প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:৩১ পিএম
পাকিস্তানের বিপক্ষে সবশেষ সিরিজকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিলেও নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে মুখিয়ে লিটন— ছবি: আ. ই. আলীম
পাকিস্তান সিরিজের রেশ যেন কাটছেই না। মিরপুরে আজ সংবাদ সম্মেলনে লিটন দাস বলেই বসলেন, ‘সামনে তাকানোটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান সিরিজ নিয়ে যদি বেশি কথা না বলেন, খুব ভালো হবে।’ দিনচারেক পর ভারতগামী বিমান ধরবে বাংলাদেশ দল। দুটি টেস্টের পর রয়েছে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচও। মঙ্গলবার যদিও সবশেষ সফরের গল্পই বেশি বলতে হয়েছে লিটনকে। পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের সাফল্য নিয়েই ভারত যাবে বাংলাদেশ। তাই অনেকটা আত্মবিশ্বাসী উইকেটকিপার ব্যাটার। পরক্ষণেই মনে করিয়ে দিয়েছেন বাস্তবতা, ‘চ্যালেঞ্জিং হবে সফর।’
গত ৩ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলে বাংলাদেশ। এর ১৬ দিনের ব্যবধানে উপমহাদেশের আরেক পরাশক্তি ভারতের মুখোমুখি হবে শান্ত ব্রিগেড। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দুটি ম্যাচ শুরু হবে ১৯ সেপ্টেম্বর। গুরুত্বপূর্ণ এবং বাড়তি উত্তেজনা ছড়ানো সিরিজ সামনে রেখে প্রস্তুত হচ্ছেন টাইগাররা। তপ্ত রোদের মাঝে শেষ তিন দিন ব্যাটিং ঝালিয়ে নিয়েছেন লিটনও। মিরপুরে গতকাল পরে সাংবাদিকদের শুনিয়েছেন আশার গল্প। দায়িত্ব নেওয়ার উপযুক্ত সময় মনে করিয়ে লিটন বলেছেন, চ্যালেঞ্জ হলেও সহজেই হাল ছাড়বেন না তারা।
তবে ভারত যাওয়ার আগে রোহিত শর্মাদের সমীহ করেছেন লিটন, ‘ভারতের মাঠে যখন ওদের সঙ্গে খেলবে, তখন সবসময় বেটার সাইডে থাকবে ভারত। আমি বলব না খুব চ্যালেঞ্জিং হবে না, তবে খুব সহজও হবে না। তাদের কন্ডিশনে তারা খুব ভালো দল। টেস্ট ক্রিকেটে যদি র্যাঙ্ক ধরেন তারা উপরে। আমাদের জন্য খুব চ্যালেঞ্জিংই হবে।’
কদিন আগে পাওয়া পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয় যদিও বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাবে বাংলাদেশকে। তবে ভেন্যু, কন্ডিশন এবং প্রতিপক্ষ সবই ভিন্ন। এমনকি ভারত সিরিজে বদলে যাচ্ছে বল। সাধারণ কোকাবুরা বলে অভ্যস্ত বাংলাদেশ। পাকিস্তানেও কোকাবুরা বলে খেলেছে। কিন্তু ভারত সফরে শান্তদের খেলতে হবে এসজি বলে। অনভস্ততা থাকাটা চ্যালেঞ্জ মানলেও লিটন আশাবাদী কঠোর অনুশীলনে তারা এটি কাটিয়ে উঠতে পারবে, ‘আপনারা জানেন ভারত বড় একটা দল এবং আমাদের বলটাও পরিবর্তন হচ্ছে। এই বলে খুব কমই খেলি। চ্যালেঞ্জিং হবে। আমাদের খেলোয়াড়রাও খুব পরিশ্রম করছে। দেখা যাক কী হয়।’
দলের মতো লিটনও চান ধারাবাহিকতা। ব্যাট হাতে কিংবা উইকেটের পেছনে সেরাটা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই ভারতে যাওয়ার প্রত্যয় তার। দীর্ঘবিরতির পর সাদা পোশাকে সবশেষ সিরিজে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন। দুর্দান্ত ব্যাটিং করা লিটনের দায়িত্বও সামনে বেশি। লিটনের চাওয়াও সেটা— ধারাবাহিকতা ধরে রাখা, হোক সেটা দল কিংবা নিজের। তাই কোন চাপ দেখছেন না লিটন, ‘এটা আসলে অনুপ্রেরণাই দেয়। ভালো খেললে সুনাম হবে, দুজন মানুষ চিনবে। এর চেয়ে বড় পাওয়া তো আর কিছু থাকতে পারে না! আমার মনে হয় না চাপের কিছু আছে। টেস্ট ক্রিকেটটা আমরা এখন মোটামুটি ভালো খেলছি। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে, এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন।’
পাকিস্তান সিরিজে ব্যাটিং ইনিংসে ধসে পড়া বাংলাদেশকে টেনেছিলেন লিটন। রাওয়ালপিন্ডিতে দ্বিতীয় টেস্টের নায়কও তিনি। ভারত সফরেও তার ব্যাটের দিকে তাকিয়ে পুরো বাংলাদেশ। ভালো কিছু দেওয়ার চ্যালেঞ্জ তাই আরও বাড়িয়ে নিতে চান লিটন, দায়িত্বটাও বুঝে নিতে চান, ‘আমি অলমোস্ট নয়-দশ বছর ক্রিকেট খেলতেছি। ওইটুক অভিজ্ঞতা হয়েছে দায়িত্ব নেওয়ার। এখন না আর কবে সুযোগ পেলে। আমি বলতেছি যে দায়িত্ব নেওয়ার সময় এসেছে। এই জিনিসটা এই না যে প্রতি ম্যাচের দায়িত্ব নিতে হবে আমাকে। আমি মানুষ আমার ভুল হতে পারে।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে সবশেষ সিরিজকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিলেও নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে মুখিয়ে লিটন। অতীত নিয়ে পড়ে থাকতে চান না তিনি। ভারতের বিপক্ষে রান করার চাপ থাকলেও তা জয় করার মন্ত্রেই বিশ্বাসী লিটন, ‘চাপ সব জায়গায়। খালি ওপেন করলেই চাপ, ছয়ে খেললে চাপ না! আমার থেকে ব্যাটার নিচে আছে (মেহেদী হাসান) মিরাজ। চাপ না, টেস্ট এমন খেলা, সারাদিনে জিরো থেকে শুরু করে সময় আছে বড় করার। আমার মনে হয় চাপ না। আমি যেভাবে অনুশীলন করি চেষ্টা করছি সেভাবেই করার।’
১৬ দিনের ব্যবধানে আরেকটি টেস্ট সিরিজ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ তো বটেই ভারতের বিপক্ষে খেলা মানে বাড়তি চাপ, বাড়তি উত্তেজানা এবং সমর্থকদের বাড়তি চাওয়ার। সেই সব চাওয়া দায়িত্ব নিয়েই পূরণ করতে চান লিটনরা।