× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাংলাদেশ – ভারত সিরিজ ঘিরে অ্যাশেজের উত্তাপ

নাজমুল হক তপন

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:৩২ পিএম

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২২:৫১ পিএম

বাংলাদেশ – ভারত সিরিজ ঘিরে অ্যাশেজের উত্তাপ

সময়ের সঙ্গে বদলে যায় অনেক কিছুই। এসময়ে ক্রিকেটের আসল লড়াই অস্ট্রেলিয়া – ভারত সিরিজে। অ্যাশেজের উত্তাপ নিয়ে আসছে এই দুই দেশের টেস্ট সিরিজ, কথাগুলো বলেছিলেন কিংবদন্তীর অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ। ‍১৯৯০’র দশকে কালজয়ী অস্ট্রেলিয়ার প্রধান চ্যালেঞ্জার হয়ে ওঠে ভারত। বলা বাহুল্য , সর্বজয়ী স্টিভ ওয়াহ ভারতের মাটি থেকে টেস্ট সিরিজ জিততে পারেননি।  সম্প্রতি একই সুর প্রতিধ্বনিত হয়েছে অজি ফাস্ট বোলার মিচেল স্টার্কের কথায়। ভারত – অস্ট্রেলিয়া সিরিজকে অ্রাশেজের সমতুল্য বলে উল্লেখ করেছেন এই অজি স্পিড স্টার।

শাব্দিক অর্থে অ্যাশেজ মানে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত টেস্ট সিরিজ। কিন্তু বৃহৎ অর্থে অ্যাশেজ শব্দটি খুবই দ্ব্যর্থবোধক। ক্রিকেটে স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই আর টানটান উত্তেজনার প্রসঙ্গ আসলেই ‍তুলনীয় হয়ে ওঠে অ্যাশেজের সঙ্গে। সহজ কথায়, ক্রিকেটে উত্তাপ আর লড়াইয়ের প্রতিশব্দ অ্যাশেজ। শুধুমাত্র দেশ কিংবা  ভৌগলিক সীমার মধ্যে আটকে থাকেনি শব্দটি। ক্রিকেটে কোন দ্বৈরথ যদি ‍উচ্চমাত্রা নেয় , তবে তার মধ্যে অ্যাশেজের স্বাদ খুঁজে পান ভক্তরা।

কিছুদিন আগ পর্যন্ত উপমহাদেশ ক্রিকেটে যুদ্ধের ঝাঁঝ মানেই ভারত – পাকিস্তান দ্বৈরথ। কিন্তু সেই উত্তাপে এখন ভাঁটার টান। একদিকে পাকিস্তান ক্রিকেটের মান ক্রম নিম্নমুখী। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে ক্রিকেট কুটনীতিতে ব্যাপকভাবে পিছিয়ে পড়েছে ‍এক সময় দুনিয়া কাঁপানো ক্রিকেট দলটি। সহজ ভাষায় বললে, আয়োজনের দিক থেকে ‍খুবই পিছিয়ে পড়েছে তারা। অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে অন্য দেশগুলোকে ‍তাদের দেশে আনতে হয় পাকিস্তানকে। অর্থাৎ স্বত:স্ফুর্তভাবে বিদেশী দলগুলো পাকিস্তান সফরে যেতে চায় না। যার ফল হিসাবে আগের সেই উন্মাদনা হারিয়েছে পাকিস্তান – ভারত দ্বৈরথ।

পাকিস্তান যত পিছিয়েছে ততই এগিয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে আয়োজনের সক্ষমতায় বাংলাদেশ টেক্কা দিতে পারে বিশ্বের যে কোন দেশকে। নিয়মিতভাব বৈশ্বিক টুর্নামেন্টগুলো ‍সাফল্যের সঙ্গে আয়োজন করে আসছে বাংলাদেশ। তবে ঘাটতি অন্য জায়গায়। বিশেষ করে  টেস্ট ক্রিকেটে খুবই ভুগতে হয়েছে টিম টাইগার্সকে। তবে সেই দু:স্বপ্ন পেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। সবচেয়ে বড় দুর্নাম হয়ে দেখা দেয় বিদেশের মাটিতে অনুজ্জল পারফরম্যান্স। ঘরের মাঠে বাঘ আর বিদেশের মাটিতে বিড়াল এই অপবাদ নিয়েই ‍চলতে হয়েছে টাইগারদের। বিদেশের মাটিতে টেস্টে ভাল ফল করতে না পারলে , শ্রদ্ধা মিলবে না এটাই হয়ে ওঠে চরম বাস্তবতা। দু বছর আগে নিউজিল্যান্ড সফরে ধরা দেয় সেই পরম কাঙ্খিত জয়। উপমহাদেশের দলগুলোর জন্য খুব কঠিন এক চ্যালেঞ্জ নিউজিল্যন্ড সফর। ২০২২ সালের সফরে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডকে প্রথম টেস্টে হারায় টিম টাইগার্স। মাউন্ট মঙ্গানু্‌য়ে অনুষ্ঠিত ওই টেস্টে বাংলাদেশের জয় আসে ৮ উইকেটের ব্যবধানে। বলা বাহুল্য নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এটা বাংলাদেশের প্রথম কোন টেস্ট জয়। দুই টেস্টের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হলেও , ক্রিকেট শক্তি হয়ে ওঠার পথে অনেকটায় এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের জন্য সাম্প্রতিক সময়টা হয়ে ওঠে খুবই গুরুত্বপুর্ণ। পাকিস্তান সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই বেজে উঠেছে ভারত সফরের দামামা। পাকিস্তানকে তাদেরই মাটিতে একরকম ঘোষণা দিয়েই হারিয়েছে টিম টাইগার্স। স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডুবিয়ে লাল – সবুজের উৎসব করেছে বাংলাদেশ। তাদের  ক্রিকেটের সুদীর্ঘ ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মত ঘরের মাটিতে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে  পাকিস্তান। ইংল্যান্ডের পর এই কৃতিত্ব বাংলাদেশের।

স্বাগতিক পাকিস্তানকে নিয়ে ছেলেখেলা করার পর এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট টক অব দ্য ওয়ার্ল্ড।

বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজকে ভীষণ গুরুত্ব দিচ্ছেন ভারতের গ্রেট তথা দেশটির মিডিয়া। ভারতের স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ভাষায় ‘কী দারুণ জয় বাংলাদেশের!  মনে রাখতে হবে ,পাকিস্তানকে সহজে হারানো যায় না। যোগ করেন , ‘অবশ্যই, বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে।’ ভারতীয় ব্যাটিংয়ে তরুণ সেনসেশন  শুভমান গিল বলেন, ‘ বাংলাদেশ যেভাবে ক্রিকেট খেলছে, সেটি দারুণ।  তাদের ফার্স্ট বোলার ও মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা যেভাবে চাপ সামলেছে, তা উপেক্ষা করা যাবে না। আমি বিশ্বাস করি ভারতের জন্য খুবই আকর্ষণীয় ও জমজমাট একটি সিরিজ হতে যাচ্ছে।’

ভারত মিডিয়ায় প্রতিদিনই বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে লেখা হচ্ছে গুরুত্বসহকারে। অথচ খুব বেশি দুর যাওয়া লাগবে না, টিম টাইগার্স‍কে নিয়ে কি তুচ্ছ- তাচ্ছিল্যই না করেছে  বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম মোড়ল ভারত। বাংলাদেশের সঙ্গে টেস্ট সিরিজ খেলতে চাইত ‍না তারা। বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস পায় ১৯৯৯ সালে। আর ভারত সফরে প্রথমবার টেস্ট খেলতে যাওয়ার সুযোগ পায় ২০১৭ সালে। অর্থাৎ টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার দেড় যুগ পর ভারতের মাটিতে টেস্ট খেরার প্রবেশাধিকার পায় বাংলাদেশ। স্টিভ ওয়াহর কথাটিই স্মরণ করা যাক আবােরও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় অনেক কিছুই। উপমহাদেশ ক্রিকেটের নতুন ঝাঁঝ তথা অ্যাশেজের উত্তাপ এখন বাংলাদেশ – ভারত দ্বৈরথকে ঘিরে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা