ফেডারেশনের ৪২ সভাপতি অপসারণ
রুবেল রেহান
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৭:২৪ পিএম
সংস্কারের ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থা ও ফেডারেশনের ৪২ জন সভাপতিকে অপসারণ করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। সংগৃহীত ছবি
সরকার পতনের পর সব ক্ষেত্রে চলছে সংস্কার। ক্রীড়াঙ্গনও তার ব্যতিক্রম নয়। বেশ কিছু সংস্কারের ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থা ও ফেডারেশনের ৪২ জন সভাপতিকে অপসারণ করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকেই। কেউ আবার মনে করছেন সংস্কারের এই ধারাবাহিকতায় বদলে যাবে ঘুণে ধরা ক্রীড়াঙ্গন। তবে সেজন্য চাই স্বচ্ছ পরিকল্পনা এবং তার বাস্তবায়ন।
সংস্কারের এই ধারায় বাদ দেওয়া হয়েছে বক্সিং ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল একেএম আমিনুল হককে। বুধবার সরেজমিনে ফেডারেশনে গিয়ে পাওয়া যায়নি সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম তুহিনকেও। জানা গেছে, সরকার পতনের পর গা ঢাকা দিয়ে আছেন আওয়ামী লীগের পদে থাকা তুহিন। আপাতত বক্সিংয়ের হাল ধরেছেন কোচ ও ফেডারেশনের সিনিয়র সদস্য সৈয়দ মহিউদ্দিন আহমেদ। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি জানান, ‘সরকার পতনের পর এই স্বৈরাচারীও (মাজহারুল ইসলাম তুহিন) পালিয়ে আছেন। ফেডারেশনকে কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন এতদিন। তার নামে মামলাও হয়েছে।’ সভাপতি অপসারণ করা নিয়ে জিজ্ঞেস করা মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সরকারের সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই। সভাপতি, সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ট্রেজারারও দলীয়করণের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার পলিটিক্যাল কার্যক্রমও এখানে বসেই করতেন। এখন ফেডারেশন অচল। কোনো কার্যক্রম চলছে না।’ সামনে সভাপতি পদে নিয়োগ কোন প্রক্রিয়াতে হওয়া উচিত বলে মনে করেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওয়ার্ল্ড বক্সিং কাউন্সিল যেটা তাদের এজেন্ডা অনুযায়ী, সভাপতি নির্বাচন ভোটের মাধ্যমে আসতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশের সরকারের যে পলিসি, সেখানে সভাপতি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সরাসরি নিয়োগ প্রদান করে। আমি চাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের মাধ্যমে এটা হওয়া উচিত।’
ফেডারেশনে সভাপতি নিয়োগ নিয়ে ভিন্নমত আর্চারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রাজীব উদ্দিন আহমেদ চপলের। বুধবার সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘দেশের প্রতিষ্ঠিত ও নামধারী কোম্পানির হাতে ফেডারশেনের দায়িত্ব থাকতে পারে। জাপানের অনেক অনেক কোম্পানি তো ওদের দেশের ফেডারেশনের পৃষ্ঠপোষকতা করে।’ বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনে সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান কোহিনুর অবশ্য অপসারণ হওয়া সভাপতি নুরুল ফজল বুলবুলের পক্ষেই কথা বলেছেন, ‘সভাপতি হিসেবে তিনি বেশ কো-অপারেটিভ ছিলেন। তবে সরকারের সিদ্ধান্ত অবশ্যই ঠিক। আমি এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে নই।’ পরবর্তী সভাপতি কোন প্রক্রিয়ায় আসা উচিত, সে বিষয়ে সরকারের ওপরই আস্থা রাখতে চাইছেন তিনি।
একটি বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে সচল করার পর ফেডারেশনগুলোতে অ্যাডহক কমিটি দেবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। তবে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া এবার ক্রীড়াঙ্গনকে বদলে দেবে বলে মনে করেন বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ কামরুন্নাহার ডানা। নিজের মত প্রকাশ করে সাবেক এই ব্যাডমিন্টন তারকা বলেন, ‘বিগত সময় দেখা গেছে যে সরকারই আসে তাদের পছন্দমতো লোকদের ফেডারেশনে বসায়। এতে ফেডারেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আসলে যারা রাজনীতি করেন তাদের তো অনেক কাজ থাকে। সে চাইলেও তো ফেডারেশনে সেভাবে সময় দিতে পারে না। বেশিরভাগ সময় দেখেছি বড় বড় মন্ত্রী সভাপতির পদে থাকেন। কিন্তু সভাপতির কাজ তো খেলাটাকে মাঠে রাখা, ফান্ড ম্যানেজ করা। কিন্তু সেটা করার সময় তারা পান না। এবার আশা করছি, এমন কিছু আর দেখতে হবে না। এরপর সভাপতি নির্বাচন বা নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তার ভাষ্য, ‘আমরা তো নির্বাচন করে দেখলাম। নির্বাচন করে তো কোনো লাভ হয়নি। জেলা ও বিভাগীয় ফোরাম আমাদের যে যন্ত্রণা দিচ্ছে, এই জাঁতাকল থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। এই সরকার সব বিভাগে সংস্কার চাচ্ছে, আমি চাই ক্রীড়াঙ্গনেও এমন একটা সিস্টেম করবে যেন ৮ বিভাগের ৬৪ জেলার ৭২ ভোট চুরি করতে আর কেউ না পারে।
সাবেক টেবিল টেনিস খেলোয়াড় জোবেরা রহমান লিনুর মত, ‘আমি আসলে এটা নিয়ে চিন্তা করিনি। সামগ্রিকভাবে আমি বলতে পারব না। তবে টেবিল টেনিস ফেডারেশন নিয়ে যদি আমি বলি, তবে এটা তো অনেক দিন ধরেই অকার্যকর হয়ে ছিল। কয়েকবার অ্যাডহক কমিটি গঠনের পর গত বছর জুন মাস থেকে কার্যত সভাপতি, সহসভাপতি হিসেবে কেউ নেই। সভাপতি বছরে এক-দুবার আসে কি না সন্দেহ আছে। তাদের অপসারণ করাকে সাধুবাদ জানাই। যারা সময় না দেন তাদের থাকা উচিত নয়।’