নাজমুল হক তপন
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৮:২৫ পিএম
আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৮:৫৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের পেসাররা দশে দশ। এক ইনিংসে ১০ উইকেটের সবগুলোর শিকারি পেসাররা। টেস্ট ইতিহাসে এমন কীর্তি বাংলাদেশের পেসাররা গড়তে পারবে , এতটা বোধকরি কল্পনাতেও ছিল না। অভাবনীয় সেই কৃতিত্ব দেখিয়েছে টাইগার পেসাররা। চলতি রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে গতির ঝড় তুলে স্বাগতিক পাকিস্তানি ব্যাটারদের নাকের পানি চোখের পানি এক করে দিয়েছেন অভিজ্ঞ তাসকিন আহমেদ ও দুই তরুণ তুর্কী হাসান মাহমুদ ও নাহিদ রানা।
টাইগার স্পিডগানের কোন জবাবই জানা ছিল না স্বাগতিকদের। এই ত্রয়ীর আগুন ঝরানো বোলিংয়ে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয়েছে মাত্র ১৭২ রানে। জবাবে আলোক স্বল্পতার জন্য চতুর্থদিনের খেলা বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ কোন উইকেট না হারিয়ে ৪২ রান। ম্যাচ তথা সিরিজ জেতার জন্য আর মাত্র ১৪১ রান প্রয়োজন নাজমুল হোসেন শান্ত ব্রিগেডের। হাতে ১০ উইকেট।
গতির ঝড় তোলার আভাস আগের দিনই দিয়েছিলেন ২৪ বছর বয়সী ডানহাতী পেসার হাসান মাহমুদ। নতুন বল হাতে শুরুতেই জোড়া আঘাত হানেন এই স্পিড স্টার। মাত্র ৯ রানে দুই উইকেট খুইয়ে তৃতীয় দিন শেষ করে পাকিস্তান। রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) যেখানে শেষ করেছিলেন আজ সোমবার সেখান থেকেই শুরু করেন টাইগার স্পিড স্টাররা। ধারাভাষ্যকাররা বলছিলেন, বল খুব ভালভাবেই ব্যাটে আসছে। তবে বাংলাদেশের পেসাররা দুর্দান্ত।
ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৫ উইকেট নিয়েছেন হাসান। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে দেখালেন এমন কৃতিত্ব। এরজন্য হাসানের খরচ মোটে ৪৩ রান। নাহিদ তার টেস্ট ক্যারিয়ারে সেরা বোলিংয়ে শিকার করেছেন ৪ উইকেট। রান দিয়েছেন মাত্র ৪৪। বাকি ১ উইকেট নিয়েছেন তাসকিন।
সোমবার দিনের শুরুতে প্রথম ধাক্কা দেন তাসকিন। সাজঘরমুখো করেন সাইম আইয়ুবকে। এরপর শুরু হয় নাহিদ রানার কামানের গোলা। পরপর তিন ওভারে শিকারে পরিণত করেন শান মাসুদ, বাবর আজম ও সাউদ শাকিলকে। সপ্তম উইকেটে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগা। অথচ শূন্য হাতেই ফিরতে পারতেন রিজওয়ান। এসময় নাহিদের বলে প্রথম স্লিপে সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন সাদমান ইসলাম। তবে সেই ক্ষতি পুষিয়ে দেন টাইগার পেসাররা।
নাহিদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উইকেট শিকারে মেতে ওঠেন হাসান। আক্রমণে ফিরেই আঘাত হানেন পাকিস্তান শিবিরে। নতুন স্পেলের প্রথম ওভারেই শিকারে পরিণত করেন বিপজ্জনক হয়ে ওঠা মোহাম্মদ রিজওয়ানকে। জীবন ফিরে পাওয়া এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার আউট হন ৪৩ রানে। এ সময় অফ স্টাম্পের বাইরের বল ড্রাইভ করার চেষ্টায় কট বিহাইন্ড আউট হন রিজওয়ান। পরের বলেই তুলে নেন মোহাম্মদ আলীকে। মারেন গোল্ডেন ডাক। নাহিদ রানাই বা বসে থাকবেন কেন? থিতু হওয়ার আগেই বিদায়ঘণ্টা বাজান আবরার আহমেদের। মাত্র ২ রান করতে পারেন আবরার। ইনিংসের শেষ উইকেট শিকার করেন হাসান। ফিরিয়ে দেন মির হামজাকে। এ সময় স্লিপে ধরা পড়েন ব্যাটার। আম্পায়ার আউট দিলে রিভিউ নেন হামজা। রিপ্লেতে মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদলের কোন কারণ খুঁজে পাননি টিভি আম্পায়ার। বহাল থাকে আউটের সিদ্ধান্ত। ৫ উইকেট নেয়ার কৃতিত্বে ভাসেন হাসান মাহমুদ।
এক ইনিংসে দশে দশ মিশন শেষ করে বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন দিনের গল্পই যেন লিখলেন টাইগার স্পিড স্টাররা।