প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১২:২৫ পিএম
আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১২:৩৩ পিএম
ইউএস ওপেনের গত আসরে ফাইনালে উঠলেও রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল। এর আগে ২০২১, ২০২২ আসরে আরিনা সাবালেঙ্কাকে থামতে হয়েছিল সেমিফাইনালেই। এবার আর সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি বেলারুশের এই টেনিস তারকা। শেষ পর্যন্ত হয়েছেও তাই। যুক্তরাষ্ট্রের জেসিকা পেগুলার বিপক্ষে দারুণ লড়াই জিতে ইউএস ওপেনের নতুন রানী হয়েছেন ২৬ বছর বয়সী এই টেনিস তারকা।
শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) নারী এককের ফাইনালে মার্কিন বিলিয়নিয়ার টেরি পেগুলার কন্যা জেসিকা পেগুলাকে ৭-৫, ৭-৫ ব্যবধানে হারিয়ে ক্যারিয়ারের তৃতীয় গ্র্যান্ড স্লাম ট্রফি জিতেছেন সাবালেঙ্কা। আগের দুটি ট্রফিই তিনি জিতেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে। গত বছরের পর এবারও বছরের জানুয়ারিতে প্রথম গ্র্যান্ড স্লামটি গিয়েছিল সাবালেঙ্কার দখলে।
এ বছরটি সব মিলিয়ে দারুণ কাটল সাবালেঙ্কার। বছরের চারটি গ্র্যান্ড স্লামের দুটিই জিতে নিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি এই জয়ে হার্ড কোর্টে নিজের আধিপত্যও ধরে রাখলেন সাবালেঙ্কা। পেগুলাকে হারানোর মধ্য দিয়ে এই কোর্টে টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকলেন তিনি। একইসঙ্গে এই বেলারুশ সুন্দরী একটি রেকর্ডও গড়েছেন, ২০১৬ সালের পর প্রথম কোনো নারী তারকা হিসেবে দুটি হার্ড-কোর্টে টাইটেল জিতলেন।
এর আগে জাপানের নাওমি ওসাকা সর্বোচ্চ চারটি হার্ড-কোর্টে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতেন ২০১৮ ও ২০২০ ইউএস ওপেন, ২০১৯ ও ২০২১ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে। এ ছাড়া পরপর দু’বার ইউএস ওপেনের ফাইনালে উঠেও আমেরিকান কিংবদন্তি সেরেনা উইলিয়ামসের (২০১৮-১৯) রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন সাবালেঙ্কা।
ফাইনালের মঞ্চে বেশিরভাগ সমর্থন স্বাগতিক তারকা ৩০ বছর বয়সী পেগুলার দিকে। ফলে ম্যাচটিতে সাবালেঙ্কার প্রতিপক্ষ ছিল গ্যালারিও। তবু ১ ঘণ্টা ৫৩ মিনিটে লড়াইয়ে খেতাব ছিনিয়ে নিয়ে পেগুলার গ্র্যান্ড স্ল্যাম চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অপেক্ষা আরও বাড়িয়ে দিলেন। দ্বিতীয় সেটে একটা সময় ৫-৩ গেমে এগিয়ে ছিলেন পেগুলা। টেনিসপ্রেমীরা যখন ধরে নিয়েছেন খেলা তৃতীয় সেটে গড়াবে, ঠিক তখনই আস্তিন থেকে নিজের সেরা চাল বের করে আনেন সাবালেঙ্কা। টানা চার গেম জিতে সেট, ম্যাচ এবং ইউএস ওপেন জিতে নেন।
প্রথমবারের মতো ইউএস ওপেন জেতার প্রতিক্রিয়ায় সাবালেঙ্কা বলেছেন, ‘আমি এই মুহূর্তে নির্বাক। এটা সব সময় আমার স্বপ্ন ছিল এবং আমি শেষ পর্যন্ত সুন্দর এই ট্রফিটি জিততে পেরেছি। আপনি যদি কোনো কিছুর জন্য কঠিন পরিশ্রম করেন এবং সবকিছু উৎসর্গ করে দেন, একদিন সেটা আপনার মিলবেই। আমি নিজেকে নিয়ে দারুণ গর্বিত। আমি কখনো এই কথা বলিনি, তবে আমি সত্যিই নিজেকে নিয়ে দারুণভাবে গর্বিত। আমি আমার দলকে নিয়েও গর্বিত।’
সাবালেঙ্কার আনন্দের বিপরীতে পেগুলার জন্য দিনটা ছিল হতাশার। প্রথমবারের মতো কোনো গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালে উঠেছিলেন, কিন্তু লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত জিততে পারেননি। এর আগে সিনসিনাটি ওপেনের ফাইনালেও সাবালেঙ্কার কাছে হেরেছিলেন তিনি। ফাইনালে সেই হারের প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন মার্কিন এই টেনিস তারকা। কিন্তু পেগুলার সেই আশা পূরণ হলো না। প্রতিপক্ষ পেগুলার প্রশংসা করে সাবালেঙ্কা বলেন, ‘জেসিকা, তুমি দারুণ টেনিস খেলেছ, তুমি নিশ্চয়ই এটি জিততে পারবে। তুমি দুর্দান্ত খেলোয়াড়, বিশেষ করে দ্বিতীয় সেটে ভালো করেছ।’