প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২০:৩১ পিএম
আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২০:৪৮ পিএম
ভালো খেলা, ভালো ফল তো বটেই, ভুটানে বাংলাদেশ ফুটবল দলের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি। বৈরী আবহাওয়া, থিম্পুর টার্ফ, সবশেষ ম্যাচগুলোতে বাজে ফর্ম-এসবই বাংলাদেশ শিবিরে ছিল বড় বাঁধা। সবকিছুই উবে গেছে গত বৃহস্পতিবারের এক জয়ে। তাতেই দলীয় সংহতির ছিঁড়ে যাওয়া সুঁতায় লাগে জোড়া। আর বড় স্বপ্নের আঁকিবুকি দেখা যায় জামাল ভুঁইয়াদের চোখে। তবে প্রথমের মতো দ্বিতীয় ম্যাচটি রাঙাতে পারেনি বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ফলে ভুটান সফরে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ হলো না বাংলাদেশের।
থিম্পুর চ্যাংলিমিথাং
স্টেডিয়ামে সফরের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখির আগে শিষ্যদের উদ্দেশে বাংলাদেশ দলের
সহকারী কোচ হাসান আল মামুন বলেছিলেনÑ বাংলাদেশের ভুটান সফরের উদ্দেশ্য ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে
উন্নতি করা। এর জন্য চাই পূর্ণ পয়েন্ট। প্রথম ম্যাচে সেটি ভালোভাবেই করেছিলেন লাল-সবুজের
প্রতিনিধিরা। মোরছালিনের এক গোলে জয়ের মালা পরেন সফরকারীরা। দ্বিতীয় ম্যাচেও অভিন্ন
লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামেন তারা। কোচের সঙ্গে সুর মিলিয়ে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া বলেছিলেন,
‘আপনারা সবাই টিমের জন্য দোয়া করবেন। আশা করি, আমরা পূর্ণ তিন পয়েন্ট পাব।’ তবে এর
জন্য ভুটানের সঙ্গে এবং পরিবেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খেলার জন্য জোর দেন তিনি, ‘আমি
বলব ভুটান প্রথম ম্যাচে অনেক ভালো খেলেছে। তারপরও যদি ক্লিনশিট রাখতে পারি সেটা আমাদের
জন্য ভালো হবে।’
প্রথম ম্যাচে
ভালো খেলার ‘প্রচেষ্টা’ গতকাল মাঠে দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষকে পড়া,
সেই সসঙ্গে চ্যাংলিমিথাংয়ের টার্ফ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটলেও সফরের শেষ ম্যাচ সুন্দর করতে
পারেননি কাবরেরার শিষ্যরা। ম্যাচে বাংলাদেশ দুটি পরিবর্তন নিয়ে খেলে। ফরোয়ার্ড রাকিব
হোসেন ইনজুরিতে। তার পরিবর্তে শাহরিয়ার ইমনকে সুযোগ দেওয়া হয়। ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষের
জায়গায় ইসা ফয়সাল খেলেন।
গতকালের ম্যাচে
দুই পক্ষেরই শুরুটা হয়েছে ম্যাড়মেড়ে। প্রথম ম্যাচের মতো প্রথমার্ধে নানন্দিক খেলা উপহার
দিতে পারেনি দুই দলই। বলার মতো আক্রমণও সেভাবে হয়নি। বরং বলের দখলে এগিয়ে ছিল স্বাগতিক
ভুটান। অন্তত তিনটি সুযোগ পায় তারা।
এদিন ম্যাচে মাত্র
দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে ভুটান। দর্শকরা গ্যালারিতে স্থির হয়ে
বসার আগেই আক্রমণে ওঠে স্বাগতিকরা। ক্রসবারের কয়েক গজ দূরে ভুটানের বল রুখে দেন বাংলাদেশের
গোলকিপার মিতুল মারমা। তার ঠিক ৯ মিনিট পর তপু বর্মনের লম্বা বল অফসাইড ফাঁদ ভেঙে পেয়ে
ডান দিকে আক্রমণে গিয়েছিলেন ফয়সাল আহমেদ ফাহিম। তার শট রুখে দেন ভুটানের রক্ষণভাগের
ফুটবলার। ২১ মিনিটে ভুটান আবারও আক্রমণে যায়। অল্পের জন্য বেঁচে যায় সফরকারীরা। সতীর্থের
ক্রসে ওয়াংডি নিমা পা ছোঁয়াতে পারেননি। তাতেই রক্ষা পান জামালরা।
মিনিট দশেক পর
বাংলাদেশের রক্ষাকবচ হন মিতুল। অহেতুক কারিকুরি করতে গিয়ে বিপজ্জনক নামগিলের কাছে বল
হারান সোহেল রানা। বল নিয়ে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে নামগিলের জোরালো শট শেষ মুহূর্তে
লাফিয়ে ফিস্ট করে দলকে বাঁচান মিতুল। আর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সোহেল রানার থ্রু
থেকে বক্সে ঢুকে গিয়েছিলেন শাহরিয়ার ইমন। তবে তার শট আগুয়ান ইয়েশি গেলশেন ব্লক করে
গোল হতে দেননি।
বিরতির পর আগের
মতোই ঢিমেতালে চলতে থাকে ম্যাচ। বলার মতো এই অর্ধে আক্রমণও হয়নি। উল্টো স্বাগতিকরা
শক্তিমত্তা দেখান এই অর্ধে। ৬৭ মিনিটে বক্সের ভেতরে ইয়েশ দর্জির কোনাকুনি শট বেরিয়ে
যায় দূরের পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে। একটু পর কিংমা ওয়াংচুকের দুর্বল শট সহজে গ্লাভসে
জমান মিতুল।
ম্যাচের ৭৫ মিনিটে মোরছালিনের
জায়গায় জামাল ও সোহেল রানা জুনিয়রের বদলি হিসেবে মজিবুর রহমান জনি নামেন। অভিজ্ঞ দুজন
নামলেও খেলার গতি বা আক্রমণের ধার বাড়েনি। বরং শেষ দিকে আচমকাই গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ।
ফ্রি কিকের পর সতীর্থের হেড পাসে বক্সে ফাঁকায় থাকা কিংমা ওয়াংচুকের নিখুঁত শট বাংলাদেশের
জালে জড়ায়। এ হারে ২০১৬ সালের পর ভুটানের মাঠে ফের হারের তেতো স্বাদ পেল বাংলাদেশ।
১৬ ম্যাচের পরিসংখ্যানে এখন বাংলাদেশের জয় ১২টি, ভুটানের ২টি