচটি না খেলেই বেশি খুশি থাকত জাগরেব।
দুই দলের ১১ গোল কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগে কোনো রেকর্ড ভাঙেনি। কোনো নির্দিষ্ট এক ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলের লড়াই এটি। ২০০৩ সালে মোনাকো ও দিপার্তিভো লা করুনার ম্যাচেও ১১ গোল হয়েছিল। সে লড়াইয়ে ৮-৩ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল মোনাকো। এক ম্যাচে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়ে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ও লেগিয়া ওয়ারশ, ২০১৬ সালে। ১২ গোলের ম্যাচে ডর্টমুন্ড পেয়েছিল ৮ গোলের দেখা।
মঙ্গলবার রাতে হোম ম্যাচে কেইন ৪ গোলের ৩টিই অবশ্য পেয়েছেন নির্ভুল পেনাল্টি শটের বদৌলতে। ম্যাচের বয়স ১৯ মিনিট হতেই কেইনের পেনাল্টি গোলের উৎসবের শুরু। মাঝে কেবল ৫৭ মিনিটের গোলটি উপহার দিয়েছেন দারুণ এক আক্রমণ রচনা করে। পরে ৭৩ ও ৭৮ মিনিটের পরের ২টি গোল পেয়ে যান পেনাল্টি থেকে। তাতেই নিজের ৪ গোলের বৃত্ত পূরণ করে ফেলেন কেইন।
বায়ার্নের অনবদ্য এ জয়ে ডাবল গোল উপহার দেন মাইকেল ওলিস। আর ১টি করে গোল এনে দেন রাফায়েল গেরেরো, লেরয় সানে ও লেয়ন গোরেৎসকা। তবে ম্যাচে গোল বাতিল হয়েছে একাধিক। এতে অবশ্য জাগরেব সান্ত্বনা খুঁজে নিতে পারে। কেননা এটা না হলে বায়ার্নের জয়ের ব্যবধান আরও বড় হয়ে যেত তাতে।