ইউএস ওপেন ফাইনাল
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২২:০৮ পিএম
আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৫:৪৫ পিএম
জেসিকা পেগুলা ও আরিনা সাবালেনকা
ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ফাইনাল, সে আবার গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টে। তাই তো জেসিকা পেগুলা স্বপ্নটা দেখছেন বড় কিছুর। তবে ইউএস ওপেনে তার শিরোপা জয়ের এ অভিযাত্রা মোটেই সহজ হবে না। কারণ শনিবারের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে পেগুলার প্রতিদ্বন্দ্বী আর কেউ নন, ফেভারিট আরিনা সাবালেনকা। কিন্তু একটি দিকে এগিয়ে থাকবেন মার্কিন তরুণী পেগুলা। কেননা, টুর্নামেন্টটা ঘরের কোর্টে। কন্ডিশন থেকে কোর্ট সবই যে তার নখদর্পণে। তারওপর নিউইয়র্কের আর্থার অ্যাশে স্টেডিয়ামে স্থানীয় দর্শকরা গলা ফাটাতে প্রস্তুত পেগুলার হয়ে। যেটা তার জন্য হবে বাড়তি পাওনা।
সেমিফাইনালে মার্কিন ধনকুবের টেরি পেগুলার মেয়ে ধরাশায়ী করেন ক্যারোলিনা মুচোভাকে। তবে প্রথম সেটটা ১-৬ গেমে হেরে পিছিয়েই পড়েছিলেন পেগুলা। প্রত্যাবর্তনের দুর্দান্ত গল্প লিখে পরের দুই সেট ৬-৪ ও ৬-২ গেমে জিতে নেন যুক্তরাষ্ট্রের এ কন্যা। শেষ চারের অন্য ম্যাচে সাবালেনকা জেতেন মার্কিন বিলিয়নিয়ার বেন নাভারোর কন্যা এমা নাভারোর বিপক্ষে। ম্যাচের প্রথম সেট খুব সহজেই নিজের করে নিয়েছিলেন সাবালেনকা। জিতেছিলেন ৬-৩ গেমে। দ্বিতীয় সেট জিততে বেগ পেতে হয়েছে। ঘাম ঝরিয়ে সেটটি টাই করেন ৭-৬ গেমে। শেষে টাইব্রেকারেও বেলারুশের এ সুন্দরী হাসেন ৭-২ ব্যবধানে জিতে।
গতবার বছরের শেষ মেজর টুর্নামেন্টের ফাইনালেও খেলেছিলেন সাবালেনকা। কিন্তু মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী কোকো গাউফের কাছে ট্রফি খুইয়ে রাজ্যের হতাশায় ডুবেছিলেন সাবালেনকা। এবার তার সামনে শিরোপা জয়ের সুবর্ণ সুযোগ। এবার ফাইনালেও তার সামনে আমেরিকান বাধা। তবে ২০১৯ সালের পর এই প্রথম ইউএস ওপেনের মেয়েদের এককের ফাইনালের টিকিট টানা দুবার পেলেন কোনো খেলোয়াড়। সর্বশেষ এই কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন আমেরিকার টেনিস কিংবদন্তি সেরেনা উইলিয়ামস। এবার তার সেই কীর্তি স্পর্শ করলেন দুবারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনজয়ী বেলারুশের সাবালেনকা।
ফাইনালে সাবালেনকার কোর্টের শত্রু শুধু পেগুলাই নন। স্থায়ী দর্শকও থাকবেন তার বিরুদ্ধে। তাই গ্যালারির চিৎকার-চেঁচামেচিকে পাত্তা না দিয়ে দ্বিতীয় বাছাই তারকাকে খেলে যেতে হবে স্বাভাবিক খেলা। পেগুলার জন্ম নিউইয়র্কে। আর খেলাটা হবে সেই নিউইয়র্কের ফ্লাশিং মিডোসে। তবে ফাইনালের মহারণের জন্য সাবালেনকা প্রস্তুত। শেষ চারে আমেরিকার নাভারোর বিরুদ্ধে খেলতে হয়েছে তাকে। সেই ম্যাচেও গ্যালারির উচ্ছ্বাস সামলে নিয়ে লিখেছেন সাফল্যের গল্প। সেমিফাইনাল ম্যাচ নিজের করে নিয়ে দর্শকদের খোঁচা দিতে ভোলেননি সাবালেঙ্কা। কারণ ম্যাচ শেষে ঘরের মেয়ের নাম ছেড়ে তার নামই জবছিল সবাই, ‘এখন আপনারা আমার জন্য চিৎকার করছেন, কিন্তু খুব দেরি করে ফেলেছেন। তবে ভালো লাগছে। এখন আপনাদের চিৎকারে আমার গায়ে কাঁটা দিচ্ছে।’
শেষ আটে পেগুলা হারিয়েছেন বিশ্বের নম্বর ওয়ান খেলোয়াড় ইগা শিয়াটেক। সেমিফাইনালে জেতেন মুচোভার বিরুদ্ধে। প্রথম সেটে হেরে পিছিয়ে পড়েছিলেন। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে পরের দুটি সেট জিতে ফাইনালে নাম লেখান পেগুলা। নিজের বিস্ময়কর প্রত্যাবর্তনের গল্পটা যেন বিশ্বাসই হচ্ছে না তার, ‘আমি জিতেছি ঠিকই তবে মুচোভা দুর্দান্ত খেলছিল। আমার খেলা দেখে মনে হচ্ছিল সবে খেলতে শিখেছি। লজ্জা লাগছিল। কান্না পেয়ে গিয়েছিল। সত্যি বলছি জানি না কীভাবে ঘুরে দাঁড়ালাম।’