প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:৩৮ পিএম
আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২০:৫২ পিএম
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে বোর্ড কার্যালয়ের সামনে জটলা দেখা গেছে। রবিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি ভবনের সামনে নিজেদের ১৭ দফা দাবি নিয়ে হাজির হয়েছিলেন ৬৪ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের ক্রিকেটাররা। বিসিবিও ক্রিকেটারদের বেশিরভাগ দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
দেশের ক্ষমতার পালাবদলের জেরে এক যুগ পর বিসিবি সভাপতির পদ থেকে সরে
দাঁড়িয়েছেন নাজমুল হাসান পাপন। তার জায়গায় নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক
ক্রিকেটার ফারুক আহমেদ। এ ছাড়া নতুন করে পরিচালক হয়েছেন দেশবরেণ্য কোচ ও ক্রিকেট সংগঠক
নাজমুল আবেদীন ফাহিম। আর এই দুই কর্মকর্তার ছবি সংবলিত ব্যানার নিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে
আসেন জেলাপর্যায়ের ক্রিকেটাররা। এ সময় একাডেমি ভবনের সামনে ব্যানার নিয়ে অবস্থান করেন
তারা। পরে পরিচালক ফাহিমকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। জেলা ক্রিকেটকে ঢেলে সাজাতে ম্যাচ
ফি বৃদ্ধি করাসহ ফারুক-ফাহিমের কাছে ১৭ দফা দাবি জানিয়েছেন ক্রিকেটাররা।
তাদের দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ক্রিকেটাররা ঘরোয়া ক্রিকেটের
নির্দিষ্ট সময়সূচি, জাতীয় ক্রিকেট লিগের প্রত্যেক বিভাগে দ্বিতীয় সারির আরেকটি দল গঠন
করে লিগ আয়োজন, বিসিবির বেতনভুক্ত কোচরা যেন কোনো একাডেমিতে কাজ না করেন, ঢাকার প্রথম
বিভাগ লিগের ম্যাচ যেন অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়, ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার
অ্যাসোসিয়েশনকে (কোয়াব) নতুন করে পুনর্গঠন ও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ। প্রথম বিভাগ
ক্রিকেট লিগে তিন সংস্করণের লিগসহ প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগের সেরা ৩০ জন খেলোয়াড়সহ
৯০ খেলোয়াড়কে বেতনের আওতায় আনার বিষয়টিও আছে দাবি-দাওয়ার মধ্যে।
এ নিয়ে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগের খেলোয়াড় রিয়াজুল রিয়াদ বলেন, ‘অনেক
দিন ধরেই অনিয়ম হয়ে আসছে। যদি বিসিবি আশাবাদ ব্যক্ত করে, তাহলে আমরা আশা করছি দ্রুতই
এ সমস্যার সমাধান হবে।’
ক্রিকেটারদের বেশিরভাগ দাবিকে যৌক্তিক মনে করেন বোর্ড পরিচালক নাজমুল
আবেদীন, ‘ক্রিকেট বোর্ড কী করলে আমার লাভ হবে বা তোমার লাভ হবে, সেটা নয়…কী
করলে ক্রিকেটের লাভ হবে, এখন সেটা দেখা দরকার। সেটার জন্য যা যা করা দরকার, ক্রিকেট
বোর্ড সামর্থ্য অনুযায়ী সেই জিনিসটা করবে।’
পরে ফাহিম যোগ করেন, ‘জেলা ক্রিকেট চালু করা, জেলাপর্যায়ে একটা উইকেট
থাকা থেকে শুরু করে প্লেয়ারদের ওয়েলফেরার…প্রতিযোগিতা
বাড়ানোর কথা যদি বলি, সিস্টেমেটিক্যালি সবখানে যেন ফেয়ারলি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ট্যালেন্ট
আইডেন্টিফিকেশনের জন্য সবাই যেন সমান সুযোগ পায়, এসব ব্যাপার অবশ্যই ক্রিকেট বোর্ড
দেখবে। আমরাও চোখ রাখব। তোমরা একটা ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকতে পারো, ক্রিকেট বোর্ড তার
সামর্থ্য অনুযায়ী তোমাদের পাশে থাকার চেষ্টা করবে। তোমরা ক্রিকেট খেলে যেন নিজেদের
মেধাকে প্রেজেন্ট করতে পারো, নিজেদের মেধা অনুযায়ী যেন মূল্যায়ন হয় (সেটা দেখা হবে)।
তোমাদের সব দাবি হয়তো এখনই পূরণ করা সম্ভব না-ও হতে পারে। তবে আমাদের ইচ্ছা থাকবে তোমরা
তো বটেই, যেন ক্রিকেটও লাভবান হয়।’