প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৮:২২ পিএম
আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৮:২৩ পিএম
টেস্টে নিজেদের প্রমান করতে প্রস্তুত আফগানিস্তান।
নিজ ঘরে পরবাসী। এ কথার জ্বলন্ত উদাহরণ আফগানিস্তান। দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেললেও নিজেদের মাটিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ থেকে বঞ্চিত তারা। প্রতিবেশী ভারত ও দুবাইকে হোম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করে আসছে দলটি। তবে তালেবান সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর আফগানে পুনর্জন্ম হয়েছে ঘরোয়া ক্রিকেটের। সদ্য শেষ হওয়া আফগান লিগে খেলেছেন দেশটির জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়।
রশিদ খান ও মুজিবুর রহমানরা ঘরের মাঠে ক্রিকেট ফেরানোর ব্যাপারে বেশ কয়েকবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল-আইসিসিকে অনুরোধ করেছে। কোনো টুর্নামেন্ট বা ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমে তাদের এ নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। আফগান ক্রিকেটারদের চাওয়া, শিগগিরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরুক আফগান ভূমিতে। এবার এ নিয়ে কথা বলেছেন হাশমতুল্লাহ শাহিদী। তবে তার মুখ থেকে শোনা গেল একটু ভিন্ন কথা। ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোর একান্ত সাক্ষাৎকারে হাশমতউল্লাহ বলেছেন, ‘আমাদের একটি ভালো হোম ভেন্যু প্রয়োজন। এই মুহূর্তে দেশের (আফগানিস্তান) মাটিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ ফেরা অসম্ভব।’
আগামীকাল সোমবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু হবে। সিরিজের হোস্ট আফগানিস্তান। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ভারতের রাজধানী দিল্লির পার্শ্ববর্তী শহর নদীয়াতে। শাহিদীর মতে, আমরা যখন কোনো দ্বিপাক্ষিক ম্যাচের হোস্ট হই, তখন সেখানে স্বাগতিক হিসেবেই গণ্য হই। তিনি বলেছেন, ‘আশা করি ভারতে আমরা একটা ভালো হোম ভেন্যু পাবো। এটি আমাদের জন্য অনেক উপকারী হবে।’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘আরেকটি বিষয় যদি চিন্তা করেন, ফার্স্টক্লাস ক্রিকেটে আমাদের প্লেয়ারদের রেকর্ড দুর্দান্ত। আমরা জানি আমাদের (আফগানিস্তান) হোম কন্ডিশন অনেক ভালো। আশা করি অদূর ভবিষ্যতে খেলোয়াড়রা দেশে ফিরবে। এই মুহূর্তে ভারত ক্রিকেট বোর্ডের কাছে অনুরোধ তারা যেন আমাদের ভালো একটা ভেন্যুতে খেলার সুযোগ দেয়। আমরা একটা ভেন্যুতে অনেক ম্যাচ খেলতে চাই।’
আফগানিস্তানের টেস্টে যাত্রা প্রায় ছয় বছরের। এ সময়ে মাত্র ৯টি টেস্ট খেলেছে মোহাম্মদ নবী-রশিদ খানরা। ২০২৩ সাল থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত তাদের ২২টি টেস্ট খেলার কথা। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট খেলেছে আফগানিস্তান। আগামীকাল নামবে কিউদের বিপক্ষে। এফটিপি বলছে জিম্বাবাবুয়ের বিপক্ষে ৬টি, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি, ভারত-অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ রয়েছে আফগানদের। শাহিদীর মতে, ছয় বছরে নয় ম্যাচ মোটেও আহামরি নয়। ৩০ বছর স্পর্শ করতে যাওয়া টপ অর্ডার বলেছেন, ‘আমরা যদি ভালো দলের বিপক্ষে পর্যাপ্ত খেলার সুযোগ পাই তবে আরো উন্নতি সম্ভব। এ দিক বিবেচনায় আমাদের ক্রিকেট টিম ভালো কাজ করছে। এই যেমন, তারা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট আয়োজন করেছে। আপনি যদি কিউদের টেস্ট ইতিহাস এবং র্যাংকিংয়ে তাদের অবস্থান দেখেন তবেই বুঝতে পারবেন বিষয়টি। সত্যিকার অর্থে এটি আমাদের জন্য বড় সুযোগ। আশা করি পিসিবি আমাদের ভবিষ্যতে এমন আরো সুযোগ করে দিবে। নিয়মিত উন্নতির ক্ষেত্রে অবশ্যই ভালো দলের বিপক্ষে খেলার বিকল্প নেই। একটি দল এবং একটি দেশ হিসেবে বিবেচনা করলে লক্ষ্য করবেন, আমাদের ক্রীড়ানুরাগী সমর্থক রয়েছে এবং আমাদের খেলোয়াড়রা সবসময়ই চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করেন।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান। অস্ট্রেলিয়া-ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আফগানরা কেবল এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে। তবে শাহিদীর চাওয়া, সিরিজগুলো যেন দুই তিন ম্যাচ কিংবা তারও অধিক ম্যাচের হয়। দেশের জার্সিতে ৮ টেস্ট খেলা এই ব্যাটার বলেছেন, যদি আমরা তিন অথবা চার ম্যাচের সিরিজ খেলার সুযোগ পাই, আমি মনে করি এটি খেলোয়াড়দের উপকৃত করবে। একটু পেছনে তাকালেই স্পষ্ট হবে বিষয়টা। একটি টেস্টের জন্য আমাদের দশদিন আগ থেকেই প্রস্তুতি শুরু করতে হয়। সত্যিকার অর্থে লাল বলের খেলা মোটেও সহজ নয়। নিয়মিত টেস্ট খেললে সেটি আপনাকে উপকার দিবে ভালো খেলতে। ব্যাক টু ব্যাক তিন চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেললে সেটা আমাদের জন্যই ভালো।’
আন্তর্জাতিক টেস্ট র্যাংকিংয়ে আফগানিস্তানের অবস্থান ১২তম। পঞ্চাশ ওভারের খেলায় তারা নবমে এবং কুড়ি কুড়ির ফরম্যাটে দশম। সবশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে আফগানরা। আর ২০ ওভারের খেলায় সেমিতে উঠেছিল তারা। এসময় নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া এবং বাংলাদেশকে পরাজিত করে। শাহিদী বলেছেন, অন্য দুই ফরম্যাটের মতো টেস্টেও আমাদের উন্নতি করা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমরা আমাদের টেস্টে অবস্থানটা দেখাতে চাই। এর জন্য সকল চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে প্রস্তুত আমরা। ছেলেদের (সতীর্থ) বলতে চাই, এখনই এবং এটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ, নিজেদের দক্ষতা দেখানো। আমি যদি একজন ব্যাটার হই, আমার উচিত বড় স্কোর করা। তবেই আমার নাম সবার সামনে আসবে। আমি মনে করি আমাদের সেই সামর্থ্য আছে এবং এখনই প্রয়োজন সেটা করে দেখানো। ’