প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০১:০৮ এএম
আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০১:৩১ এএম
ম্যাচের আগের দিন অনুশীলনে দলের তিন গোলরক্ষক। ছবি : বাফুফে
প্রতিকূল আবহাওয়ার (সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে আট হাজার ফুট উঁচু) সঙ্গে যোগ হয়েছিল ২০১৬ সালে থিম্পুর চ্যাংলিমিথাংয়ে ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র পরাজয়। তা ছাড়া দেশটিতে যাওয়ার আগে টানা হারের তিক্ত স্মৃতিও ছিল সঙ্গী। প্রথম ম্যাচ জিতেই সেসব ভয়-শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে হাভিয়ের কাবরেরার দল। ভয়কে জয় করে এবার সাফল্যে আরেকটি মালা পরার অপেক্ষা। কেবল জয়ই নয়, আরও ভালো ম্যাচ খেলতে চায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। দ্বিতীয় ফিফা প্রীতি ম্যাচে আজ বাংলাদেশকে মোকাবিলা করবে ভুটান। খেলাটি মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায়।
এবারের ভুটান সফরের প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি করা। কিছুদিন আগে বাফুফে ভবনের সামনে সংবাদমাধ্যমকে এমনটাই বলেছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার। মূলত এএফসি এশিয়ান কাপে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পেতেই সেপ্টেম্বর উইন্ডোতে ভুটানকে বেছে নেয় বাফুফে। শনিবার আরও একবার সেই আপ্তবাক্য উচ্চারণ করলেন ভুটানে দলের সঙ্গে থাকা সহকারী কোচ হাসান আল মামুন, ‘সবকিছু মিলিয়ে আপনারা জানেন, এখানে আমরা এসেছি ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করার জন্য। আসলে এ কারণেই আমাদের সমান, কিংবা র্যাঙ্কিংয়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে খেলছি, দলের প্রস্তুতি ও মনোভাব সে রকমই।’
আর সে কারণেই পূর্ণ তিন পয়েন্টে চোখ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার। ম্যাচের আগের দিন বলেছেন, ‘আমি চাই আপনারা সবাই টিমের জন্য দোয়া করেন, আর টিমের পাশে থাকেন, আশা করি আমরা পূর্ণ তিন পয়েন্ট পাব।’ প্রথম ম্যাচে মূল একাদশে না থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে তাকে বদলি হিসেবে নামান কোচ কাবরেরা। শেষ দিকে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া ছিল ভুটান। গোল পরিশোধে একাধিকবার বাংলাদেশের ডেরায় ঢুকেছে প্রতিপক্ষে ফরোয়ার্ডরা। তবে গোলরক্ষক মিতুল মারমা ছিলেন অবিচল। তার নৈপুণ্যে ক্লিনশিট রাখে বাংলাদেশ। এই ম্যাচেও গোল হজম না করার দিকে মনোযোগ দিতে চান ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে খেলা জামাল, ‘আমি বলব ভুটান প্রথম ম্যাচে অনেক ভালো খেলেছে। তা ছাড়া ওরা তিন-চারটা খেলোয়াড়কে পায়নি। তারপরও মাঠে যারা ছিল তারা ভালো খেলেছে। ওরা আমাদের খুব চাপে রেখেছিল। তারপরও যদি ক্লিনশিট রাখতে পারি সেটা আমাদের জন্য ভালো হবে।’
প্রথম ম্যাচে শেখ মোরছালিনের একমাত্র গোলে জেতে বাংলাদেশ। ওই গোলটি অবশ্য প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের ভুলেই পেয়ে যায় বাংলাদেশ। তবে কর্নারের কাছাকাছি থেকে ভুটানের বক্সে ক্রস দিয়েছিলেন রাকিব হোসেন। যে কারণে গোলে অবদান আছে অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডের। তবে দুঃসংবাদ; দ্বিতীয় ম্যাচে তাকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। ওই ম্যাচেই আঘাত পেয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন তিনি। তাকে নিয়ে সহকারী কোচের ভাষ্য, ‘আপনারা দেখেছেন গত ম্যাচে থ্রোয়িংয়ের একটা মুহূর্তে রাকিব পায়ের ওপর ওদের এক খেলোয়াড় পড়েছে। তাতে অ্যাঙ্কেলে ব্যথা পায় রাকিব। এরপর টিম ম্যানেজমেন্ট ওকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার এক্সরে হয়েছে, এমআরআই করানো হয়েছে, তো আমরা যেটা জানতে পেরেছি, এই ম্যাচে ওকে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ইনজুরিটা এত মারাত্মক না যে এটার জন্য তাকে লম্বা সময় মাঠের বাইরে থাকতে হবে। আশা করি, খুব শিগগিরই সে দলের সঙ্গে ফিরবে।’ রাকিব না থাকলে তার জায়গায় কে সুযোগ পাবেন সেটি অবশ্য খোলাসা করেননি তিনি। আগের ম্যাচে রাকিবের বদলি হিসেবে নামেন সবশেষ লিগে মোহামেডানের জার্সিতে খেলা শাহরিয়ার ইমন। আজকের ম্যাচের সেরা একাদশেও দেখা যেতে পারে তাকে।
এবার ভুটানে বাংলাদেশ গেছে ম্যাচের প্রায় এক সপ্তাহ আগে। যে কারণে সেখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে দল। প্রথম ম্যাচ জেতার পরের দিনও ছুটিতে থাকেনি দল, অনুশীলন করেছে। ম্যাচের আগের দিনের অনুশীলন সেশন শেষে সহকারী কোচ হাসান আল মামুন বলেন, ‘যেটা হয় আর কি, ম্যাচের আগের দিন অনুশীলন পর্ব একটু হালকা থাকে। এদিনে মূল উদ্দেশ্য থাকে খেলোয়াড়দের খেলায় মনোযোগী রাখা। আপনারা জানেন যে, একটা ম্যাচ ওদের সঙ্গে আমরা খেলেছি। তো ওদের সম্পর্কে আমাদের অনেকটা জানা হয়েছে। ভুটান এবার আমাদের সঙ্গে যে ফরম্যাটে খেলেছে অতীতে তাদেরকে এমন ফরম্যাটে আমাদের বিপক্ষে খেলতে দেখি নাই। আগে ৪-১ কিংবা ৪-২-৩-১ এই ফরম্যাটে খেলেছে, কিন্তু এবার তারা আমাদের বিপক্ষে ব্যাকে ৫ জন নিয়ে খেলেছে। তাই এটা অন্য রকম ছিল। তো আজকের (শনিবার) মিটিংয়ে, অনুশীলনে এসব নিয়ে কথা বলেছি। কীভাবে আমরা প্লেসিংয়ে যাব, কীভাবে ব্লকটা করব এবং কীভাবে আমরা অ্যাটাকে যাব; এ ছাড়া তাদের যে দুর্বলতা আছে সেগুলো কাউন্টারে আমরা কীভাবে কাজে লাগাব, মূলত এগুলো নিয়েই কাজ হয়েছে।’
প্রতিপক্ষের দুর্বলতা তো জানাই হলো। সেইসঙ্গে চ্যাংলিমিথাংয়ের টার্ফ নিয়ে কেটেছে ধোঁয়াশা। এবার সেই একই মাঠে আরেকটি জয় নিয়েই সফর শেষ করতে চায় বাংলাদেশ। সহকারী কোচের কথায়, ‘আমাদের একটা দুশ্চিন্তা ছিল এখানকার টার্ফ নিয়ে, ইতোমধ্যে এসবে আমরা মানিয়ে নিয়েছি। আশা করি, কালকে (আজ) ছেলেরা একটা বেটার ম্যাচ খেলবে, প্রথম ম্যাচে টুকটাক যেসব ভুল ছিল সেসব কাটিয়ে আমরা বিজয়ী হব।